ভ্রম ভ্রম এবং ভ্রমমমমমমমমম!
সাইকোলজির মতে মানুষ কল্পনার মানুষকে বাস্তবে অনুভব করে যখন তার মস্তিষ্ক আবেগ, সংযোগ বা মানসিক চাপ থেকে বের হতে চায় এবং সেই শূন্যতা পূরণে কল্পনাকে বাস্তবের দিকে টেনে আনে।এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যখন কেউ খুব বেশি একা থাকে বা কারও সান্নিধ্য/ভালোবাসার জন্য তীব্রভাবে আকাঙ্ক্ষা করে, তখন মস্তিষ্ক কখনও কখনও একটি কল্পিত চরিত্র বা উপস্থিতি তৈরি করতে পারে যা মস্তিষ্কের আবেগ পূরণের একটা অচেতন প্রক্রিয়া।
মাশনূহা মেহনূর মা কে হারিয়ে বাবাকে ঘিরে যার দুনিয়া। যার বয়সের সংখ্যা গুনে গুনে বাড়লেও বাইরের জগত চেনার সংখ্যা খুবই নগণ্য। সেই মাশনূরের জীবনে উড়ে আসা পাতার মতো হঠাৎ আগমন ঘটে 'অরিত্রের'। উড়ে আসা পাতা যেমন হুট করে হাওয়ায় সাথে আগমন ঘটে আবার হাওয়ায় সাথে মিলিয়ে যায় অরিত্র ঠিক তেমনি। রনে বনে জনে জঙ্গলে যেখানেই মানশূর বিপদে পড়ুক তাকে বাঁচানোর জন্য একটা হাত সর্বদা প্রস্তুত সে 'অরিত্র'। এটা কি ডেস্টিনি, কোইনসিডেন্স নাকি অন্য কিছু?
৮পর্বের ছোট্ট গল্প। পর্ব সংখ্যা যেমন ছোট তেমনি পর্বের পরিসরও ছোট। শুরুতে মাশনূরের আচরণে কোনো কিছু না জানা এসবে একটু বিরক্ত হয়েছিলাম। ছোট থেকে হয়তো তার বেড়ে ওঠা সবকিছু অন্য বাচ্চাদের মতো ছিল না তবে জীবনে চলতে ফিরতে বেসিক জিনিসগুলো জানার কথাই। যাইহোক বিরক্তিকর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সময় পায়নি, তার আগেই গল্পের মোড় ঘুরে গেছে। 'অরিত্র' যার নামের অর্থই উদ্ধারকারী। লেখিকা কি এজন্যই মাশনূহার উদ্ধারকারীর নাম অরিত্র রেখেছে? এই চরিত্রের উপর কৌতুহল ক্রমেই বাড়ছিল। সেই সাথে মাশনূহা চারিত্রিক পরিবর্তনে গল্পটা উপভোগ্য হয়ে উঠছিল।
সরলরেখায় চলা পুরো গল্পের কোথাও যেনো আমি আঁকা বাঁকা খাঁজ অনুভব করছিলাম। হিসেবের সমীকরণ কোথায় যেনো মিলেও মিলছেনা। অরিত্র কে? কেনোই বা সবজায়গাতেই সে! সবকিছু এতো সহজ কীভাবে সম্ভব? কিংবা তার ব্যবহার আমার মনে খটকা রেখে গেছে পুরোটা সময়। এই খটকা থেকে মেইন টুইস্টটা আমার উপলব্ধি করলাম শেষ পর্বের আগের পর্ব শুরু করার প্রথমে। এন্ড গেস হোয়াট! পর্বের শেষে পড়তে গিয়ে দেখি আমার ভাবনাটাই ঠিক। এই প্রথম নিজের ভাবনা সত্যি হওয়ায় আনন্দের বদলে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। তবুও কোথাও গিয়ে আমি আটকে রইলাম একটা অ্যাপার্টমেন্ট, কালো গাড়ি আর সকালে কফি, লাঞ্চ অফিসে, রাতের মিল স্কিপ; ইচ্ছে করলে মিডনাইটেও এভেলেবল রেস্তোরাঁ আছে, যারা হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকে; এই রুটিনে।
জীবন মানুষকে কতটুকু দেয় আর না দেয় সে হিসাব করা অনর্থক। জীবনের মূল রহস্য ভালো থাকা। অরিত্র কি আজও আসে বিপদ থেকে বাঁচাতে?
'বোকা সে-নো-রি-তা এখানে কালো গাড়িতে করে শুধু ভ্রম আসে ভ্রমমম! লাইক দ্য পেইন লাভস ইউ!
গল্প: বিরহ বনে বৈরাগী
লেখিকা: নবনীতা শেখ
রিভিউ: জান্নাতুল ফেরদৌসী রুনা
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *