Buy Now

Search

অবরুদ্ধ নিশীথ [পর্ব-০৭]

অবরুদ্ধ নিশীথ [পর্ব-০৭]

শীত ভালোই পড়ে গেল, হবু মেয়র সাহেব! কী বলেন!ʼʼ
মুস্তাকিনের পাশে কয়েকজন আইন কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে।
হামজা হাসল, “মেয়র সম্বোধন করে কি অপমান করতে চাইছেন, নাকি আগাম শুভেচ্ছাবার্তা জানাচ্ছেন, আসলেই বুঝতে চাপ পাচ্ছি!ʼʼ
মুস্তাকিন হাসল, “হাসিমুখে যখন বলেছি, শুভেচ্ছাবার্তাই ধরে নিন। রাস্তায় রাস্তায় পোস্টার সাঁটার কাজ শুরু হয়ে গেছে। শুভকামনা আপনার জন্য!ʼʼ
হাত মেলালো দুজনে। হামজা হাতটা ছাড়িয়ে বুকে রাখল হাসিমুখে।
মুস্তাকিন মহান বিনা কাজে শুভেচ্ছা জানাতে তো আর মাঝপথে বয়ে আসেনি!
-“হামজা সাহেব, দেখুন! লোকের মুখে যা রটে, তাই নাকি ঘটে। যদিও এসব কথার কথা। তবুও, লোকের এত জোরালো সন্দেহ কেন আপনাদের ওপর? এ ব্যাপারে আগেও কথা হয়েছে, তবুও বারবার আসলে বিষয়টা এসে এখানেই ঠেকে যাচ্ছে।ʼʼ
হামজা সোজা হয়ে দাঁড়াল, “দেখুন অফিসার! আপনি কতটা ঠিক বলছেন, বা একটু বাড়িয়ে জানি না। লোকের কতটা সন্দেহ আমাদের ওপর, তা আসলে মেপে দেখার সময় পাইনি ইলেকশনের ঝামেলায়। তবে ততটাও হবে না জানি, যতটা বোঝাতে চেষ্টা করছেন আপনি। লোক টুকটাক ভালোই বাসে আমাকে। রাজনৈতিক দলে যেহেতু আছি। প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নই! মূলত, যে জমিজমা সংক্রান্ত ব্যপার ওই পরিবারে ঘটেছিল, তার বিচার আমি আর জয় করেছিলাম। সর্বশেষে সময় দিয়েছিলাম কিছুদিন। মানুষ জমি সমস্যায় পড়ে বিক্রি করতেই পারে, ওরা আবার তা ফেরত নিতে চেয়েছিল, কিন্তু সময় পার হয়ে গেছিল, তবুও আমি আরও কিছুদিন সময় দিয়েছিলাম। এর মানে এটা কীভাবে হয় যে একটা ছোট্ট পনেরো বছর বয়সী মেয়ে, যে হয়ত আমার বোনের সমান! তাকে এমন নৃশংসভাবে..ʼʼ মাথা নাড়ল হামজা, “যুক্তিতে মেলে আসলে?ʼʼ
-“কিন্তু এখন একটা বড়ো কাজে হাত লাগিয়েছি, লোকের চোখে এমনিই পড়ে গেছি। যেমন বিপক্ষ দলগুলোর চোখে, তেমন সাধারণ মানুষ একটা ছুঁতো পেলে ছাড়ছে না। বোঝেন তো, রাজনৈতিক নেতাদের সাধারণ মানুষ কোনোকালেই ভালো চোখে দেখেনি। কারণ তাদের চাহিদা অপূর্ণ রয়ে যায় বহু।ʼʼ
মুস্তাকিন রোদ চশমাটা চোখে আটলো। দারুণ সুদর্শন একজন পুরুষের খেতাব পাওয়ার মতো সবই আছে তার মাঝে। হামজা কথার মাথ-প্যাচে দারুণ দক্ষ, এবং সুবিন্যস্ত কথার কৌশল। এতো কম সময়ে এত জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতি নিয়ে রাজনীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে!
মুস্তাকিন প্রশ্ন করল, “আপনি বিপক্ষ দল বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন, সেই বিষয়টা ক্লিয়ার করুন। এখানে আপনাদের এভাবে বেশিক্ষণ ধরে রাখা ঠিক হবে না, সাথে আমার নিজেরই গা জ্বলছে। দ্রুত কথা সেরে নিই।ʼʼ
হামজা বলল, “আমার চাচাশশুর। মানে সাবেক মেয়র সাহেব। এবার তাকে হারিয়েই আমাকে জিততে হবে। সে কোনোকালেই আমাকে ভালো চোখে দেখেনি, দেখছে না।ʼʼ
মুস্তাকিন প্রশ্ন করল, “তা কীসের ভিত্তিতে বলছেন?ʼʼ
হামজা হাসল, “সেদিন জয়কে ডেকেছিলেন তিনি নিজেই। এরপর হঠাৎ-ই জয়ের গাড়ির সামনে বিপদজনকভাবে একটা বোঝাই ট্রাক চলে এসে মেরে দিতে দিতে বাঁচিয়ে চলে গেছে। এটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করব? এসব আমাদের সাথে হতেই থাকে, তবে এটা কাকতালীয় ছিল না, অফিসার!ʼʼ
-“আপনাদের গন্তব্য এখন কোথায়?ʼʼ
-“মেয়র সাহেবের সাথেই দেখা করতে যাচ্ছি।ʼʼ
মুস্তাকিন হাসল, “সেদিনের ঘটতে যাওয়া এক্সিডেন্টের দায় মেয়র সাহেবকে দিয়েছেন নাকি? সেই হিসেব চুকাতে যাচ্ছেন?ʼʼ
হামজা হাসল নিঃশব্দে। তার তলোয়ারের মতো রাজকীয় অভিজাত গোফের সরু প্রান্ত পাক খেয়ে গেল হাসির দমকে। মুস্তাকিন আবার বলল, “আচ্ছা, পরে-টরে একবার কার্যালয়ে আসুন। এখানে এই রোদে গা পুড়িয়ে কথা জমছে না। অনেক তথ্যের প্রয়োজন। মানছি এখন ব্যস্ত আপনারা, তবে তবুও একটু আসুন সময় করে। চলি!ʼʼ
হাত মিলিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় জয়কে বলল মুস্তাকিন, “গিয়ে আবার মেয়র সাহেবকে খুন-টুন করে আসবেন না যেন!ʼʼ
জয় নিজস্ব ভঙ্গিমায় ঠোঁট একপেশে হাসি হাসল, “আমাদের আগে আপনিই দেখছি সিওর, সেদিনের কাজটা মেয়র করেছে!ʼʼ
খাঁড়া দুপুর। বাংলায় অগ্রহায়ন মাস পড়ে গেছে। ঠান্ডা-গরমের কাটাকাটি চলছে। জয় গাড়ি থেকে নামল পরে, হামজা বেরিয়ে গেছে ফোন কানে ধরে। সামনে দোতলা বাড়ি। কবীর জয়কে জিজ্ঞেস করল, “আমি কি যাব ভেতরে?ʼʼ
জয় ঘাঁড় ঘুরিয়ে তাকালো, “আমার বিয়ের বরযাত্রী হয়ে এসেছ, শালা! আমার সাথে গিয়ে আস্ত মুরগীর প্লেটের সামনে বসবি তাড়াহুড়ো করে?ʼʼ
হামজা ফোনে কথা সেড়ে এসে দাঁড়াল। জয় খ্যাকখ্যাক করে উঠল, “তোমার ফোন না ঘণ্টা? বালডা সারাদিন খালি বাজতেই থাকে!ʼʼ
ঝন্টু সাহেবের বাড়িতে আলাদা বৈঠকখানা নেই। চাচাশশুরের বাড়ি ছাড়াও মেয়রের বাড়িতে দুই ঘাঘুর যাতায়াত আগে-পরেই আছে। বসার রুমে বসেই রাজনৈতিক আলোচনা সারেন মেয়র কামরুজ্জামান ঝন্টু। এখন আর ওনার সাথে ওনার সহকারী নেই। ওরা এসেছেই ভর দুপুরে, অসময়ে।
বাজার করার লোক জানিয়ে গেল, “বসুন আপনেরা। বাবু আসতেছে।ʼʼ
জয় বলল, “যা পারেনা তা মারাতে হবে কেন? ভদ্র বাংলার পেছন মারছে।ʼʼ
হামজা শক্ত মুখে তাকিয়ে বলল, “তোর খাপছাড়া মুখে লাগাম দে, জয়। নয়ত একটা থাপ্পড় মারব, দুটো দাঁত পড়ে যাবে সামনের পাটি থেকে।ʼʼ
-“ব্যাপার না। তবে তাতে তোমার হাজারখানেক ভোট কমবে এবার।ʼʼ
-“তুই একাই হাজার ভোট মারবি?ʼʼ
-“আমার বাচ্চারা মারবে। এখন আবার জিজ্ঞেস করোনা, এতো ছোটো বয়সে এতোগুলা কেমনে জন্মাইছি। আসলে সবই ক্যাপাসিটির ব্যাপার!ʼʼ
-“বড় ভাই আমি তোর।ʼʼ
জয় অবাক হলো, “আঃ! জানতামই না! আগে বলেননি কেন, সাহেব! আপনি আমার ভাই, অথচ পরিচয়ই ছিলনা! এই সুখ আমি সইব কেমনে?ʼʼ
ঝন্টু সাহেব নিচে নামলেন। মেয়র সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, “কী খাবে তোমরা?ʼʼ
জয় ফোন থেকে চোখ না তুলে বলল, “চা-পানি খাওয়ার হলে দুপুরে আসতাম না, মেয়র কাকা। দুপুরের ভোজে কী কী আছে সেটা বলুন।ʼʼ
মেয়র সাহেব হাসলেন, “খারাপ নেই, পছন্দ হবে তোমাদের। খেলে তো ভালোই, এরকম আন্তরিকভাবে খেতে কয়জন চায়!ʼʼ
-“আলোচনার ক্লাইম্যাক্স ভালো হলে খেয়েই যাব। এখন চা-কফি মার্কা সস্তা খাবার রাখুন।ʼʼ
মেয়র বললেন, “হু, শুরু করো।ʼʼ
-“আপনি বসে যান। আমাদের পরিবার থেকে কেউ মেয়র পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছে এবার, জানেন তো।ʼʼ
মেয়র হেসে ফেললেন, “কেন, ভয় পাচ্ছ নাকি? আমি বিরোধী দলে থাকলে তোমাদের পরিবারে ভোট পড়বে না!ʼʼ
হামজা হাসল, “ভয়? ভয় নয়। আমার ছেলেরা আপনার সাথে হাঙ্গামা করবে, কাকা। আমি সুষ্ঠু নির্বাচন চাইছি, তাই আপনি বসে গেলে ঝামেলা থেকে বেঁচে গেলেন। প্রোফিট আপনার, এডভাইস আমার।ʼʼ
মেয়র বললেন, “রাজনীতিতে এতোগুলো বছর কাটিয়েছি, হাঙ্গামার সাথে পরিচিত না হয়েই? বেশিদিন বরং ঝামেলা না হলেই খুব মিস করি ঝয়-ঝামেলাকে। তো এভাবে কি সব প্রার্থীকে হাঙ্গামা থেকে রক্ষা করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুরোধ করে আসবে? তোমার মতো এমন শুভাকাঙ্ক্ষী বিরোধী কয়জনের কপালে জুটেছে রাজনৈতিক জীবনে?ʼʼ
-“অনুরোধ করছি?ʼʼ হাসল হামজা, “কাকা! আমি শুধু ছাত্রলীগ করে যে জনতা আর ফেম জুটিয়েছি, আপনি পাঁচ বছর মেয়র থেকে কেন, আরও দশ বছর সময় নিলেও তার একাংশ নিজের করতে পারবেন না।ʼʼ
-“আচ্ছা! ক্ষমতাধারী হয়ে গেছ তাহলে! তো সেই হিসেবে এখন তুমি ক্ষমতার জোরে প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন করতে চাও?ʼʼ
-“উহু! তাহলে সেই জিতকে জেতা বলা চলবে নাকি? আমি শুধু আপনাকে বসতে বলছি।ʼʼ
-“তুমি বললে আমি বসে গেলাম। ভয় পেয়েছি খুব তোমাকে, জামাই আব্বা!ʼʼ নাটকীয়তার সুরে বললেন মেয়র।
স্বাভাবিক স্বরে জবাব দিলো হামজা, “কিন্তু আমি তো আপনাকে ভয় পেয়ে বসতে বলিনি। ভালোভাবে বুঝেশুনে বসে পড়ুন। বুঝলে আপনি আপনা থেকেই বসে যাবেন অবশ্য!ʼʼ
-“কী বুঝব আমি?ʼʼ
-“কত কিছুই তো রয়ে গেছে বোঝার!ʼʼ
মেয়র সাহেব শান্ত স্বরে বললেন, “এমন কী বোঝার রয়েছে, যার জন্য নির্দিষ্ট করে শুধু আমাকেই বসে যেতে হবে? এবং সেটা তোমার বলাতে! আমাকে দূর্বল আর নিজেকে বেশি পাওয়ারফুল ভেবো না। ঝড় কিন্তু আগে পাওয়ার হাউজকেই ড্যামেজ করে, বাপ!ʼʼ হাসলেন মেয়র সাহেব কথাটা বলে।
হামজা হাসিমুখে বলল, “আপনি বসে না গেলে বিশাল তামাশা খাঁড়া হবে, কাকা! যেটা এমনিতেও আপনার নির্বাচন ডাউন করবে।ʼʼ
মেয়র সাহেব প্রত্যুত্তর করলেন, “তামাশা আমরা না করতে শিখেই রাজনীতিতে আটাশ বছর কাটাইনি, এটা ভুলে যাচ্ছ কেন, পাগল ছেলে! তুমি তো সেদিনের ছেলে! যাহোক, বলো কেন বসতে হবে আমাকে?ʼʼ
-“আমি চাইছি, তাই! এটুকুই যথেষ্ট। আপনি আমার প্রতিপক্ষ বলে বলছি— এমনটা ভাবাটা কেমন উদ্ভট হয়ে যাবে না? নির্বাচন কেমন হওয়া চাই জানেন! হাজার কয়েক প্রার্থীর ভিড়ে আমি জিতে বসে থাকব, এমন। ইনফেক্ট, আমি আপনাকে আর নির্বাচন করতে দেব না, ব্যাস! এজন্য আপনি বসে যাবেন। এর চেয়ে বড়ো কারণ দরকার নেই আর।ʼʼ
স্বাভাবিক ভাবে জানতে চাইলেন মেয়র সাহেব, “না চাওয়ার কারণ?ʼʼ
হামজা চুপচাপ কিছুক্ষণ মেঝের দিকে চেয়ে থেকে ঠোঁট কামড়াল। এরপর বলল, “এই যেমন সেদিন আপনি জয়কে ডাকলেন কথা বলার জন্য। এরপর নিজেই আবার বোঝাই করা ট্রাক পাঠালেন জয়ের গাড়ি পিষতে। এতে উদ্দেশ্যটা কী? আপনি ডেকে আপনিই কেন জয়কে মারবেন? এই প্রশ্ন উঠবে মার্ডারের পেছনে! আপনি সন্দেহের তালিকা থেকে মুক্ত হবেন, জয় টপকে যাবে। চ্যাহ! হাজার বছর পুরোনো টেকনিক। এজন্য আমি বলি, রাজনীতি তরুণ জনতাদের জন্য। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের এসব মারপ্যাচের জগৎ থেকে অবসর নেয়া উচিত। এরকম মুর্খ খেলায় মজতে আমি লজ্জা পেয়েছি, জানেন! আমার প্রতিপক্ষ এতো কাঁচা হলে কী করে চলবে?ʼʼ
মেয়র সাহেব শুধু চেয়ে রইলেন হামজার দিকে সূচাল চোখে। হামজা জিজ্ঞেস করল, “কেন মারতে চেয়েছেন জয়কে?ʼʼ
মেয়র সাহেব চাপা স্বরে বললেন, “জয় নিঃসন্দেহে ছাত্রনেতা হিসেবে খুব দায়িত্বশীল ভাইস প্রেসিডেন্ট। অথচ তলে তলে কুকীর্তির অভাব রাখে না সে। তা তো আর অজানা না আমার! তবুও কোনোদিন তোমার গিট্টু খুলতে যাইনি সোসাইটিতে, বাচ্চা মানুষ তুমি। দাপট করে বেড়াচ্ছ, বেড়াও। একাই ঝরে যাবে দিন গেলে। কিন্তু এবার জয় কী করল! একটা মেয়েকে খেয়েদেয়ে ভোগে পাঠিয়ে দিয়েছে! তা করেছে, তাতেও দোষ দিচ্ছি না, পুরুষ মানুষ করতেই পারে। কিন্তু আমার ডাক পড়ল দু'দিন পিবিআই ডিপার্টমেন্টে। বাড়িতে তল্লাশি চলল উল্টে-পাল্টে।ʼʼ এপর্যায়ে মেয়র সাহেব বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলেন, “আমার রেপুটেশন খেতে উঠেপড়ে লেগেছ দুই ভাই। আমি তোমাদের জান হজম না করে ছেড়ে দিই কী করে? এখন আবার এসেছ হুমকি দিয়ে লাঠি কেঁড়ে নিতে! বাচ্চাদের খেলাঘরের মতো বিবেচনাবোধ তোমার। তোমার নিজেকে কাঁচা খেলোয়ার মনে হয় না, হামজা?ʼʼ
আজও ঝন্টু সাহেবের যে চিন্তাধারা এবং শীতল দাপুটে আচরণ, তাতে হামজা খুব মজা পায় বরাবরই এই লোকের বিরুদ্ধে পলিটিক্যাল ট্রিক্স চালিয়ে। মনের মতো বিরোধী মনে হয় এনাকে। হামজা চুপ করে থাকল কিছুক্ষণ। পরে বলল, “জয় এসব করেছে, তা কোন ভিত্তিতে বলছেন আপনি?ʼʼ
মেয়র পান খাওয়া লালচে দাঁত বের করে ক্যাটক্যাটে হেসে উঠলেন “আবার ভিত্তি খুঁজছে, ছেলে! দেখো কাণ্ড!ʼʼ
হামজা জানালো, “জয় এসব করেনি।ʼʼ
-“তা নাহয় প্রসাশন জানে, আমি তুমি তো জানি জয় করেছে।ʼʼ
হামজা জোর দিয়ে বলল এবার, “প্রসাশন যা জানে, আপনার আমারও তা-ই জানার। কারণ, সত্যিটা তা-ই। দুনিয়ার সব অপরাধ তো আর জয় একা করতে পারে না! ওরও তো একটা ক্লান্তি আছে অপরাধ করে! কালুও করতে পারে কাজটা! রাজনের লোকেরা করতে পারে! দিনাজপুরে যে একটা শীর্ষসন্ত্রাস ত্রাসের সাম্রাজ্য গড়ে তাতে বাদশাহী করছে, তা ভুলে যাচ্ছেন আপনি, কাকা!ʼʼ
মেয়র সাহেব চেয়ে রইলেন কিছুক্ষণ হামজার দিকে। শান্ত শীতল, ধূর্ত নেতাকর্মী হামজা। কোনো কিছুতে বিচলিত হবার প্রবণতা দেখা যায়না তার চেহারায়। মেয়র সাহেব বললেন, “রাজন নাও করতে পারে। তুমিও করতে পারো! ব্যাটাছেলে মানুষ বলে কথা! তুমি ভিত্তি খুঁজছিলে না! ভিত্তি দেই তোমাকে। ধরো, যে ঘটনাটা ঘটেছে মেয়েটার সাথে, তা তোমরা করেছ কোনো কারণে, আর এখন তার দায় আমার ওপর চাপিয়ে আমাকে বদনাম করে ডাউন করতে চাইছ। দুটো নিশানা, একটা তীর! হতে পারে না কি এরকম? আমাকে বসিয়ে মেয়র হবে পাটোয়ারী পরিবারের কেউ। এটাই তো বলতে এসেছ। যখন দেখলে নির্বাচন খুব কাছে এসে গেছে, প্রতীক বের হয়ে গেছে। আমাকে জেলে পুরা হলো না, তীর লাগল না আমার গায়ে, তোমরা তিন বাপ-ব্যাটাই জন্মের ফাঁসা ফেঁসে গেছ, আর বাড়ি চলে এসেছে বাড়ির ছেলে দুটো!ʼʼ কথা শেষ করে সোফায় গা এলিয়ে বসলেন ঝন্টু সাহেব।
হামজা ডানে-বাঁয়ে ঘাঁড় ঘুরিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল, “বেশি বুঝছেন আপনি, কাকা! জয় কিছুই করেনি। আমি যা কামিয়েছে এই লাইনে, এবার চাইলে সংসদ নির্বাচন করলে সংসদের একটা সিট আমার ঘাঁড়ে পড়ে যেত নির্ভেজাল ভাবে। তবে এতো তাড়াতাড়ি লাফ দিয়ে কলা খাওয়ার নয় আমার। মোরঅভার, এবার নির্বাচন করছেন না আপনি, সোজা কথা। ধরে নিন এটা আপনার পাওনা শাস্তি অথবা আমার জোর, হতে পারে সেই জোরের জেরে শুধুই আমার ইচ্ছে। আপনার শাস্তি এই যে, প্রতীক বের হবার পরে আপনি নিজে গিয়ে নির্বাচন অফিসে নিজের নামটা কেটে আসবেন লাল কালিতে। ভোট কেন্দ্রে আপনার নাম এবং প্রতীকের কোনোরকম ব্যালট পেপার থাকবে না। আপনি যা করেছেন তা তো ভারী পড়বেই আপনার ওপর।ʼʼ
-“ও তুমি চিন্তা কোরো না, বাপ! আমি ভার বয়ে নেব।ʼʼ
জয় এতক্ষণে হেসে ফেলল, “একটু বেশিই ভার, কাকা! আপনার শক্তিতে নাও কুলাতে পারে! এই বয়সে ঘাঁড় বেঁকে গেলে মুশকিল, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গুড়ো হবার চান্সও আছে।ʼʼ
-“তাই নাকি?ʼʼ
জয় ফোনটা হাতের মধ্যেই ঘুরাতে ঘুরাতে বলল, “আপনার ইট-বালুর বিশাল ব্যবসা আছে না? কার নামে যেন চলে! আপনার বউ থুক্কু চাচির নামে, নাকি মেয়ে! ঝিরি এন্টারপ্রাইজ। ঝিরি কার নাম, কাকা?ʼʼ
মেয়র সাহেব ভ্রু কুঁচকালেন। জয় ফোনের স্ক্রিনটা ঘুরিয়ে ধরল। সেখানে দেখা যাচ্ছে– লণ্ডভণ্ড অবস্থায় সন্ধ্যার আকাশের নিচে গাড়ির ফ্রন্ট গ্লাস ভেদ করে খুব কাঁপাকাঁপির সাথে তোলা এক ভিডিও। কয়েক সেকেন্ড পর তার এঙ্গেল চলে গেল
গাড়ির ভেতর থেকে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পেছন দিকের দৃশ্যকে শ্যুট করা কোনো ভিডিও ফুটেজ। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে ট্রাকটা এতক্ষণে এইগাড়ির সামনে ছিল, তা গাড়িটাকে পাশ কাটিয়ে এখন পেছনে চলে গেছে। ট্রাকের পেছনে বেশ বড়ো করে রঙ দিয়ে লেখা 'ঝিরি এন্টারপ্রাইজʼ।
ভিডিওটা তৈরী হয়ে গেছিল জয়ের ফোনের ব্যাক ক্যামেরাতে, সেদিন যখন সে কবীরের ভেটকানো ছবি তুলতে ক্যামেরা অন করেছিল। ঝন্টু সাহেবের মুখভঙ্গিমা দেখে বোঝা গেল না, তিনি কী করবেন! খুব খাঁটি রাজনীতিবিদ, বহুবছরের চলাচল এই পথে তার।
দুজনে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে। পাশেরটাই হামজার শশুরবাড়ি। জয় খোঁচা মারল, “যাও শশুর বাড়ি, মধুর হাড়ি ভেঙে পেট ফুলিয়ে এসো। মানে আমি আবার গেলে প্রেগনেন্ট হয়ে পেট ফুলবে, তা বলছি না। গিলবে, গিলে পেট ফুলাবে। তোমাদেরই তো দিন, আমরা বাল সিঙ্গেল মানুষ। না আছে বউ, না শশুরবাড়ি!ʼʼ
হামজা কনুই দিয়ে গলা আকড়ে ধরল জয়ের। রাস্তার মাঝেই দুজনের কুস্তি বেধে গেল এক চোট। কবীর একটু দূরে দাঁড়িয়ে খালি হাসে। জয় একসময় নিজেকে ছাড়িয়ে হাঁপায়, “তোমার ওই পাণ্ডবের মতো হাত দিয়ে আমার গলা চাপলে, রুহু ব্যথায় না হোক, বিরক্তিতেই বেরিয়ে আসবে। এই গায়ে ডিও-মিও কিছু মারো না? ছেহ! কী গন্ধ! ভাবী কাছে আসে তো?ʼʼ
হামজা আবার তেড়ে গেল রাস্তার ওপরেই। জয় ঝেরে দৌড়, সাথে গালাগাল দিচ্ছে। একটু দূরে গিয়ে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে হাঁটুতে হাত রেখে দম ফেলে বলল, তুমি থানায় না কোথায় যাবে যাও, আমাকে এখন আর পাবে না। কবীর চলে আয়, আমরা আজ পিকনিক করব। রাতে ব্যাডমিন্টন ম্যাচ আছে আমার।ʼʼ
-“ভালো হ।ʼʼ
-“আলগা জ্ঞান দিতে আসবে না। কানে ব্যথা হয় আমার।ʼʼ

সকাল সাতটার বাস। আমজাদ সাহেব রাবেয়া এবং অন্তূর সিট খুঁজে ওদের বসিয়ে দিয়ে পাশের দোকান থেকে একটা পানির বোতল কিনতে নামলেন। অন্তূ আর রাবেয়া পাশাপাশি সিটে বসেছেন। আমজাদ সাহেবের সিটটা আলাদা। কিন্তু দেখা গেল সেখানে এক সিটে একটি মহিলার জায়গা। অন্তূ উঠে দাঁড়াল, “আব্বু, তুমি আম্মার পাশে বসো। আমি ওই আন্টির কাছে বসছি।ʼʼ
আমজাদ সাহেব একটু ভাবলেন, পরে গিয়ে বসলেন রাবেয়ার পাশে। অন্তূকে বললেন, অসুবিধা হলে ডাকতে।
অন্তিকের আসার ছিল আজ বাপের সাথে। এসেছে অন্তূ। জোয়ান চাচাতো ভাইয়েরা এসে নিজেদের বাপের পাশে দাঁড়াবে, আমজাদ সাহেবের সেই কপাল নেই। ছেলে বলছে, বউকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।
অন্তূর একটা বড়ো ভাই আছে, এ কথা স্বীকার করতেও বাঁধে তার আজকাল। সে জানেনা, অন্তিক কেন এমন হলো।
অন্তূকে নিতে চাইছিলেন না আমজাদ সাহেব। মেয়ে মানুষ শালিসে গিয়ে অত লোকের মাঝে দাঁড়াবে, লোকে ভালো চোখে দেখবে না ব্যাপারটা। অন্তূ দৃঢ় গলায় বলেছে, “আব্বু, আমি কোনোদিন যেন তোমার দূর্বলতা না হয়ে উঠি! আর তার কারণ যদি শুধু হয়–আমি মেয়ে। তবে আমার মেয়ে হওয়ার প্রতি আজ ধিক্কার। আমি যাব তোমার সঙ্গে। আর কিছু না হোক, তোমার সন্তান হিসেবে তোমার পাশে গিয়ে তোমার অবলম্বন হিসেবে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য। আর তোমার কাছে আমি এমন চিন্তা-ধারা আশা করিনা–সমাজ কী বলবে? সমাজকে এড়িয়ে, পায়ে পিষে, আগে পা বাড়াতে তোমার কাছেই শিখেছি। তুমিই বলো– সমাজের মুখ আছে বলবে, খারাপও বলবে, ভালো খুব কমই বলবে। এই সমাজকে তোয়াক্কা করা মূর্খতা এবং আত্মনির্ভরশীলতাহীন কাজ। এই সমাজ প্রতিবাদী চেতনাধারীদের নিকট চিরদিন পদদলিত। সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা কিছু করে মরেছে, তারাই কেবল অমর হয়ে রয়ে গেছে যুগে যুগে।ʼʼ
আমজাদ সাহেব স্নেহভরে তাকালেন মেয়ের দিকে। বাসের সিটের সাথে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে আছে। নেকাবের আড়ালে মুখটা দেখা যাচ্ছে না। অথচ চোখদুটো বুজে থাকার পরেও হালকা কুঁচকে আছে। তিনি গম্ভীর স্বভাবে মানুষ, সামনে ভালোবাসা দেখাতে অক্ষম, তাই হয়ত অন্তূ কোনোদিন বুঝতে পারবে না–বাবার কলিজার এক টুকরো মাংসপিণ্ডের নাম অন্তূ।
কুড়িগ্রাম পৌঁছাতে প্রায় বেলা খাঁড়া হলো। গ্রামের রাস্তাঘাট পেরিয়ে হেঁটে আসার সময় অন্তূর খুব ছোটোবেলার কথা মনে পড়ছিল। আব্বুর হাত ধরে অন্তিক আর সে আসতো দাদুর বাড়িতে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আব্বুকে পাশ কাটিয়ে ওর চুলের ঝুটিতে টান মেরে আবার অপরপাশে হাঁটা শুরু করতো। অন্তূ চিৎকার করলে অন্তিক আব্বুকে বলতো, “এই প্যাপুকে কোথা থেকে তুলে এনেছ আব্বু? খালি সারাদিন ম্যা ম্যা করে। কিছু হয়েছে ওর, কোনো সমস্যাই নেই, তবুও ক্যা ক্যা করে উঠছে। যেখান থেকে এনেছিলে, সেখানেই ফেলে দিয়ে আসবে। আমার এসব প্যাপু লাগবেনা। শুধু শুধু ভাগ বসাতে এসেছে।ʼʼ
অন্তূ আরও জোরে চেঁচাতে থাকলে অন্তিক হেসে লুটোলুটি খেতো রাস্তার মাঝে। সেসব দিন ফুরিয়েছে, কিন্ত ফুরোনোটা কি খুব জরুরী ছিল? সম্পর্কে যখন এতো মায়া, তবে সেই সম্পর্কের সমীকরণের মান ধ্রুব নয় কেন, জীবনের মোড়ে মোড়ে বদলে কেন যায়?
আজ অন্তূ একা একপাশে আব্বুর কাধে কাধ মিলিয়ে হাঁটছে, অপর পাশে অন্তিকের থাকার কথা ছিল। নেই! সেই রাস্তা আছে, আব্বু আছে, অন্তূ আছে, অন্তিক কেন বদলেছে?
অন্তূর মেজো ফুপুর বাড়ি দাদা বাড়ির পাশে। এই ফুপুকে দাদাভাই নাকি বেশি ভালোবাসতেন। এজন্য নিজের ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে কাছেই রেখেছিলেন। তার বাড়িতেই দুপুরে খাবার খেল তিনজন। বোনকে ডাকলেন আমজাদ সাহেব, “মাজেদা! তোর কী মনে হয়, ওই জায়গা আমার প্রাপ্য না? এটা আসলেই কোনো যুক্তি–যে আমি এখানে থাকিনা বলে জায়গা পাব না? জায়গা পরিস্কার না হলে ক্রেতা জায়গা কিনবে না, ঋণে ভরে আছি। লোকজন দুবেলা বাড়ি বয়ে আসছে। মেজো ভাই এতো মূর্খ আর স্বার্থপর হলো কবে?ʼʼ
মাজেদা দুঃখ প্রকাশ করলেন, “ছিল নাই বা কবে? আমি আর কী কইতাম, ভাই! আমার মেয়েডারে খোজার সাথে বিয়ে দিছে, পুকুরটায় মাছ চাষ করে খায়, আমার কোনো অধিকার নাই সেইখানে। আমি নিজে মরতেছি এই দুঃখে, তোরে আর কী কই!মেজো ভাইয়ের ধর্ম-ঈমান নাই!ʼʼ
অন্তূ শুনল। কিছু বলল না। তার মাথায় আব্বুর শুকনো, অস্থির মুখখানা চক্রাকারে আবর্তন করছে।
শালিস বসল আছরের নামাজের পর। সেখানে আফজাল সাহেব পুঁথি তুলে আনলেন সেই মোঘল আমলের। কবে আমজাদ এখান থেকে চলে গিয়েছিল, আর আসেনি, তার জমি চাষবাস করে সে ঠিকঠাক রেখেছেন, দিনাজপুরে জমি পেয়েছে, সেখানে থাকছে, আবার এখানে ভাগ নিতে আসবে কেন?
অন্তূ বেশিক্ষণ চুপ থাকতে পারল না অন্তূ রুখে দাঁড়াল। মাতব্বর মশাইকে বলল, “চাচাজান! আমার দুটো কথা আছে। এখন এটা বলবেন না, আমি ছোটো মানুষ, মেয়ে মানুষ। বড়ো এবং পুরুষ যখন সস্তা আলাপ জুড়েছে এখানে, তখন ছোটো এবং মেয়েলোককে তো দাঁড়াতেই হবে সঠিক কথা বলতে! ʼʼ
এরপর আর কেউ অবশ্য কিছু বললেন না। অথচ বিরূপ দৃষ্টি আটকে রইল কিছু কিছু ভাইরাস টাইপের মানুষগুলোর।
অন্তূ চাচাকে বলল, “আপনি খুব যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছেন, কাকা! আব্বু এখানে থাকেনা সুতরাং এখানকার জায়গা তার প্রাপ্য নয়। সেই সূত্রানুসারে, আপনিও দিনাজপুর থাকেন না। ওখানে আপনার যে পুকুর হিসেবে জায়গা পড়ে আছে, ওটা আপনার পাওনা নয়। উত্তম বিচার। এক কাজ করুন, আগামীকাল কোর্টে চলুন, আপনার ওই জায়গা আব্বুর নামে, এবং আব্বুর এই জায়গা আপনার নামে রেজিস্টার করার দুটো দলিলে দুজন সই করবেন। এবং তা স্বয়ং আমি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে করাবো। কোনো গড়মিল হবেনা, আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন। তো ওই কথাই রইল, কাকা! কাল কোর্টে আসুন!ʼʼ
সকলে একদম থ মেরে গেল। ক্ষেপে উঠে দাঁড়ালেন আফজাল সাহেব, “চড়ায়া দাঁত ফালায়া দিমু, বেয়াদ্দপ মেয়েলোক! তোর মতোন কুলাঙ্গার মাইয়া জন্ম দিয়া আবার এই পাড়ায় জমি নিতে আইছে তোর বাপ! একঘরে করতো এই সমাজ তো মতো মাইয়ারে এই পাড়ায়!ʼʼ
অন্তূ হেসে ফেলল, “জি জি! কেন নয়! এই পাড়ার এই সুবিচারের ভয়েই তো এই পাড়ায় আসিনা জীবনে! অতি উত্তম বিচার হয় এই এলাকাতে। আর এমন সুসমাজে আমার মতো মেয়ে থাকলে প্রতিক্ষণে তামাশা হবে। এজন্যই দূরে আছি, লেখাপড়া করছি, ভালোই চলছে। আজ আব্বুর বাপের ওয়ারিস সূত্রে পাওনা জায়গা বিনা নোটিশে আপনার হয়ে গেছে! এত চমৎকার বিচার যে এলাকায় হয়, সে এলাকার পা রাখার যোগ্যতা আমার নেই। সেই যোগ্যতা অর্জন করতে অনেক নিচে নামতে হবে, কাকা! অত নিচে আমি নামতে পারব না। এই বিচার দেখতে আসব এই পাড়ায়, সাহস আছে নাকি আমার!ʼʼ
অন্তূর মুখে নেকাবের আড়ালে শুধু গাঢ় চোখদুটো স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, সেই চোখে প্রতিবাদ, সেই চোখের তারায় তারায় সাম্যবাদ! আফজাল সাহেব অনেক রকমের বাহানা করলেন, এটা-ওটা তুলে নিজের কীর্তন গাইতে লাগলেন। কিন্তু কাটিয়ে দিলো অন্তূ।
এক বুড়ো মাতব্বর গোষ্ঠির লোক আমজাদ সাহেবকে বললেন, “ও আমজাদ মাইয়ারে উকিল বানাইলেও তো পারো গো! মাইয়া তো সোন্দর, ভালা কতা কইতে পারে দেখতিছি। মাইয়াডারে পড়াইও, বহুদূর যাইব হে।ʼʼ
আমজাদ সাহেব হাসলেন, “দোয়া করবেন, চাচা। সেই আশাই আছে।ʼʼ
শেষ অবধি মুখে মুখে একটা ফয়সালা এলো, আফজাল সাহেবের গোয়ালের যে অংশ আমজাদ সাহেবের জায়গায় চড়ে গিয়েছে, সেটুকু ভেঙে জায়গা বের করে দিতে হবে। এবং যেহেতু গোয়াল ইট-পাথরে গড়াও নয় ওই অংশ! সুতরাং যথাসম্ভব জলদি ভেঙে ঝামেলা মিটিয়ে দিতে হবে, যাতে আমজাদ সাহেব দ্রুত বিক্রি অথবা যা খুশি করতে পারেন।
অন্তূ সন্তুষ্ট হতে পারল না। মুখের এই কথা ঘুরে যেতে চোখের পলকও ঠিকমতো ফেলতে হবেনা। কোনো ডকুমেন্ট- স্ট্যাম্প পেপার ছাড়া এই কথাগুলো কত আনা সুষ্ঠুভাবে মানবে তার কাকা, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়ে গেল।

চলবে...
written by: তেজস্মিতা মুর্তজা

Olindo Rahman

Olindo Rahman

A good book is worth a hundred good friends. 
But a good friend is equal to a library.!! 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy