নামাজি! তোর নামাজ হলো?
বল রে মুনাফিক প্রাণ!
মসজিদ কাঁপে সিজদায় তোর,
কাঁপে না কেন নির্যাতিতের প্রাণ?
নামাজি! তোর নামাজ হলো?
বলে দে নির্ভীক কণ্ঠে আজ,
আল্লাহ্ কি তোর মুঠোয় বন্দী,
না কি শোষিতের রক্তেই তাঁর নামাজ?
তোর কপালে দাগ, বুক ভরা দম্ভ,
জিহ্বায় তসবিহ-হাতে ছুরি,
মোনাজাতে কান্না, বাজারে গিয়ে
মানুষ গিলিস, হে ধর্মচুরি!
আজান ডাকে—তুই দাঁড়াস ঠিকই,
কিন্তু সত্য ডাকে—তুই পালাস কেন?
মজলুমের হাহাকার তোর কাছে কি
শয়তানের ফিসফিসানি মনে হয় কেন?
নামাজি! তোর নামাজ হলো?—
বল রে বিবেকহীন মানব!
যে নামাজ ভাঙে না জুলুমের শিকল,
সে নামাজ শিরকে ডোবা পাপের দাবানল!
রুকুতে নত হস, জালিমের তলে,
সিজদায় পড়িস ক্ষমতার পায়ে,
আল্লাহ্ কি তবে প্রাসাদে থাকে?
না কি থাকে ক্ষুধার্ত শিশুর ছায়ায়?
তোর ইমান কি কেবল পোশাক-দাড়ি?
নাকি আগুনের মতো সত্যভাষ?
আল্লাহ ডাকছে—ভেঙে দে আজ
ধর্মের মুখোশ, পাপের আড়ালবাস!
শোন রে নামাজি! নামাজ মানে
বজ্র হয়ে দাঁড়ানো অন্যায়ের পথে,
নামাজ মানে আগুনের মতো
সত্য ছুড়ে মারা শোষকের মুখে!
যে ইবাদত মানুষ বানায় না,
সে ইবাদত ধ্বংস কর—
ভাঙ রে ভাঙ! ভাঙ রে আজ
মিথ্যে ধার্মিকতার কবর!
আমি নামাজ চাই—যেখানে
মানুষ হবে আল্লাহর আয়না,
আমি নামাজ চাই—যেখানে
রাসূলের মতো বিদ্রোহই ইমানা!
নামাজি! তোর নামাজ হবে—
যেদিন তুই ভয়কে হত্যা করবি আগে,
সেদিন সিজদা কাঁপাবে আকাশ,
আর আল্লাহ্ হেসে উঠবেন মজলুমের পাশে!
written by: তারেক হোসাইন জিন্নাহ
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *