তুমি খুব সুন্দর। আমার তোমাকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে।”
প্রিয় চকিতে তাকায়, এটা কী বলল? জিজ্ঞেস করে ওঠে,
-“হুহ?”
যেন কিছুই বোঝেনি৷ চাঁদের মৃদুমন্দ আলোয় প্রিয় নিশানের হাসিটা দেখতে পেল। সেই হাসিটা খুব চওড়া। সে এবার প্রপোজালটা দিয়েই ফেলল,
-“উইল ইউ বি মাই ভাবি?”
ছেলে বলে কি? এত বছর পর প্রথম সাক্ষাতে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস না করে দিলো প্রপোজাল, তাও আবার ভাবি হওয়ার। প্রিয়র হাসি পেল। মানে পুরোই যা-তা! এই পর্যায়ে মিষ্টি করে নিশান নিজেও হাসল,
-“জাস্ট কিডিং। আসলে তোমাকে খুব কিউট দেখাচ্ছে। আগে তো ছিলেই এক কিউটের ডিব্বা, আর এখন পুরোই গোডাউন। তাই ভাবলাম, ভাইয়ের দোহায় দিয়ে ধরে-বেঁধে রেখে দিই।”
প্রিয় হাসি থামিয়ে বলে,
-“তোমার কমনসেন্স আগের মতোই লো-ক্লাসে স্ট্যান্ড করছে, একটুও উন্নতি হয়নি।”
-“ইনসাল্ট! ব্রোকেন হার্টের ইমোজি।”
-“আচ্ছা, পরে কথা হবে। থাকো।”
-“ঠিকাছে।”
প্রিয় নিচে চলে আসে। রুমের সামনে এসে দরজার চিপায় নীহিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এলো। দুইজন মিলে প্রায় মিনিট দশেক অপেক্ষা করল। সবাই যার যার রুমে চলে যাওয়ার অপেক্ষা।
দশ মিনিট পর প্রিয় নীহিনের হাত ধরে বলল,
-“চলো যাই।”
ভেতরের সিঁড়ি না ব্যবহার করে বাইরের সিঁড়ি ব্যবহার করল ওরা। বাইরের সিঁড়িটা বাড়ির পেছনের দিকের। নীহিন প্রশ্ন করল,
-“এখন বলো কই যাব?”
-“বাড়ির পেছনে।”
-“এ না!”
আঁতকে উঠল নীহিন। কপাল কুঁচকে প্রিয় জিজ্ঞেস করল,
-“কেন না?”
-“দিনের বেলাতেই ওখানে যেতে ভয় লাগে, আর এখন মাঝরাত!”
-“ভয় লাগবে কেন? বাঘ আছে ওখানে?”
-“না, তবে অন্ধকার ওদিকটা।”
-“রাতের বেলা অন্ধকারই থাকার কথা।”
-“দিনের বেলাতেও অন্ধকার। গাছগুলো অনেক ঘন প্রিয়দি, আলো আসে না।”
-“না এলো। চলো যাই।”
-“না গেলে হয় না, প্রিয়দি?”
-“হয় না।”
-“কেন হয় না?”
-“কারণ আমার ইচ্ছে করেছে। এখন না গেলে আমার ঘুম আসবে না রাতে।”
-“ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুম দাও, প্রিয়দি।”
প্রিয় দাম্ভিক গলায় বলল,
-“নীহিন, তোমার যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তুমি বাড়ির ভেতরে যাও। আমি একাই যাব।”
নীহিন পর পর বড়ো দুটো শ্বাস টেনে হেসে বলল,
-“রাগ করো কেন? এই তো যাচ্ছি, চলো।”
নীহিন প্রিয়র হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। প্রিয় ঠোঁট চেপে হেসে এগোতে লাগে। ফোনের টর্চটাও অন করল। শুরুতে একটু ফাঁকা জায়গা, এরপর ফল বাগান। হাঁটতে হাঁটতে আরও কিছুটা আসার পর বাগান শেষ, এখানে ইট দিয়ে চারফুট উঁচু দেয়াল। বাড়ির মূল সীমানাটাও এখানেই বোধহয় শেষ।
নীহিন তা দেখে বলল,
-“প্রিয়দি, রাস্তা শেষ। ওদিকে যাব কীভাবে? চলো ফিরে যাই!”
-“একদম না।”
-“যদি সাপ থাকে?”
-“থাকলে থাকবে। তুমি তো কোনো নাগিনীর নাগের সাথে লাইন মারোনি যে বদলা নিতে ফোনা তুলে ফোঁসফোঁস করতে করতে ছোবল মারবে! নাকি লাইন মেরেছ?”
প্রিয় সরু চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করে। নীহিন থতমত খেয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে ডানে-বাঁয়ে মাথা নেড়ে বলে,
-“না না! কী বলো। মনুষ্য প্রজাতির সাথেই লাইন-টাইন মারতে পারিনি, সর্প তো বহুত দূরের এলাকা।”
প্রিয় হাসে,
-“তাহলে জাস্ট চিল করো। এলে আসবে, দেখবে, ভাল্লাগলে একবার চুমু খাবে, তারপর চলে যাবে। প্যারা খেয়ো না।”
নীহিন প্রিয়র এমন যুক্তিতে চুপ মেরে গেল। প্রিয় এদিক-ওদিক লক্ষ করে দেখল ওরা এগিয়ে যেতে লাগল। কিছুটা পর ভাঙা দেয়াল দেখতে পেল, ইটগুলোও কেমন আলগা হয়ে আছে। প্রিয় হাত দিয়ে টেনে বের করার চেষ্টা করল। সফলও হলো। ইট বের করা ফাঁকা জায়গার ওপাশটায় আঁধার। প্রিয় আলগা ইটগুলো যতটুকু পারে সাবধানতা অবলম্বন করে সরিয়ে ফেলল। তারপর নীহিনকে বলল,
-“একটা বৃত্তকে লক্ষ করেছ? বিন্দুকে কেন্দ্র করে চলমান পরিধির সীমা যেখান দিয়ে শুরু হয়, সেখানে এসেই থামে। আবার শুরু হয়, আবার শেষ। উপসংহার থেকেই নতুন কিছুর সুচনা ঘটে। চক্রের মতো চলতেই থাকে। পৃথিবীও গোল, জীবনটাও.. কোনো রাস্তারই শেষ নেই। ইচ্ছা থাকলে রাস্তা এভাবেই বের হয়।”
প্রিয় নীহিনের দিকে তাকায়, ওর মুখটা অস্পষ্ট। প্রিয় হেসে বলে,
-“মৃত্যুকে অন্ত ভাবলে, তুমি ভুল। সেটা শুরু, অনন্তকালের জীবনের শুরুটা কেবল মৃত্যু।”
প্রায় মিনিট দশেক হাঁটা লাগল আরও। নিস্তব্ধতায় মাটিতে পড়ে থাকার শুকনো পাতায় পা পড়ায় খচখচে শব্দটা বিকট শোনাচ্ছে। মাঝে মাঝে শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছে। ঝিঁঝিঁর ডাকটাও এর মধ্যে মিশে আছে। ধীরে ধীরে ঘন গাছগাছালির পরিমাণটা কমে আসছে। একসময় কোত্থেকে যেন আলোর রেখা ধরা দিলো, সেই আলোতে ওদের রাস্তা অল্প পরিষ্কার। খেয়াল করল আলোর উৎসটা ডানে থেকে আসছে।
প্রিয় নীহিনের হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরে ডান দিকে যেতে যেতে বলল,
-“মেবি দারুণ কিছু পেতে চলেছি।”
নীহিনের মনের ভেতর ভয়। সে দারুণ কিছু চায় বা না-চায়, খারাপ কিছু ভুলেও চায় না। মনে মনে দোয়া-দরুদ পড়তে ব্যস্ত। আরেকটু এগোনোর পর আর গাছ নেই। বাঁকা চাঁদ প্রতিফলিত দিঘি, কামিনী ফুলের সুবাস, ঝিঁঝিঁর আওয়াজ আর আকাশ সমান প্রশান্তি। প্রিয়র হুট করেই মন থেকে উঠে গেল এতকালের যন্ত্রণাগুলো। নীহিনের মুখেও চমক। এই জায়গাটা অনেক সুন্দর। সে এর আগে কেন দেখেনি? কেন আসেনি? কত সুন্দর একটা জিনিস মিস করে গেল!
আলগোছে সে প্রিয়র দিকে তাকায়। দেখতে পায়, প্রিয় মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সোজা তাকিয়ে আছে। চেহারার অভিব্যক্তিতে ভরপুর বিস্ময়। প্রিয় বিরবির করছে। নীহিন শোনার তাগিদ দেখাল, প্রিয়র কথাটা সে শুনতেও পেল,
-“শত-সহস্র জনম বাঁচার ইচ্ছে জাগছে আমার...”
______
সকালের খাবার শেষে প্রিয় রিধিমার রুমের দিকে এসেও, রাস্তা ঘুরিয়ে শাহানাজের রুমে চলে গেল। শাহানাজ কাপড় ভাঁজ করছিলেন, দরজা খোলা। প্রিয় নক করে বলল,
-“বড়োমা, আসি?”
শাহানাজ দরজার দিকে এক পলক তাকালেন। ঠোঁটের কোণায় তাঁর কিঞ্চিৎ হাসি। পাঞ্জাবিটা ভাঁজ করতে করতে বললেন,
-“এসো!”
প্রিয় এগিয়ে এসে শাহানাজের সামনের বিছানায় বসে পড়ল,
-“বড়োমা, জানো তোমাদের কত মিস করেছি?”
-“ওমা তাই?”
-“হুম হুম।”
-“তাহলে এত বছরে এলে না কেন?”
-“ব্যস্ততা! পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। ফ্রি টাইমটুকু নিজেকে দিতাম। তাছাড়া ঘোরাফেরার মানসিকতাও ছিল না।”
সামান্য মিথ্যে বলল প্রিয়। ব্যস্ততা পড়াশোনার না-কি অন্য কিছুর, তা খুবই সুন্দরভাবে গোপন করে গেল। শাহানাজ ভাঁজ করা কাপড়গুলো আলমারিতে তুলে এসে বাকিগুলোয় হাত লাগালেন। কাজে মন তাঁর। মাঝে মধ্যে প্রিয়র দিকেও তাকাচ্ছেন। প্রিয়র জবাবের প্রেক্ষিতে তিনি বললেন,
-“বুঝলাম।”
-“কী বুঝলে?”
-“এ-ই যে আপনি অত্যাধিক ব্যস্ত মানুষ। আমাদের মনে করার সময় কোথায়?”
প্রিয় খিলখিল করে হেসে উঠল, উঠে গিয়ে একহাতে আলতো করে শাহানাজকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“ব্যস্ততা টেম্পারারি। আপনারা পার্মানেন্ট।”
-“বুঝেছি।”
-“এবার কী বুঝলে?”
-“রাজকন্যা প্রিয়শ্রীর মুখে কথার খই ফুটেছে।”
প্রিয় আরেকদফা হেসে উঠল,
-“বড়োমা, তুমি আগের মতোই কিউট আছ! কত্ত ভালো লাগে তোমাকে আমার বোঝাতে পারব না।”
-“আর তুমি আগের মতোই দুষ্ট আছ। আমার ছেলেটাকে তো জ্বালিয়ে ভাঁজা-ভাঁজা করে ফেলতে।”
-“কীভাবে?”
-“মনে নেই, না? ছোটবেলার কথা তো। মনে থাকার কথাও না।”
প্রিয় সহমত,
-“তুমি বলো, কী কী করতাম।”
শাহানাজ হাসলেন। প্রিয় লক্ষ করল শাহানাজের হাসিটা একদম নীহিনের মতো। হাসলে নীহিনের ঠোঁটের দুইপাশে নিচের দিকে ছোট গর্ত দেখা যায়। শাহানাজেরও তাই। কী মিষ্টি লাগে দেখতে! শাহানাজ প্রিয়র দিক থেকে চোখ ফেরাচ্ছেন, আবার তাকাচ্ছেন, সেই সাথে চলমান রাখছেন নিজের কাজ। এদিক-ওদিক হেঁটে হেঁটে বলতে লাগলেন,
-“তুমি যে-বার প্রথম এই বাড়িতে এলে, তখন বয়স ৪-৫ বছর হবে। তোমার খালামণি নিয়ে এসেছিল। বাড়িতে তখন বাচ্চাদের মধ্যে বড়ো ছিল শরৎ, সৌরভ। রিধিমাও ছোট। সবাই তোমার সাথে খেলতে চাইলেও, শরৎ খেলত না। ওর বয়স তখন ১২-১৩। ওর আবার বাচ্চা-কাচ্চা পছন্দ না সেই বয়সে। নিজের ভাইকে নিয়ে অবধি খেলত না। ব্যাপারটা তোমার মাথায় কিক করেছিল। তুমি কী করেছিলে জানো? সবসময় ছেলেটাকে জ্বালানো শুরু করেছিলে। ও যখন পড়তে বসত তখন তুমি তোমার যোদ্ধা বাহিনী—রিধিমা, নিধি, নিশান, আসিফসহ বাড়ির পিচ্চুদের নিয়ে ওর ঘরের সামনে যুদ্ধের অনুশীলন করতে। ও খেতে বসলে, তুমিও পাশে বসে যেতে। ও মাছের বা মাংসের যেই টুকরো নিতে চাইত, তুমি ওটা নিতেই বায়না জুড়তে। ওর পাতের খাবারও উঠিয়ে নিয়ে নিজের পাতে রেখে ওকে মুখ ভেঙিয়েছ। ও ঘুমালে, আরুশিকে নিয়ে ওর রুমে বসিয়ে দিয়ে আসতে। আরুশি তখন দুধের বাচ্চা, ঘুম থেকে উঠে মা'কে না দেখলেই কান্নাকাটি করত। তুমি সেই বয়সে, সেই কান্নার সুযোগ নিয়েছিলে, সুবিধাবাদী মেয়ে!
তাছাড়া আরেকটা ব্যাপার, তুমি ছেলেটাকে প্রচুর কপি করতে। ও তখন থেকেই হালকা রঙের জামা-কাপড় পরত। ওর দেখাদেখি তুমিও এখানে থাকার প্রত্যেকটা দিন নিজের সাদা কাপড়গুলো পরেছিলে। আম্মাকে সবাই দিদা-দাদি ডাকলেও, শরৎ বুবুজান ডাকে। তুমিও বুবুজান ডাকতে।
প্রথমবার এসে আড়াইমাস থেকেছিলে। আর সেই আড়াইমাসে এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছ। এর তিনবছর পর আবার এসেছিলে। তখনও নিজের কাহিনি ধরে রেখেছিলে। বিশ্বাস করো, ছেলেটাকে এক চুল ছাড়ও তুমি দাওনি। ও কোথাও যেতে নিলে, তুমিও যাওয়ার বায়না ধরতে। সবসময় পিছু পিছু ঘুরতে। ও উঠে যেদিকে যেত, তুমিও সেদিকে যেতে।
ও বিরক্ত হয়ে বলত, ‘এদিকে আসছ কেন?’
তুমি বলতে, ‘আমার ইচ্ছা।’
তারপর ও আমাকে বিচার দিত। আমি কিছু বলার আগেই তুমি অবাক হয়ে বলতে, ‘আশ্চর্য! ব্যক্তি স্বাধীনতাও নেই?’
ওইটুকুন বাচ্চার এই কাহিনি শুনে আমি হেসে বাঁচতাম না। ছেলেটা তুমি আসার পুরো সময়টা শুরুরদিকে রুমলক করে রাখলেও, এরপর দেখেও না-দেখে থাকত। তারপর সবটা সয়ে নেয়, আর তাল মেলায়। ওর পাতে থেকে তুমি কোনো খাবার তুলে খেয়ে নিলে, ও তোমার পুরো প্লেটটা ধরেই নিয়ে নিত। তুমি ওর সাথে কোথাও যেতে চাইলে, ও নিয়ে যেত। এরপর সেখানেই রেখে বাড়ি ফিরে আসত। যেহেতু ও নিতে চায়নি, জোর করেই যাও, তাই ওর কোনো দায় নেই। তবুও ওকে বকতাম। সন্ধ্যের দিক দিয়ে এলাকার কেউ এসে বাড়িতে দিয়ে যেত তোমায়। তোমার কেঁদেকেটে লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে আমি ওকে আরেক দফা বকতাম।
একবার তুমি ওর ক্রিকেট ব্যাট ভেঙে দিয়ে বাড়ির কোনো এক কোণায় লুকিয়ে পড়েছিলে। সন্ধ্যের আগে ঘরে ফিরে দেখতে পেয়েছিলে তোমার সব ক্লিপস, ব্যান্ডস, নুপুর, ব্রেসলেট ও ভেঙে ফেলেছে। তোমার কান্না তখন বাড়ি কাঁপিয়ে তুলত। আর ছেলেটা দরজা আটকে কানে তুলো গুঁজে পড়াশোনা করত, যেন তোমার কান্নাটা পাশের জমিতে কনস্ট্রাকশনের কাজের শব্দের মতোই এক ব্যাপার। যতদিন আছ হবেই।
সে-বার ও ফ্রিজ থেকে আইস্ক্রিম বের করার সাথে সাথেই তুমি কোত্থেকে এসে ওর হাতের আইস্ক্রিমটা নিয়ে মুখে তুলে ফেলেছিলে। আর বলেছিলে,
-‘আইস্ক্রিম কিউট জিনিস। এটা আমার মতো সুইট মেয়েরাই খায়। বিচ্ছুরা আইস্ক্রিম খায় না, বিচ্ছুরা কেঁচো বা অন্যান্য কীটপতঙ্গ শিকার করে খায়। বুঝেছ? বিচ্ছু কোথাকার!’
তুমি আইস্ক্রিম নিয়ে চলে যেতে নিয়েছিলে, তখনই ও ফ্রিজ থেকে পাঁচ লিটারের পানির বোতল বের করে তোমার মাথায় ঢেলে দেয়। আমি পাশেই দাঁড়িয়েছিলাম, রেগে গিয়ে এটা কী করল জিজ্ঞেস করাতে ও বলেছিল,
-‘বেশি সুইট হয়ে গেছিল। তাই পানি ঢেলে দিলাম।’
তারপর টানা ছ'দিন তোমার জ্বর ছাড়েনি। এই জ্বর নিয়েও একে-অপরকে কোনো প্রকারের ছাড় তোমরা দাওনি। তুমি যেমন ওকে জ্বালিয়ে গেছ, ও-ও জ্বরে পোড়া মেয়েটাকে মায়া দেখায়নি।
আরও অসংখ্য ঘটনা। ওর সাদা টি-শার্টে তুমি কাদা ফেলেছিলে একবার, ও তোমার ব্যাগ থেকে সব সাদা জামা নিয়ে কাদা পানিতে চুবিয়েছিল। সেদিন তুমি কী কান্না!
তোমার কান্না দেখে ওকে যখন বকতে লাগলাম, ও যেন কিছুই করেনি এমন ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার বকা শুনল। আমি হাঁপিয়ে যাওয়া শেষে ও গম্ভীর কণ্ঠে বলেছিল, ‘ব্যক্তি-স্বাধীনতার অভাব পড়ে গেছে বাড়িতে, হুহ!’
তোমাদের দুইটার জ্বালায় সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলাম, বুঝেছ?”
প্রিয় এতক্ষণ গালে হাত দিয়ে শাহানাজের কথা শুনছিল। তাঁর বলা শেষ হতেই প্রিয় লাফিয়ে ওঠে,
-“বড়োমা, ওটা আমিই ছিলাম তো? নাকি অন্য কেউ? আমার টুইনস টাইপের কেউ আছে নাকি?”
-“তুমিই ছিলে!”
-“কী বলো! ইশ! কী কিউট ছিলাম!”
প্রিয়র কথা বলার ধরন দেখে শাহানাজ হো হো করে হেসে ওঠে।
______
বিকেলের দিকে যখন শরৎ বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় প্রিয় কোত্থেকে যেন উদয় হলো চুলটা বাঁধতে বাঁধতে। প্রিয়কে ওর সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে দেখে শরৎ থেমে দাঁড়ায়। প্রিয় ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-“কী?”
শরৎ-ও প্রশ্ন করে,
-“কী?”
প্রিয় হাতের ইশারায় বলল,
-“চলেন।”
চলবে..
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *