পরদিন অন্তূর ডাক পড়ল প্রফেসর ইউসুফ সিরাজীর কক্ষে। কক্ষে প্রবেশের পথে পিয়ন থামালো, “দাড়ান আপনে। স্যার বিজি আছে। মিটিং চলতেছে ভিতরে।ʼʼ
কিন্তু প্রফেসর নিজেই ডেকে নিলেন অন্তূকে, “ভেতরে আসতে দাও ওকে।ʼʼ
ভেতরে প্রবেশ করে সে সালাম জানাল। ইউসুফ সিরাজী মাথা নাড়লেন, “এসো!ʼʼ
কক্ষের পরিবেশ শীতল, নিঃশব্দ। কয়েকজন শিক্ষক ও কিছু দূরে দু'জন সিনিয়র চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, মূর্তির মতো। বসে যে কেউ নেই, তা নয়। বসে যে লোকটি, সিরাজী সাহেবের টেবিলের সঙ্গে লাগোয়া একটি চেয়ারে—অন্তূর পদার্পন তাকে সামান্য উদ্দীপিত করেনি। দৃষ্টি অবধি কাঁপেনি। সে মনোযোগ সহকারে একটি কাজ করছে। বাঁ হাতের অনামিকা আঙুলির রূপোর আংটিখানা আঙুলের মাঝে ঘোরাচ্ছে। কিন্তু দৃষ্টি সেদিকে নেই। ঠান্ডা দৃষ্টি মেঝের ওপর। বলবান, লম্বা দেহে সাদা ধবধবে পাঞ্জাবী, যেটার অধিকাংশ ঢাকা পড়েছে গায়ে জড়ানো শালে। লোকটাকে অন্তূ চেনে। ছাত্র পরিষদের একতলা বিল্ডিংয়ের সামনে একগাদা ব্যানার লাগানো, সেসবে এই লোকটার ছবি রোজ ছাপা হয় তো! নাম হামজা পাটোয়ারী। অন্তূর কেমন অস্বস্তি হয়েছিল এ পর্যায়ে।
ইউসুফ সিরাজী জিজ্ঞেস করলেন, “গতকাল কী হয়েছিল?ʼʼ
অন্তূ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আমাকে র্যাগ দেয়া হয়েছিল, স্যার!ʼʼ
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *