তন্মধ্যে কিছু আঁচ করতে পেরে হুট করেই প্রিয়র কান খাঁড়া হয়ে এলো। কাঠের দরজা কেউ খট করে বন্ধ করে দিতেই সে ত্বরিতে পিছে মুড়ল। রুমের দরজা বন্ধ, আর ওপাশে দাঁড়িয়ে আছেন বহু আকাঙ্ক্ষিত মানুষটা। গম্ভীর মুখোভাব দেখে প্রিয়র ভেতরের সত্তায় ভয় জেগে উঠল। ক্রাচের খট খট শব্দটা মেঝেতে প্রতিফলিত হতে হতে বিপরীত ব্যক্তিটি এগিয়ে আসতে লাগল বেশ রাজকীয় কায়দায়। প্রিয়র চোখ স্থির রইল তার প্রতিমুখে অবস্থান করতে থাকা আশি বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কঠোর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারীটির ওপর। পরনের সাদা জমিনে কালো সূক্ষ্ম নকশা করা সুতির শাড়ি, নূন্যতম কিছু অলংকার, আর চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমাটি তাকে বাহ্যিকতায় দৃঢ় প্রত্যয়ী এক নারী সরূপে প্রকাশ করছে। ভালো লাগায় প্রিয়র ভেতরটা ছেয়ে যাচ্ছে। কী নেই এই বৃদ্ধার? বার্ধক্য তার সৌখিনতায়, বিলাসীতায় আর সর্বোপরিভাবে মানসিকতায়—নূন্যতম আঁচ ফেলতে পারেনি। যতবার প্রিয় তাকে দেখে, ততবারই মুগ্ধ হয়ে থাকে। শেষবার সামনা-সামনি দেখেছিল, যখন মাধ্যমিকের ছুটি কাটানো শেষে এ-বাড়ি থেকে ফেরার সময় গাড়িতে উঠে শান্তিকুঞ্জের পশ্চিমের দোতলায় তাকিয়েছিল, তখন করিডোরের দোলনায় বসে পান চিবোচ্ছিলেন তিনি। ফেরার পর ফোনে কথা হতে লাগল, অসংখ্যবার, অসংখ্যবার! সেই লাগাটাও মাত্র আড়াই বছরের ছিল। প্রিয়র দূরত্ব তো এরপর নিজের থেকেই বেড়ে গিয়েছিল, এঁদের সাথে সংযোগ থাকার চিন্তা করাটাও যেন তখনকার জন্য অবাঞ্ছিত। প্রিয় হতাশার শ্বাস ফেলে পুনরায় তাকাল। মৃদু আওয়াজে বলে উঠল, -“আসসালামু আলাইকুম, বুবুজান।” মনোহরা বিরবির করে সালামের জবাব নিয়ে, এগিয়ে এসে মুখোমুখি দাঁড়ালেন প্রিয়র। আপাদমস্তক তীর্যক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে নিলেন। ডাঁটিয়াল কণ্ঠে বলতে লাগলেন, -“বয়স তখন ষোলো ছিল, এখন তেইশ। গতরটাও আগের চেয়ে ভরেছে। চুল কোমর ছুঁয়েছে। উচ্চতাও দু ইঞ্চি বেড়েছে। উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে সুন্দর লাগছে।” প্রিয় লজ্জা পেয়ে গেল, -“ধন্যবাদ, বুবুজান। ভালো আছেন?” মনোহরা বোধহয় আরও খানিকটা কঠোর হয়ে উঠলেন, পালটা প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়, -“সেসবকে ছাপিয়ে যাচ্ছে আপনার বিষণ্ণতা। সুন্দর লাগলেও ভালো লাগছে না। সুন্দর আর ভালোর পার্থক্য বোঝেন না, প্রিয়শ্রী?” প্রিয় দু'ধারে মাথা নেড়ে নেতিবাচকতা প্রকাশ করে। মনোহরা বলতে লাগলেন, -“বাহ্যিকতায় মোড়ানো চোখ ধাঁধানো রূপটি সুন্দর, অভ্যন্তরে লুকোনো সুপ্ত রূপটি ভালো। ওরা সর্বদা সুন্দরকে বেছে নেয়। আমি আপনাকে ছয় বছর আগে শিখিয়েছিলাম ভালোটাকে বেছে নিতে। আপনি ভুলে গেলেন কী করে?” শেষবাক্যটায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল। প্রিয় নতমুখী হয়ে হেসে বলল, -“আমার আপনাকে অনেক কিছু জানানোর আছে, বুবুজান। অনেক কিছু ঘটে গেছে আমার জীবনে।” মনোহরা বলেন, -“ঘটাটাই বরঞ্চ স্বাভাবিক। জীবন সর্বদা একরূপে থাকে না। কেবল তো বড়ো হচ্ছেন, আস্তে আস্তে আরও ঘটবে, আরও জানবেন। কখনও সুখে মরে যেতে ইচ্ছে করবে, কখনও বা ভয়ে আঁতকে উঠবেন। এসবকে অস্বাভাবিকভাবে নেবেন না, দেখবেন আর খারাপ লাগছে না, সব ভালো লেগে যাচ্ছে।” প্রিয় আরও কিছু বলতে গেলেই মনোহরা বলে উঠলেন, -“সবে এসেছেন, বিকেলের সাক্ষাতে ছাদে বসে শুনব। খেয়ে আসুন।” -“জি, আচ্ছা।” প্রিয় খুব মান্য করে তাঁকে। মান্য না করে থাকতেই পারে না। মানুষটাকে প্রিয় অত্যাধিক পছন্দ করে। ছোটোবেলায় যতবারই এসেছে, ততবারই বুবুজানের আঁচল ধরে ঘুরেছে। বড়ো হওয়ার পর তাকে অনুকরণের চেষ্টা করে এসেছে। ___ খাবার ঘরের লম্বাটে টেবিলটির একপাশে বসে আছে প্রিয়, আর তার পাশে প্রহর। শাহানাজ আর আশরিফা মিলে তাদের পরিশনে ব্যস্ত। বাকি সবাই আত্মীয়দের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত। প্রহরের প্লেটের ভাজাটা শেষ হতেই, আশরিফা শাহানাজকে ডেকে উঠলেন, -“ও ভাবি! প্রহরকে একটু কুমড়ো ভাজাটা দাও না। দেখো, প্লেট খালি।” প্রহর ত্বরিতে প্রিয়র দিকে তাকায়। প্রিয় ঠোঁট চেপে হাসে ওর অবস্থা দেখে। শাহানাজ ভাজা দিতে গেলেই প্রহর আঁতকে ওঠে, -“দেবেন না, বড়ো মা। আর পারব না।” শাহানাজ মিষ্টি করে হেসে বলেন, -“এটুকু খেলে চলবে কী করে? তোমার বয়সে থাকতে তোমাদের বড়ো বাবা একাই কুড়ি জনের খাবার খেতে পারতেন।” তাল মেলালেন আশরিফা, -“সে-ই তো। আরেকটু ভাত দিই, বাবা?” -“না, প্লিজ!” অসহায় লাগছে প্রহরকে। প্রিয় এবার শব্দ করেই হেসে ওঠে। তারপর আশরিফাকে বলে, -“ছোটমা, আর দিয়ো না। খেতে পারবে না।” -“তা বললে হয়? তোমাদের বয়সই তো খাওয়া-দাওয়ার। এই বয়সেই তো খাবে!” -“আচ্ছা, খাব। কিন্তু একেবারে এত খেলে কী করে হবে বলো তো? রিধি আপুর সাথে বাগান ঘুরতে ঘুরতে ফলও খাওয়া লাগবে। তাছাড়া বুবুজানের সাথেও আমার বিকেলে একটা স্পেশ্যাল আড্ডা আছে। সেখানেও ভোজ হবে। এত পারব না এখন।” আশরিফা সব শুনে বললেন, -“বেশি না, আরেকটু খাও।” প্রহর এবার মানা করতে পারছে না, খেতেও পারছে না। চোখের ইশারায় প্রিয়কে বোঝাল, বাঁচিয়ে দিতে। প্রিয় যেন পাত্তাই দিলো না তাকে। তার চেহারায় এতে অসহায়ত্ব ফুটে উঠল। প্রিয় মুখ ঘুরিয়ে হাসল। সেই সময় ঘরের দরজার ওপাশে কিছু একটা লক্ষ করল। আরেকটু খেয়াল করার পর দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন মেয়ের উপস্থিতি আন্দাজ করে ফেলল। হাসি আরও চওড়া হলো। সে কোনো রকমে খাওয়া শেষ দিয়ে উঠে যেতে পারলেও, প্রহর ছাড় পেল না। খাবার ঘরের দুটো দরজা। একটা রান্নাঘর বরাবর, অন্যটা বের হওয়ার। প্রিয় রান্না ঘর দিয়ে বেরিয়ে ফের মূল দ্বারের সামনে এসে দাঁড়াল। যা ভেবেছিল তাই। তিনটে কিশোরী খুব মনোযোগ দিয়ে দরজার ওপাশের পুরুষটির নাজেহাল হয়ে খাওয়া লক্ষ করে যাচ্ছে। কেশে উঠল প্রিয়। সঙ্গে সঙ্গে আঁতকে উঠল মেয়ে তিনটি। একজন তো বুকে ফু দিলো। বাকি দু'জন ভড়কে যাওয়া নজরে প্রিয়র দিকে তাকিয়ে আছে। প্রিয় বুকে হাত গুঁজে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। মেয়ে তিনটিকে দেখে মনে হচ্ছে, তাদের বয়স ষোলোর ভেতর হবে। তবে চিনতে পারছে না সে। তাই জিজ্ঞেস করে উঠল, -“পরিচয় দাও ফটাফট। নাম, বয়স, শ্রেণী।” তাদের বাড়িতে এসে, তাদের কাছেই পরিচয় চাইছে! মেয়েগুলো প্রথমে অবাক হলেও পরক্ষণে নিজেদের সামলে নিয়ে বলে উঠল, -“আমি রূপা। বয়স চোদ্দ, নবম শ্রেণী।” দ্বিতীয়জন বলল, -“আমি নীহিন। বয়স ষোলো, মাধ্যমিক দিয়েছি।” তৃতীয়জন বলল, -“আমি আরহা। বয়স ষোলো, মাধ্যমিক দিয়েছি।” প্রিয় জহুরি চোখে আরেকবার পরখ করে বলল, -“আরহা আর রূপা ছোটমার মেয়ে, আর নীহিন বড়োমার। তাই-না?” ইতিবাচক জবাব এলো। তারপরই জিজ্ঞেস করল প্রিয়, -“এখানে কী করছিলে?” -“কিছু না।” -“কেন কিছু না?” থতমত খেয়ে যায় ওরা। নীহিন বলে, -“আসলে দেখছিলাম তোমাদের কিছু লাগে কি না।” প্রিয় হুট করেই হেসে দেয়, -“ভয় পেয়ো না। আর ওদিকে নজর দিয়ে লাভ নেই, মিস্টার বুকড। বুঝেছ?” বুঝতে সময় লাগেনি কারোরই। ওরা প্রস্থান ঘটানোর উদ্দেশ্যে চলে যেতে গেলেই, প্রিয় মাঝে থেকে নীহিনকে আটকে নেয়। ওর হাত ধরে সিঁড়িঘরের দিকে নিয়ে আসে। তারপর সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে প্রিয় বলতে লাগে, -“চিনেছ আমায়?” নীহিন অতিভদ্র মেয়ের মতো মাথা নাড়ে। সে চিনেছে। ছোটোবেলার আবছা স্মৃতির মধ্যে প্রিয়কে তার ভালোই মনে আছে। তাছাড়া বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, পুরোপুরি অচেনা কেউ-ই নয়। নীহিন প্রায়শই রিধিমাকে দেখে প্রিয়র সাথে কথা বলতে, প্রিয়কে ট্যাগ করে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতে। সে থেকে মাঝে মধ্যেই প্রিয়র সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ঢু মারত। কিন্তু লক করা বিধায় ভেতরে দেখা যেত না। প্রিয় ওকে দেখে বলে, -“তোমাকেও আমার খুব মনে আছে। তুমি কী ভীষণ মিশুক আর লাজুক ছিলে ছোটোবেলায়! আমার কী যে ভালো লাগত। তখন বয়স কত হবে তোমার? উম.. নয় বা দশ! তোমাকে নিয়ে এলাকা চষে বেড়িয়েছি। ভালোই মনে আছে। কিন্তু ফেইস ভুলে গেছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় আছ? ফেসবুকে আছ?” নীহিন জানায়, -“আছি।” -“কী নামে?” -“নীহিন শিকদার। প্রোফাইলে বাগানের কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে আমার আর দাদাভাইয়ের ছবি।” -“আচ্ছা। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেবো রাতে, আমি প্রিয়শ্রী মর্তুজা নামে আছি।” নীহিন মাথা নাড়ায়। প্রিয় বলে, -“তুমি বরাবরই কম কথা বলো নাকি? আগে এত চুপচাপ ছিলে না।” -“মা বলেছে, বড়ো হচ্ছি। এখন কথা মেপে মেপে বলা উচিত।” -“তোমার মা ঠিক বলেছে..” প্রিয় থেমে আবার বলে, -“কিন্তু অতটাও ঠিক না। মানুষভেদে কম-বেশি কথা বলবে। আমার সাথে এত কার্টেসির প্রয়োজন নেই। আমরা আমরাই। টেক ইট ইজি।” -“ঠিক আছে, প্রিয়দি।” -“বাহ! মনে আছে, আগেও আমাকে প্রিয়দি ডাকতে?” নীহিন হাসে, -“মনে আছে। তোমাকেও খুব মনে আছে। সেই ৬-৭ বছর আগে এসেছিলে। এর মধ্যে তোমার সাথে আর দেখা হয়নি। এটা কি ঠিক করেছ?” -“মোটেও ঠিক করিনি। কিন্তু আমার তো নিজের মামাবাড়ি, বাবার গ্রামের বাড়িই যাওয়া হয় না। এখানে এসেছি, এই কত!” -“কেন যাও না?” -“ভালো লাগে না।” -“প্রিয়দি, তুমি না আগে মানুষদের সাথে মিশতে পছন্দ করতে?” -“মানুষ খুব সুন্দরভাবে পালটায়, নীহিন।” নীহিন পিটপিট করে তাকিয়ে থাকে। ওরা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে এখন। প্রিয় গিয়ে মাঝখানের দোলনাটিতে বসে পড়ে। তারপর নীহিনকে জানায়, -“তোমাদের বাড়িটা আমার খুব পছন্দের।” -“আমারও।” -“আমার কী মনে হয় জানো? মনে হয়, থেকে যাই।” -“থেকে যাও।” প্রিয় ঠোঁট টিপে হাসে, -“যাহ! তা হয় নাকি?” -“চেষ্টা করলেই হয়।” -“তা কীভাবে?” -“বলব না, প্রিয়দি। এতদিন আমাকে ভুলে থাকার জন্য এটা তোমার পানিশমেন্ট।” -“বাপ্রেহ! বাচ্চাটার অভিমান আছে দেখছি!” -“তো তুমি কী ভেবেছ? হুহ?” মুখ ঘুরিয়ে ফেলে নীহিন। প্রিয় হো হো করে হেসে ওঠে। তারপর জিজ্ঞেস করে, -“তোমাদের বাড়িতে অনেক মানুষ। আমাকে একটু বলবে কে কে আছে, আমার ঠিক খেয়াল নেই।” নীহিন বলতে লাগে, -“দিদার তিন ছেলে দুই মেয়ে—আমার বাবা-মা, মেজমা-মেজআব্বু, ছোটমা-কাকাই আর মামনি, ফুপিমণি। মামনি এসেছে, ফুপিমণি আমেরিকা থাকে তাই আসতে পারেনি। ছোটদাদুর চারজন মেয়ে ছিল, তাদের সংসার একেকজনের একেক এলাকায়। রিধিমাদির বিয়ে উপলক্ষে তিনজন এসেছে। আর চ্যালাপ্যালা আছে অনেকগুলো। আমরা তিন ভাই-বোন। দাদাভাই, ছোটদাভাই, আমি; দাদাভাই কিন্তু আমাদের কাজিন গোষ্ঠীর সবার বড়ো৷ বুঝেছ? রিধিমাদিরা তিন বোন, এক ভাই; রিধিমাদি, নিধিদি, আরুশিদি আর কিউট বাচ্চা শুভ্র। আর কাকাইয়ের দুই মেয়ে, দুই ছেলে। সৌরভ ভাইয়া, আসিফ ভাইয়া, আরহা আর রূপা। সৌরভ ভাইয়া আর আসিফ ভাইয়া পিঠাপিঠি, দাদাভাইয়ের চেয়ে দুই আর চার বছরের ছোট। আমার দাদাভাই সন্ন্যাসী লাইফ লিড করছে, আর তারা বিয়ে করে নিয়েছে। বড়োবৌ জয়া উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে। আর ছোটবৌ শুভ্রা আমার সমান। বড়োবৌ কিন্তু প্রেগন্যান্ট, চার মাসের। এই তো, আর ৫-৬ মাসের মধ্যে নেক্সট জেনারেশনও ডাউনলোড হয়ে যাবে। তারপর..” প্রিয়র মাথা ঘোরাতে লাগল। সে নীহিনকে থামিয়ে দিয়ে বলল, -“এই থামো থামো! কী বলে গেলে এসব? কিছুই মাথায় ঢুকল না। পরিবারে কে কে থাকে জিজ্ঞেস করেছি, তুমি পুরো কুন্ডলী বলে গেলে বোধহয়। থাক, আর শোনা লাগবে না। যা জানি, তা-ও মাথা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।” প্রিয়র কথা শুনে নীহিন হেসে উঠল। হাসি থামে না তার। প্রিয় ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে। ততক্ষণে ছাদে আগমন হয় রিধিমা আর নিধির। প্রিয়কে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলল, -“কত বছর পর দেখলাম! সাপের গর্তে লুকিয়ে ছিলি কার ভয়ে? ঢাকা বেড়াতে গিয়েও তোর খোঁজ মিলত না!” প্রিয় আমোদিত হয়ে বলে ওঠে, -“মিস করেছি খুব, আপু।” -“আমরাও।” কিছুক্ষণ গল্প-স্বল্প করল ওরা। এরই মধ্যে হঠাৎ অন্দরে হইচই শুরু হয়ে গেল। নীহিন রেলিংয়ে ঝুঁকে মূল ফটকের সামনে দাঁড় করানো কালো রঙের গাড়িটা দেখতে পেয়েই মুখে হাত চেপে চিল্লিয়ে উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটল যে প্রিয়র মস্তিষ্ক তা ধরতে পারল না। তন্মধ্যে নীহিনও দৌড় দিয়েছে বাড়ির ভেতরে। রিধিমা আর নিধিও দাঁড়িয়ে নেই। রিধিমা প্রিয়র হাত ধরে এগোতে লাগল, নীহিনের মতো দৌড়ে নয় অবশ্য, তবে ওরাও গতিশীল পায়ে এগোচ্ছে। প্রিয় বিস্মিত হয়ে পা ফেলছে। প্রতিটি কদমের সাথে তার মনের ভেতর কিছু একটা ঘটছে। কিছু একটা অদ্ভুত! কিছু একটা অভূতপূর্ব! ব্যাপারটা ভালো লাগার না-কি খারাপ লাগার, তা খতিয়ে দেখা আবশ্যক হয়ে উঠল প্রিয়র জন্য। ভেতরটা ছটফট করতে লাগল অজানা শঙ্কায়। চলবে...
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *