গবেষণায় বলা হয়, পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ উদ্ভিদ প্রজাতি আছে।
এগুলোর মধ্যে ভক্ষণযোগ্য উদ্ভিদ আছে ২০,০০০–৩০,০০০ রকম!
কিন্তু পুরো মডার্ন দুনিয়া চলছে মাত্র ৪/৫ রকম ফসলের ওপর!
গম, ভুট্টা, সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, ক্যানোলা, পাম, আখ!
এই কয়টাই আধুনিক মানুষ প্রতিদিন খায়, সারাজীবন খাবে!
সস্তার রিফাইন্ড অয়েল আর রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট!
স্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে নয়!
স্টোরেজ, ট্রান্সপোর্ট, প্রসেসিং সহজ বলেই এগুলোকে গ্লোবাল স্ট্যাপল বানানো হয়েছে!
রিফাইন্ড অয়েল মানেই অত্যন্ত বেশি পরিমাণে ওমেগা-৬ য়ে ভরা!
ওমেগা-৬ ওভারলোড!
মানে অতিরিক্ত ওমেগা-৬, আর অতি কম ওমেগা-৩!
ওমেগা-৬ এমন এক ধরনের ফ্যাট যা ডায়েটে অতিরিক্ত থাকলে আপনার শরীরে নীরব, দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে!
রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটও ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে!
জনগণের নিত্যদিনের খাদ্য এখন সাদা আটা, কর্ন ফ্লাওয়ার, রিফাইন্ড চিনি, কর্ন সিরাপের মতো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট!
এগুলো মেটাবলিক ইনফ্লামেশন তৈরি করে!
সস্তার রিফাইন্ড অয়েল আর রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট!
এসব খেলে শরীরে ননস্টপ লো-গ্রেড ইনফ্লামেশন চলতে থাকে!
খেলাটা শুরু হয় এখান থেকেই!
ইনফ্লামেশনের কারণে মানুষের নানা রকম ক্রনিক রোগ দেয়া দেয়!
এই রোগগুলো এরকম যে, আপনি হুট করে একদিনেই মরবেন না, বরং ধুঁকে ধুঁকে আস্তে ধীরে মরবেন!
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরচেয়েও ইন্টারেস্টিং— আপনি সারাজীবন অসুস্থ রয়ে বাঁচবেন!
ইনফ্লামেশন (প্রদাহ) শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
যখন শরীর আঘাত পায়, সংক্রমিত হয়, বা ক্ষতিকর কোনো উপাদান প্রবেশ করে, তখন ইমিউন সিস্টেম প্রদাহের মাধ্যমে সেই সমস্যা রিকভার করে।
ফলে ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর আসা, ব্যথা অনুভব হওয়া ইত্যাদি হতে থাকে। এই একিউট ইনফ্লামেশন আসলে ভালো। কারণ এটি শরীরের হিলিং প্রসেসেরই অংশ।
কিন্তু বিপদ হয় যখন এই প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়! ক্রনিক ইনফ্লামেশন য়ে পরিণত হয়!
অর্থাৎ, শরীরে যখন এটা প্রতিদিন, কম মাত্রায়, লুকিয়ে লুকিয়ে চলতে থাকে!
এই দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশন অনেক অনেক মারাত্মক রোগের মূল কারণ!
যেমন- হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, পারকিনসন রোগ, আর্থরাইটিস, ফ্যাটি লিভার, স্থূলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, বহু রকম ক্যান্সার, অটোইমিউন রোগ ইত্যাদি!
এটা আধুনিক মেডিক্যাল সায়েন্সেই সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য!
যেসব রোগ মানুষের জীবনভর থাকে সেসবের চিকিৎসা মূলত সিম্পটম ভিত্তিক।
এসব রোগ কখনো সম্পূর্ণ আরোগ্য না হয়ে আজীবন মানুষকে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল করে রাখে! এই রোগগুলোর ভিত্তি হলো ক্রনিক ইনফ্লামেশন!
এভাবেই আসলে খেলাটা চলে!
সস্তা ইনফ্লেমেটরি খাদ্য খেয়ে প্রদাহগ্রস্ত জনগণই হচ্ছে ফার্মার বিশাল বাজার!
জনগণ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে, কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের এই যুগে ফুড সিস্টেম শুধুমাত্র এমনসব খাদ্যই তাদের খাওয়াচ্ছে যার থেকে ফার্মা সিস্টেম প্রতিদিন লাভবান হয়!
ফুড সস্তায় ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহ-সৃষ্টিকারী) খাদ্য বাজারে ছাড়ে, সস্তা পেয়ে মানুষ বস্তা ভরে, এই খাদ্য ক্রনিক রোগ বাড়ায়! রোগ বাড়লে ফার্মা লাভবান হয়!
ফুড সিস্টেম ও ফার্মা সিস্টেম আলাদা মনে হলেও বাস্তবে তারা হাতে হাত ধরে চলে!
মানুষের স্বাস্থ্য এই সিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দু নয়। আপাতদৃষ্টিতে এটা হলো ব্যবসার মডেল। আরো গভীরভাবে বুঝলে এটা হলো কন্ট্রোলের মডেল!
এটা কোনো কন্সপাইরেসি থিওরি না, এটাই ফ্যাক্ট!
এত এত ফসল থাকতে দুনিয়া মাত্র কয়েকটায় কেন আটকে আছে?
গ্লোবাল বাণিজ্য ও ম্যাসিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিংয়ের উপযোগী না হলে ফুড কখনোই শুধু স্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে কোনো ফসল উৎপাদন করে না।
গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ক্যানোলা, আখ এগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনের পারফেক্ট কাঁচামাল!
যা দিয়ে সস্তা তেল, সস্তা সিরাপ, সস্তা অ্যাডিটিভ, প্যাকেটজাত খাবার, প্রসেসড ফুড ইত্যাদি তৈরি করা যায়!
বেশিরভাগ মানুষ এই সিস্টেমকেই মেনে নিয়েছে। তারা সস্তার খাবারই খাবে এবং ব্রয়লার মুর্গির মত ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটাবে!
কিন্তু যারা সচেতন মানুষ, তাদের খুঁজতে হবে ফুড সিস্টেমের বাইরে থাকা ফসলগুলোকে। যেগুলো উৎপাদনও সহজ, আবার মানুষের জন্য সত্যিকারের পুষ্টিকর!
মিলেটস, সরঘাম, বার্লি, বাকহুইট, ছোলা, মিষ্টি আলু এ সবই ঐতিহাসিকভাবে সুপারফুড ছিল! এগুলো হাজার হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতাকে শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করেছে।
কিন্তু এগুলো বিশ্বের প্রধান ফসল হয়ে উঠতে পারছে না কেন?
কারণ এগুলো প্রসেসিং, রিফাইনিং ও রপ্তানি বাণিজ্য এবং প্রদাহগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রিলিয়ন ডলারের ফুড-ফার্মা সিস্টেমকে সাপোর্ট করবে না!
এই ফসলগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিংয়ের উপযোগী না। তাই গ্লোবাল সিস্টেম এগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি।
অনেক পুষ্টিকর ফসল আজ অবহেলায় পড়ে রয়েছে—
- উচ্চ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ক্যামেলিনা
- খরা সহনশীল মিলেটস
- সরঘাম
- বার্লি
- বাকহুইট
- উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খেসারি, কলাই
- ছোলা
- মিষ্টি আলু
- বিভিন্ন মূলজাতীয় ফসল
এগুলো মাটি, পশুপাখি, মানুষ সবকিছুকেই স্বাস্থ্যবান করে।
এগুলোর সবই আধুনিক চাষাবাদ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রচুর পরিমাণ ফলানো যায়।
বর্তমান যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, কৃষি জ্ঞান এসব দিয়েই আমরা পৃথিবীতে দ্বিগুণ বেশি খাদ্য উৎপাদন করতে পারি। যেই খাদ্য রোগ বানায় না, বরং আরোগ্য করে। যা হবে পুষ্টি ও শক্তিতে ভরপুর।
এজন্য শুধু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া লাগবে!
আজ হোক বা কাল এই পরিবর্তনের মধ্যে আমাদেরকে আসতেই হবে!
Credit: ক্যাপ্টেন গ্রিন
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *