Buy Now

Search

শুক্লপক্ষের পরিশেষে [পর্ব-১৩]

শুক্লপক্ষের পরিশেষে [পর্ব-১৩]

রিকশা কিছুটা এগিয়ে যেতেই এক ফোটা দু-ফোটা করে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝরতে লাগল। প্রিয় রিকশাওয়ালাকে একটা ছাউনি দেখে সাইডে দাঁড়াতে বলল। তারপর ভাড়াটাও দিয়ে দিলো। এক পা দু-পা করে বাস স্টপেজের ছাউনিতে গিয়ে বসে পড়ল। বৃষ্টির তেজ বাড়তে লাগল। সেই সাথে বেড়িয়ে আসতে লাগল এতক্ষণ বুকের ভেতরে চেপে রাখা সব যন্ত্রণা। প্রিয় আদতে এত শক্ত মেয়ে নয়, যতটা সে খানিকক্ষণ আগে দেখিয়েছে। তার প্রতিটা কথা বলার সাথে সাথে চেপে রাখা কান্না বের হতে চাইত। সে কতটা কষ্টে যে নিজেকে কঠিন বানিয়ে রেখেছিল, সে জানে না।
প্রিয় আকাশপানে তাকায়। ভার্সিটির উদ্দেশ্যে এলেও, যাওয়া হয়নি। হবেও না আজ, দেহে আর শক্তি নেই। মানসিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রিয় খেয়াল করে, আকাশটা অন্ধকার হয়ে এসেছিল খুব। আশে-পাশের কিচ্ছুটি দেখা যাচ্ছিল না। বৃষ্টির সাথে সাথে আস্তে-ধীরে গুমোট বাঁধা মেঘগুলো আকাশকে বিদায় জানাচ্ছিল। পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা আঁধারিয়া পূর্বে বিলীন হতে লাগল ক্রমশ। প্রিয় অবাক হয়ে আকাশকে পরিচ্ছন্ন হয়ে যেতে দেখতে লাগল। অঝোরে বৃষ্টি বইছে। এখন সব কী পরিষ্কার, ঝকঝকে!
ছোটোবেলায় তার আব্বু তাকে একটা কথা বলেছিল। খুব বেশি ছোটো ছিল না অবশ্য, বয়স তখন ৮-১০ ওর মতো। তবুও প্রিয়র স্পষ্ট মনে আছে। নাসিরুদ্দিন সাহেব চমকপ্রদভাবে হেসে প্রিয়কে বলেছিলেন, “প্রকৃতির সাথে জীবনের দারুণ যোগসূত্র আছে। যখনই জীবনের কোনো দ্বিধায় তুমি কূল হারাও, তখন প্রকৃতিতে দৃষ্টি দাও। সলিউশন পাবে। পেতে বাধ্য।”
প্রিয় সে কথা ভোলেনি, কখনও ভুলবে না।
সে হুট করে ছাউনি থেকে বেরিয়ে এলো। নরম পায়ে ফুটপাথ বেয়ে এগোতে লাগল। বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা গায়ে লাগতেই সে শিউরে উঠছে। অসম্ভব ঠান্ডা জল। মন-প্রাণ সব জুড়িয়ে যেতে লাগল। বুকের ব্যথাটাও কমছে, কাঁপনও স্থির হচ্ছে। তার ভালো লাগছে। মুখটা আকাশপানে রাখল। বৃষ্টি এখন তার কপাল, চোখ, গাল, ঠোঁট, গলা—সব কী আবেদনময়ী ভঙ্গিতে ছুঁয়ে যেতে লাগল!
চোখ দুটো বন্ধ করল সে। কার্নিশ বেয়ে ফোটা ফোটা জল বারিধারার সাথে মিশে গেল ধরনীতলে। সে বুঝতে পারল, পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর। মরে যাওয়ার মতো কিছুই হয়নি। কিচ্ছু না। ওরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য কত কী করে! সেখানে প্রিয় এই সামান্যতে কী করে নিজের মৃত্যু কামনা করছে? নাহ! আর করবে না। সে বাঁচবে। সে সুন্দর করে বাঁচবে। যেই ছেলেটা তাকে ভালোবাসা শেখাল, যন্ত্রণা চেনাল, সেই ছেলেটার জন্য মন থেকে দোয়া রইল। প্রিয় বৃষ্টি গায়ে মেখে দোয়া করতে লাগল,
-“জেদি ছেলে শ্রেয়ান, তোমার জন্য ভালোবাসা ছিল, আছে.. কিন্তু ভবিষ্যতে থাকবে না। ভবিষ্যতে তোমার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন প্রিয়শ্রীর মনে তোমার জন্য কোনো অনুভূতিই থাকবে না। তবে দোয়া থাকবে। খুব খুব দোয়া থাকবে। তুমিও একদিন ভালোবাসা শিখবে। আমার প্রতি হোক কিংবা অন্য কারো প্রতি, তীব্রভাবে ভালোবাসাটা তুমিও একদিন টের পাবে। আশফিক রহমান শ্রেয়ান, তুমিও একদিন একজনকে ভীষণ রকমের ভালোবাসবে। ভালোবাসা শিখলে যন্ত্রণা চিনতেই হয়, এক্ষেত্রে আমার দোয়ায় আমি তোমার ভালো থাকাটা রাখতে পারব না।”
প্রিয়র কান্না বৃষ্টির সাথে ধুয়ে গেলেও, হুট করে ঠোঁট, গাল বেয়ে চোখ ছুঁয়ে যাওয়া হাসিটা মুছল না; এটা বোধহয় থেকে যাবে শেষ অবধি..
______
প্রিয়র সাথে শ্রেয়ানের এরপর দেখা হলো আবার পরের সপ্তাহে। শ্রেয়ান রোজ তার ভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রিয় ইচ্ছা করে এড়িয়ে যায়। আর প্রতিবারই গাড়িতে ওঠার পর লুকিং গ্লাসে শ্রেয়ানের হতাশ দৃষ্টি দেখতে পায়। প্রিয় তখন কিছুই দেখেনি ভঙ্গিমায় দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। একটা কথা আছে। মায়া বাড়িয়ে লাভ না হলে মায়া কাটাতে জানতে হয়।
তবে প্রিয় আজ আর এড়িয়ে গেল না। সোজা শ্রেয়ানের দিকে এগিয়ে এলো। শ্রেয়ান যেন চাঁদ হাতে পেল। কিছু বলতে উদ্যত হওয়ার আগেই প্রিয় হাসি ঠোঁটের কোণে সাজিয়ে বলল,
-“ভালো আছ?”
শ্রেয়ান আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। প্রিয়কে সম্পূর্ণভাবে অবলোকন করে নিয়ে বলে,
-“তোমাকে ছাড়া ভালো নেই।”
প্রিয় হাসে,
-“কেউ কাউকে ছাড়া খুব বেশিদিন খারাপ থাকে না। তুমিও থাকবে না।”
-“আমাকে তো খুব বুঝতে তুমি, এখন কেন বুঝতে পারছ না?”
-“বুঝতে চাইছি না আসলে।”
-“কেন?”
-“কারণ তুমি। তুমি হচ্ছ আমার অতীত। অতীতের ভীষণ গভীর এক ক্ষত। আমার ক্ষত এখনও সারেনি। এভাবে খোঁচাতে লাগলে যন্ত্রণা আরও বাড়বে।”
শ্রেয়ান প্রিয়র হাত ধরে ফেলল ত্বরিতে,
-“প্লিজ, আরেকটা সুযোগ দাও।”
প্রিয় হাত ছাড়িয়ে নেয়,
-“ছোঁয়াছুঁয়ি আর ভালো লাগে না, শ্রেয়ান। আর সুযোগ? মন মানছে না। কী করি বলো?”
-“মানবে। কিছুদিন আমার সাথে টাইম স্পেন্ড করো। আমি সব ঠিক করে দেবো।”
প্রিয় মুচকি হেসে বলে,
-“যেই মুহূর্তে আমি তোমাকে অনুভব করিয়েছি—তোমাকে ছাড়া আমি অচল। সেই মুহূর্ত থেকে আমার অনুভূতির কোনো দাম আমি তোমার কাছ থেকে পাইনি।”
শ্রেয়ান ছটফট করতে থাকে,
-“আর হবে না এরকম।”
-“শ্রেয়ান, আমি তোমাকে আর চাই না।”
-“নতুন কাউকে পেয়েছ?”
শ্রেয়ানের কণ্ঠে অজান্তেই প্রকাশ পাচ্ছে ক্ষোভ। প্রিয় অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে হাসে। শ্রেয়ান অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
-“এজন্য আমাকে ছাড়ছিস?”
প্রিয় কিছু বলে না। শ্রেয়ান ক্ষেপে যায়। ওর একবাহু চেপে ধরে বলে ওঠে,
-“সমস্যা কী? কথা বলতে কী সমস্যা হচ্ছে?”
প্রিয় কথা বলে,
-“আমি এগিয়ে গেছি, শ্রেয়ান। রিলেশনে গেলেই বা কী?”
শ্রেয়ান যেন বিশ্বাসই করতে পারে না,
-“মজা করছ, প্রিয়?”
প্রিয় এবারও চুপ হয়ে থাকে। সে নতুন সম্পর্কে জড়ায়নি। রিলেশনশিপ নিয়ে অনেক বাজে একটা অভিজ্ঞতা তার হয়েছে, দ্বিতীয়বার জড়ানোর স্পর্ধা নেই। তাই বলে যে ভবিষ্যতে একা থাকবে, এমন পরিকল্পনাও তার নেই। বিয়ে-শাদি করে সেটেল হবে, তবে এখন না। ওর সময় লাগবে। নিজেকে সময় দেবে। নিজেকে তৈরি করবে।
শ্রেয়ান প্রিয়কে আবার চুপ হয়ে যেতে দেখে দু'কদম পিছিয়ে যায়। কণ্ঠে কী ভীষণ রাগ,
-“তোমার থেকে এটা আশা করিনি, প্রিয়শ্রী।”
প্রিয়র খুব করে বলতে ইচ্ছে করছিল, “অথচ শ্রেয়ান, তোমার থেকে আমার অনেক অনেক এক্সপেকটেশন ছিল।”
প্রিয় তা বলল না। মিহি হেসে অন্য টপিকে গিয়ে বলল,
-“এভাবে আর এখানে-ওখানে দাঁড়িয়ে থেকো না। আমার অস্বস্তি হয়। শেষ চাওয়া ধরে নাও...”
আর কিছু না বলে গাড়িতে উঠে চলে যায়। এতে শ্রেয়ান কী ভেবেছে না-ভেবেছে, ওর জানা নেই। তবে কাজ হয়েছে খুব। শ্রেয়ানকে এরপর আর আশে-পাশে দেখা যায়নি। হয়তো রাগে-ক্ষোভে গা ঢেকেছে, কিংবা ওর সেই তথাকথিত ব্যস্ততা ওকে আবারও নিজের জালে আটকে নিয়েছে।
_______
রিধিমার বিয়ে কয়দিন পর। এজন্য এক সপ্তাহ আগেই বিয়ে উপলক্ষে নাহারা ছেলে-মেয়েকে নিজের বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। নাসিরুদ্দিন সাহেব ছুটি নিলে বিয়ের আগেরদিন সে সময়মতো চলে আসবে।
দীর্ঘ জ্যামেপড়া সাড়ে পাঁচ ঘন্টার জার্নির পর প্রহর আর প্রিয়র গাড়িটা গিয়ে থামল ভীষণ রকমের পুরোনো অথচ রাজকীয় ধরনের বাড়িটির সামনে। মেইন গেইটের বাইরে স্বর্ণাভ নেমপ্লেটে লেখা আছে “শান্তিকুঞ্জ”। নেমপ্লেটটার চারপাশটায় দেয়াল ঘেঁষে লেগে থাকা শেওলাটাও যেন এত সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাড়িটা বেশ পুরোনো আমলের। প্রিয় চোখ জানালা ভেদ করে বড়োসড়ো একটা জায়গা নিয়ে স্থাপিত এই অসম্ভব মনোমুগ্ধকর বাড়িটার দিকে স্থির হয়ে আছে। দোতলা বাড়িটাকে দেখলে রাজবাড়ি শব্দটাই সবার আগে মুখে চলে আসবে।
সে এর আগেও শান্তিকুঞ্জে আরও চারবার এসেছে। ছোটোবেলায় দুবার, হাইস্কুল লাইফে একবার আর এসএসসির পর একবার।
শেষবার খালার থেকে শুনেছে, তার শ্বশুরের পরদাদার আমলের বাড়ি এটা। তিনি তখন এখানকার জমিদার ছিলেন। এরপর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেল, পরবর্তী প্রজন্ম বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল।
তারপর যখন এই জায়গাটার ভাগবন্টনের কথা আসে, তখন তার দাদাশ্বশুর পশ্চিমাঞ্চলের জমিগুলো তার ভাইদের দিয়ে এই এলাকাটা নিজের জন্য রাখেন। পুরোনো ভঙ্গুর অংশগুলো মেরামত করে আবারও বসবাস উপযুক্ত করে তোলেন। দাদাশ্বশুর মারা গেছেন বহুত আগে। তবে ভেঙে নতুন করে বানানোর সাহসটা কেউ করেনি। তাঁর কঠোর আদেশ ছিল, এই বাড়িটা এই কাঠামোতেই থাকবে।
প্রহর ড্রাইভে ছিল। গার্ড সদর দরজা খুলে দিতেই প্রহর দক্ষ হাতে ড্রাইভ করে গাড়িটা সোজা উঠোনের মাঝে নিয়ে এসে থামাল। প্রিয় ধীরপায়ে নেমে গেল। প্রহর স্টেয়ারিং ঘুরিয়ে পার্কিংয়ে চলে গেল।
প্রিয় নামতেই জেসমিন তটস্থ পায়ে এগিয়ে এলেন। সেই সাথে তার বড়ো জা-ও এলেন। সবার ভীষণ আদরের মেয়ে প্রিয়। যেই চারবার এসেছে, প্রতিবারই মাথায় তুলে রেখেছেন সবাই। মিষ্টি আর বাধ্য ধরনের হওয়ায় প্রিয়র কেবল ছোটোদের সাথেই নয়, বড়োদের সাথেও বেশ জমে। বাড়ির সবচেয়ে বয়ঃজ্যোষ্ঠা হচ্ছেন জেসমিনের শাশুড়ি, মনোহরা শিকদার। মানুষটা বেশ গম্ভীর। বয়স আশির ঘরে চলছে। অথচ এখনও তার দাম্ভিকতার কাছে সবাই নত হয়ে থাকে। প্রিয় নেমে নিয়ে সবার আগে তাকেই খুঁজল। বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততায় তাকে এখানে খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর বটে। হাঁফ ছাড়ল প্রিয়। মনোহরা ভীড় পছন্দ করেন না মোটেও।
সামনে জেসমিন আর তার বড়ো জা শাহানাজ এগিয়ে এসেছেন। জেসমিন শুধালেন,
-“এসে গেছিস, আম্মু। ইশ! অনেক জ্যাম ছিল না?”
প্রিয় ভদ্রতাসূচক হাসে,
-“হ্যাঁ।”
পঞ্চাশোর্ধ শাহানাজ প্রিয়র মাথায় হাত বোলালেন। প্রিয় তাকে লক্ষ করল। গায়ে জামদানী শাড়ি ফুল হাতার ব্লাউজের সাথে আটপৌরে করে পরা, গলায় একটা সীতাহার, কানে গোল ধরনের কানপাশা, হাতে মোটা বালা আর নাকফুল। চেহারায় বয়সের ছোপ নেই। প্রথম দেখায় কেউই সঠিক আন্দাজে বলতে পারবে না তার বিয়ের বয়স ৩০ পেরিয়েছে অনেক বছর আগেই। প্রিয় মাঝে মাঝেই রিধিমার সাথে ভিডিয়ো কলে থাকাকালীন শাহানাজকে দেখে। কয়েকবার তো রিধিমাকে জিজ্ঞেসও করে ফেলেছে,
-“রিধি আপু, তোমার বড়োমায়ের স্কিনকেয়ার রুটিনটা দিয়ো তো আমাকে। মানে একটা মানুষ এত ওয়াও কেমনে থাকে?”
রিধিমা তা শুনে কেবল হেসেই যায়। প্রিয় সত্যি বলতে যতবার শাহানাজকে দেখে, ততবারই মুগ্ধ হয়। সে বলতে বাধ্য—জমিদারি না থাকলেও, রাজকীয়তায় কোনো অংশে কমতি নেই এই পরিবারে। সহায় সম্পত্তি যা আছে, তাতে রাজ পরিবারই বলা যেতে পারে।
প্রিয়কে নিজের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শাহানাজ মুচকি হেসে বললেন,
-“কত বড়ো হয় গিয়েছ, মাশাআল্লাহ! সেই দেখেছিলাম যখন স্কুলে ছিলে। এদিকে তো আসোই না। আমাদেরও বাড়ি থেকে বের হওয়া হয় না।”
প্রিয় হেসে নিয়ে বলে,
-“পড়াশোনার ব্যস্ততা বড়ো আম্মু, রাগ কোরো না।”
সেই একই নম্রতা, একই শিষ্টাচার। আপ্লুত হলেন ভীষণ,
-“হাত মুখ ধুয়ে নাও। খিদে লেগেছে না? এসো।”
এরই মধ্যে প্রহরও গাড়ি পার্ক করে চলে এলো। জেসমিন ছেলেটার দিকে এগিয়ে বলেন,
-“আব্বু, ভালো আছ?”
প্রহর জবাবে বলে,
-“জি, খালামণি। তুমি ভালো আছ?”
-“আলহামদুলিল্লাহ। আসো, ফ্রেশ হয়ে নেও।”
প্রিয় আর প্রহরকে নিয়ে গিয়ে জেসমিন দোতলার দিকের দুটো রুম দেখিয়ে দিলেন। প্রিয় রুমে ঢুকে হালকা খোলা জানালা দিয়ে দেখল, এটা পেছন মুখী একটা ঘর। ভেতর দিয়ে আসার একটা দরজা, আর বারান্দামুখো আরেকটা দরজা। বারান্দাটা একটা প্যাসেজওয়ে বলা যেতে পারে। আশেপাশের সব ঘরগুলোর সাথে লাগোয়া। বারান্দা বেয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাতায়াত করা যায়। দরজা-জানালা সব কাঠের। প্রিয় বারান্দার দিকের কাঠের দরজাটা খুলে ফেলল। পেছনে জঙ্গল। শীতল বাতাস প্রিয়র গা ছুঁয়ে গেল। গতরাতে তুমুল বৃষ্টি হয়েছে। বাতাসে সোঁদা মাটির গন্ধ। প্রিয়র ভালো লাগল খুব। এক নিমিষেই মনে হলো, সপ্তাহ থাকার জন্য এলেও, আরও অনেকটা বেশি সময় এই বাড়ি তাকে আটকে রাখবে। থেকে গেলে অবশ্য মন্দ হয় না। প্রিয় হেসে ওঠে। এরপর এদিক-ওদিক দেখতে লাগল।
তন্মধ্যে কিছু আঁচ করতে পেরে হুট করেই প্রিয়র কান খাঁড়া হয়ে এলো। কাঠের দরজা কেউ খট করে বন্ধ করে দিতেই সে ত্বরিতে পিছে মুড়ল। রুমের দরজা বন্ধ, আর ওপাশে দাঁড়িয়ে আছেন বহু আকাঙ্ক্ষিত মানুষটা। গম্ভীর মুখোভাব দেখে প্রিয়র ভেতরের সত্তায় ভয় জেগে উঠল।
চলবে..

Olindo Rahman

Olindo Rahman

A good book is worth a hundred good friends. 
But a good friend is equal to a library.!! 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy