পাঠ প্রতিক্রিয়া
বিশ্বাস!!?? নাকি ধোঁকা!!??
➥❝ভালোবাসা❞ এবং ❝বিশ্বাস❞ শব্দ দুইটি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে থাকে একটি সাংসারিক জীবনে। ধরুন, আপনি আপনার সহধর্মীকে খুব ভালোবাসেন এবং বিশ্বাসের চাইতে বেশি অন্ধ বিশ্বাস করেন। কিন্তু, সে যদি আপনার এই বিশ্বাসের মর্যাদা ধরে রাখতে না পারে, আপনি তার প্রতি ঠিক কতটুকু কঠিন হবেন? কিংবা কতবার সংশোধনের সুযোগ দেবেন
সাধারণ জীবনযাপন, দুই দম্পতি, বিয়ের পরও চলমান প্রেম, প্রেমের বশবর্তী হয়ে সীমা অতিক্রম করা, নিচু মানসিকতা ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলা, প্র'তি'শো'ধ এবং শ্রীমঙ্গলের অপরূপ প্রকৃতিতে চলমান এক শ্বাসরুদ্ধকর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘দ্য গেইম’
-----------------------------
➥সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের এই সম্পূর্ণ বই জুড়ে একেকটি চরিত্রের মধ্যে চলতে থাকে গোপনীয় খেলা। খেলা একেক সময় ঘুরতে ঘুরতে একেক চরিত্রের নিকট ধরা দিতে দেখা যায়। বইটি পড়তে পড়তে বোঝা যায় যে প্রতিটি চরিত্রের মাঝেই কোনো না কোনো রহস্য ঘিরে রয়েছে। সেই সূত্রপাত থেকেই বইটির নামকরণ করা হয়েছে ‘দ্য গেইম’।
----------------------------------
➥বইয়ের পুরো ঘটনা জুড়ে বিরাজ করা দুই দম্পতি, ফারাহ-আতাউর এবং শিউলি-রায়হান। স্বামী আতাউর, ফারাহর অগোচরে পর'কীয়া করে বেড়াচ্ছিল শিউলির সঙ্গে, তবুও সে নির্বিকার। আতাউর কখনোই ভাবতে পারেনি যে তার স্ত্রী ফারাহ তাদের এই গোপন সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরে গিয়েছিল অনেক আগেই, তবুও ফারাহ চুপচাপ। চেষ্টা করে যাচ্ছিল তার স্বামীকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার। কিন্তু সুযোগ গ্রহণ না করেই বরং নির্বিকার চিত্তে আতাউর শিউলির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য ফারাহকে নিয়ে চলে গিয়েছিল শ্রীমঙ্গলে।
➥আতাউর ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে ফারাহকে নিয়ে চলে আসে চায়ের শহর—শ্রীমঙ্গলে। ফারাহ জানতো এটি একটি অযুহাত, তবুও সে প্রশ্রয় দিচ্ছিল তার স্বামীকে সুযোগ গ্রহণ করবে, শুধরে যাবে—এই আশায়। কাছাকাছি অবস্থান শুরু করে আতাউর-ফারাহ এবং রায়হান-শিউলি নামক দুই দম্পতি।
➥শ্রীমঙ্গলের এই সবুজ প্রকৃতির খেলায় কে হতে চলেছে শিকার? আর কে হতে চলেছে শিকারী?
এক সময় শ্রীমঙ্গলের এক নির্জন জায়গার পুলের সামনে পাওয়া যায় আতাউরের লা/শ। এরপর তার খু'নে'র দায়ে গ্রেফ'তার করা হয় প্রেমিকা শিউলিকে। তবে খু/নি কে? শিউলির যাবজ্জীবন কারা'দণ্ডের রায়ের পর বাথটাবে পাওয়া গেল মা'তা'ল হয়ে থাকা রায়হানের ডু'ব'ন্ত দে/হ। তবে রায়হানকে-ই বা মা'র'ল কে? নাকি তার মৃ/ত্যু স্রেফ দু'র্ঘ'ট'না'জ'নি'ত ছিল? আতাউরের পর আবীর কি হতে চলেছে ফারাহর শিকার? নাকি আবীর হয়ে উঠবে শিকারী?
-----------------------
─❍─ ফারাহ: বইয়ের শুরুতে ফারাহ নামক চরিত্রটিকে উপস্থাপন করা হয় এক সহজ-সরল স্ত্রী হিসেবে। ফারাহ স্বামীভক্ত এক স্ত্রী, যে তার স্বামীকে অন্ধবিশ্বাস করতো ও অনেক ভালোবাসতো। বইয়ের পাতা এগোনোর সাথে সাথে এই সহজ-সরল চরিত্রটির পালাবদল ঘটতে থাকে। তীব্র থেকে তীব্রভাবে ফারাহ চরিত্রকে রহস্যময় করে তোলা হয়। একসময় ফারাহকে দিয়েই বইটির মূল চরিত্রায়ণ করা হয়।
─❍─ আতাউর: আতাউর পেশায় শিক্ষক। ঢাকার নামকরা কলেজের অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গলের একটি কলেজেও তাকে শিক্ষকতা করতে দেখা যায়। তিনি শিক্ষক হিসেবে সৎ, সুদর্শন হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন মূলত নিখুঁত মিথ্যা'বাদী ও অভিনয়কারী। সংসার জীবনে স্ত্রীকে ঠ'কিয়ে নিজের তৃপ্তি মিটাতে পর'কীয়া'য় লিপ্ত হয়ে মনুষ্যত্ব বিসর্জন দেওয়া একটি চরিত্র আতাউর। একজন মানুষ কতোটা বাজে স্বভাবের হলে বিবাহের পরও পর'কীয়া'য় লিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শহর ছেড়ে প্রেমিকার কাছাকাছি আসার কৌশল চালতে পারে, তার প্রতীকী চরিত্র ছিল আতাউর।
─❍─ শিউলি: ঢাকায় বসবাস করা এক বিবাহিত নারী, যে কিনা বিবাহের পরও আরেক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে পর'কীয়া'য় লিপ্ত ছিল। একসময় সে হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বামীর সঙ্গে জায়গা বদল করে দূরে অবস্থান করে। কিন্তু অভ্যাসবশত প্রেমিক নিকট অবস্থানে চলে গেলে আবারো তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়।
─❍─ রায়হান: শিউলির স্বামী, যাকে বইটির দুই-তৃতীয়াংশে একজন সৎ, সাধারণ, সাদামাটা চরিত্রে দেখানো হয়। কিন্তু গল্পের এক পর্যায়ে এসে রায়হানকে খানিকটা ফারাহ চরিত্রের সমতুল্য করে তোলা হয়। পাশাপাশি শেষের অংশে রায়হানকে একজন দুর্বলচিত্তের, লো'ভী ও ব্ল্যা'ক'মে'ই'ল'কা'রী চরিত্রে দেখতে পাওয়া যায়।
─❍─ আবীর: আতাউরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। যে কিনা আতাউরের সবচেয়ে গোপন দুইটি বিষয় সম্পর্কে জানতো। বইয়ের শেষ অংশে আবীরকে ফারাহর সঙ্গে দেখা যায়।
-----------------------------
➥সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে ‘দ্য গেইম’ বইটি বেশ রোমাঞ্চকর লেগেছে। ফারাহ আর রায়হান চরিত্র দুইটির ধীরে ধীরে রহস্যময় হয়ে ওঠার ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করেছি। আতাউর ও শিউলির পর'কীয়া'র ব্যাপারে একটু অস্বস্তি লাগলেও গল্পের ধারা এগিয়ে তাদের শা'স্তি প্রদান করা হয়েছে, দেখে সন্তুষ্ট। উভয় দম্পতির কারোরই ডি'ভো'র্স না হয় মোক্ষম শাস্তি প্রদানের দিকটা বইটিতে অন্য এক মাত্রার সংযোগ ঘটিয়েছে। পুরো ঘটনায় ফারাহর ধৈর্য্য ধরে স্বামী আতাউর ও শিউলির প্রেম সম্পর্কে জেনেও চুপচাপ থাকা ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়টি পাঠকমনে বেশ উত্তে'জনার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করি।
➥বিশেষ করে ফারাহ পুরো বইটিতে একচ্ছত্র একটি চরিত্রের অধিকারী ছিল। একটি মেয়ের পক্ষে একা দুইজন পুরুষকে জ'খ'ম করার বিষয়টি আমাকে বেশ ভাবিয়েছে। নিঃসন্দেহে বইটিতে ফারাহ চরিত্রটিকে বেশ বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছে। বইয়ের সমাপ্তিটা খানিকটা সং'কোচ ও দ্বি'ধার মধ্যে ফেলে রেখেছে। ফারাহ তার বিচক্ষণ বুদ্ধির মাধ্যমে আবীরের ফাঁ/দ থেকে বাঁচতে পারবে? নাকি আবীর হয়ে উঠবে শিকারী? এই বিষয়গুলো স্পষ্ট জানার জন্য লেখকের এই বইয়ের সিক্যুয়ালের প্রতি আশাবাদী।
------------------------------
➥বইটির ঘটনাপ্রবাহ শুরু থেকে শেষ অব্দি একই মাত্রায় ছিল না। তবে হুট করে ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত এবং ধীর হওয়ার দিকটা কিছুটা অ'স্ব'স্তি'ক'র। পাশাপাশি বইটির শুরুর দিকে ফারাহ ও আতাউর গল্পকথক হিসেবে কিছু লাইন বেশ কয়েকবার রিপিট করেছে—এই দিকটা আমার কাছে খানিকটা বি'র'ক্তি'ক'র লেগেছে।
আতাউরের শিউলিকে চাই-চাই, ফারাহ জানে তার স্বামী পর'কীয়া'য় জড়িত, দুজনের একে-অপরের প্রতি ধারণা—ইত্যাদি লাইনগুলো গল্পের শুরুতে বেশ কয়েকবার ব্যবহার করা হয়েছে।
➥তাছাড়া বইটির ১৬১ পৃষ্ঠায় একটু সামান্য ভুল পেয়েছি, যার ছবি নিচে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। লেখকের লেখার মান ও বইটির প্লট টুইস্ট খুবই অসাধারণ লেগেছে এককথায়। এটিই ছিল আমার লেখকের পড়া প্রথম বই। বইয়ের চরিত্রগুলোর দ্রুত পালাবদল আর পরি'ণ'তির বিষয়ে লেখক তার অসাধারণ লেখনীর পরিচয় ঘটিয়েছেন…
review: সুমাইয়া ইসলাম
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *