ফোন পিক করেন, প্রিয়শ্রী। আপনারই বাসার বাইরে আছি।”
নম্বরটা অপরিচিত, ট্রু কলারে কলার আইডি দেখাচ্ছে। ম্যাসেজটা শ্রেয়ানের। পরপরই তার কল। প্রিয় অনুত্তেজিত অবস্থায় কল রিসিভ করল। ওপাশ থেকে শ্রেয়ান সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“কী খবর? কোনো ম্যাসেজ-ট্যাসেজ নেই? রাগ নামেনি, না?”
প্রিয় প্রলম্বিত শ্বাস টেনে হাসে,
-“তোমার প্রতি রাগ নেই আমার, শ্রেয়ান।”
থেমে নিয়ে আবারও বলে ওঠে,
-“তোমার প্রতি আমার আর রাগ নেই, অভিমান নেই, অভিযোগ নেই। সত্যি বলছি, তোমার জন্য আর দু'চোখে মুগ্ধতা নেই, আবেশ নেই, প্রেম নেই... খেয়াল করে দেখো, কিচ্ছুটি নেই।”
প্রিয়র কথা শুনে শ্রেয়ান চুপ মেরে গেল। প্রিয় আবার বলল,
-“তোমার খবর কী?”
মিনমিনে স্বরে শ্রেয়ান বলল,
-“তোমাকে ছাড়া একটুও ভালো নেই। ঘুম আসে না, খেতে ইচ্ছে করে না। কেবল তোমার কথা মনে পড়ে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। ইচ্ছে করে তোমাকে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখি। দূরত্ব এত বিশ্রী কেন, প্রিয়শ্রী?”
প্রিয়র হাসি মলিন হয়ে এলো। শ্রেয়ান বলতে লাগল,
-“তুমি পালটে গেলে কেন? আমার প্রিয় তো ফুল ছিল, তুমি কেন পাথর হলে? আগের মতো হয়ে যাও প্লিজ, খুব মিস করি তোমায়। জানো? রাস্তায় হাঁটতে গেলেও তোমার কথা মনে পড়ে, এই শহরের প্রায় সব রাস্তাতেই আমাদের ঘোরা হয়েছিল। ফোন হাতে নিলে ভুলক্রমে ইনবক্স চেক করি, রিসেন্ট কল চেক করি। তোমার কল-ম্যাসেজ না পেলেই বুকটা ভেতর থেকে ভারি হয়ে আসে। এরকম কেন করছ? এত বেশি ভালোবাসি, এর বিপরীতে কষ্ট কেন দিচ্ছ?”
প্রিয় সবটা শোনে। ছোট্ট করে প্রশ্ন করে,
-“কষ্ট হচ্ছে?”
ত্বরিতে স্বীকার করে শ্রেয়ান,
-“ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, প্রিয়শ্রী! তোমাকে ছাড়া আমি ভালো নেই, একটুও না। প্লিজ, দেখা দাও। তারপর আমাকে মারো-কাটো সব করো। শুধু কাছে থাকো।”
প্রিয় বলে ওঠে,
-“প্রকৃতি কিছুই ভোলে না, শ্রেয়ান। তুমি কারো সাথে কোনো জুলুম করলে, ঘুরে-ফিরে একই জুলুমের শিকার তুমি নিজেও হবে। ব্যাপারটা হতে আমি অবগত। তাই বাড়তি করে ভেতর থেকে কোনো শাপ আসেনি। কিন্তু প্রকৃতি যে এত জলদি আমাকে ন্যায্যতা দেবে, আমি বুঝতেই পারিনি! তাও কি-না আমার মাধ্যমেই!”
-“প্রিয়শ্রী!”
শ্রেয়ানের কম্পিত জবাব। প্রিয় স্থিরচিত্তে বলে,
-“হু..?”
-“ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।”
-“আমিও বাসি, শ্রেয়ান।”
-“তবে ফেরো আরেকটিবার। এদিক চেয়ে দেখো, আমি মুখিয়ে আছি...”
প্রিয় চোখ বুঁজে নেয়, টলমল করা অশ্রুগুলো আলগোছে কার্ণিশ ভিজিয়ে দেয়। এদিক-ওদিক তাকায় তা গোপন করার অভিলাষে। সফল হয় অবশ্য। স্থির-শান্ত প্রিয় খানিকটা পর বলে ওঠে,
-“আমার খুব ইচ্ছে করে তোমার কাছে ফিরতে।”
শ্রেয়ানের মুখ তৎক্ষনাৎ উজ্জ্বল হয়ে আসে। সে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই প্রিয় জানায়,
-“কিন্তু আমি ফিরব না।”
বুক চিরে বেরিয়ে আসতে দীর্ঘশ্বাসেরা তখন তাণ্ডবে মত্ত, শ্রেয়ানের কণ্ঠও ভেজা। সে উৎকণ্ঠিত গলায় শুধায়,
-“কেন?”
ফিসফিসিয়ে প্রিয় বলে,
-“কারণ মানুষের সব ইচ্ছে পূরণ হতে নেই, পূরণের আশায় থাকতে নেই, পূরণের অভিলাষে মজতে নেই...”
বলার আর কিছু বাকি থাকল না শ্রেয়ানের। আরেকবার শুধাতে চাইল, দেখা করার কথা। কিন্তু নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ হিসেবে সে কখনই ভাবতে পারে না বলে এরকম করতে পারছে না। তবুও বার বার প্রিয়র কাছে ছুটে আসছে। মেয়েটাকে ছাড়া সত্যিই সে ভালো নেই। খুব চায়। হয়তো সারাটাক্ষণ না, কিন্তু যখন মনে পড়ে, তখন চাওয়া-পাওয়ার হিসেবেরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
শ্রেয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আপনমনে প্রিয় বিরবির করতে লাগল,
-“তুমি প্রচণ্ড সুখী হও, শ্রেয়ান। লেবু মাত্রাতিরিক্ত চিপলে তেতো হয়ে যায়, তোমার সেই প্রচণ্ড সুখও একদিন তোমার কাছে বিশ্রী ঠেকুক। সুখের সংসারে তুমি চোখ বন্ধ করলেই যাতে দেখতে পাও, একটি মেয়ের হাহাকারের কারণ ছিলে তুমি। অনুতপ্ততা বোঝো? শ্রেয়ান, তুমি অনুতপ্ত হও। মন থেকে। সেই অনুতপ্ততা আজন্মকাল স্থায়ী হোক।”
শ্রেয়ান সবটা শুনতে পেল না। বোঝার তাগিদে শুধাল,
-“কী বললে?”
-“আমাকে আর কল করবে না, শ্রেয়ান।”
শ্রেয়ান তাতে খামোকাই অভিমানের সুর খুঁজল, মস্তিষ্কের ভ্রম সেখানে অভিমানটা দেখিয়েও দিলো। একবুক শ্বাস টেনে তাই বলল,
-“করলে কী হবে?”
-“আমি দূর্বল হয়ে পড়ব আবারও..”
-“আমি চাই তুমি দূর্বল হও।”
-“আমি চাই না।”
-“কারো প্রতি দূর্বলতা সাংঘাতিক জিনিস, না চাইলেও তুমি ফিরবেই।”
-“দূর্বলতা গলা চেপে ধরায় নিঃশ্বাস রোধ হোক, মৃত্যু হোক.. আমি ফিরব না।”
শ্রেয়ানের বুকটা ধুক করে উঠল। ওদিকে প্রিয় ততক্ষণে কলটা ছেড়েছে। পা ভেঙে বসে পড়েছে মেঝেতে। শূন্য দৃষ্টিতে মাথা নুইয়ে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতরটা দ্রিমদ্রিম শব্দে চিৎকার করছে। অথচ সে শান্ত! প্রিয়শ্রী জানে, ব্যথাটা কত গভীর! হয়তো সে ফিরতে পারত, হয়তো সে শ্রেয়ানকে আরেকটা সুযোগ দিতেই পারত। কিন্তু তা সম্ভব নয়। প্রশ্ন আসে—কেন সম্ভব নয়? উত্তরে একটা কথাই বারংবার উঁকি মেরে বসে, “অসুস্থ ভালোবাসার ন্যায় কুৎসিততম অনুভূতি কেউ না পাক..”
রুমে প্রবেশ হলো নীহিনের। প্রিয় স্তব্ধ বসে আছে। নীহিন প্রিয়কে এরূপে বসে থাকতে দেখে অস্থির পায়ে এগিয়ে এলো। উত্তেজিত গলায় জিজ্ঞেস করল,
-“প্রিয়দি, কী হয়েছে?”
প্রিয় চুপ হয়ে চায় ওর পানে, নরম স্বরে বলে,
-“একা থাকতে দেবে একটু?”
থমকে যায় নীহিন। প্রথমে কিছু বলতে গেলেও, পরবর্তীতে ওকে ছেড়ে রুম থেকে বেরোয়। প্রিয় উঠে চলে যায় মনোহরার কাছে। মনোহরা পানের বাটা সাজাচ্ছিলেন চেয়ারে বসে বসে। প্রিয় তাকে দেখে বলল,
-“বুবুজান, আসি?”
মনোহরা তাকালেন ওর দিকে,
-“আসুন।”
প্রিয় এগিয়ে গিয়ে মনোহরার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল। কোল থেকে পানের বাটাটা সরিয়ে টেবিলের ওপর রেখে কোলে নিজের মাথা গুঁজল। মনোহরা হেসে চুলে হাত বোলাতে লাগলেন,
-“মন খারাপ?”
-“খুব।”
-“কেন?”
-“ও ফোন করেছিল।”
মনোহরাকে সেদিনই শ্রেয়ানের বিষয়টা প্রিয় খুলে বলেছিল। মনোহরা শুরুতে কিছুটা কঠোর হলেও, পরে নিজের কোমলতা ওকে দেখিয়ে বলেন, ‘জীবন থেকে সর্বদা ভালো কিছুই যে পাবেন, এমনটা নয়। ভালো-খারাপ যাই পাবেন, শিক্ষা নেবেন। এটাই বেঁচে থাকার মূল উদ্দেশ্য।’
মনোহরা বললেন,
-“কল দিয়েছিল তো কী হয়েছে?”
-“ফিরতে বলছে।”
-“আপনি রাজি?”
-“না।”
-“কেন না?”
-“সেখানে সুখ নেই, বুবুজান। ”
-“তো জড়িয়েছিলেন কেন?”
-“ভুল ছিল..”
-“এখন সঠিক করছেন?”
-“বোধহয়।”
-“তবে উদাসীনতা কীসের?”
-“নিজের প্রতি প্রবল অবিশ্বাস আমার। আশঙ্কায় বুকটা কাঁপে। আবারও যদি একই ভুল করে বসি? আবারও যদি তার চোখে চোখ রাখি? আরও একবার যদি তার প্রেমে পড়ে যাই?”
-“প্রেমে পড়া এতই সহজ, প্রিয়শ্রী?”
-“তার প্রতি আমার এক আকাশ সমান দূর্বলতা আছে।”
-“দূর্বলতা কাটিয়ে উঠুন।”
-“কীভাবে?”
-“নতুন কারো সাথে জড়িয়ে যান।”
প্রিয় আঁতকে ওঠে সঙ্গে সঙ্গে,
-“অসম্ভব, বুবুজান।”
-“কেন?”
প্রিয় ভাবে, তবে এই কেনর উত্তর তার জানা নেই। প্রিয়কে চুপ হয়ে যেতে দেখে মনোহরা খানিকটা হেসে বললেন,
-“আরেকটিবার সম্পর্কে জড়ালে কি মন্দ হবে?”
-“ভয় করে, বুবুজান।”
-“কীসের ভয়?”
-“সেই কান্না, সেই ফোঁপানো, সেই শ্বাসকষ্ট, সেই বুকে ব্যথা, সেই রাতজাগা, সেইসব যন্ত্রণা! আমি ভাবতে পারছি না আর.. সেকেন্ড টাইম নেওয়ার সাহস করি কী করে? বুবুজান, কাঁদতে কাঁদতে শ্বাসে টান লাগত, চোখ উলটে আসত, বুকের সেই তীব্র ব্যথা! গলা দিয়ে চিৎকারও আসত না। আমি সেকেন্ড টাইম পারব না আর..”
চুলে বিলি কাটতে থাকা হাতটি ক্ষণকালের জন্য থমকে যায় মনোহরার। পরপরই চলমান হয় পূর্বের ভঙ্গিমায়। কোমল স্বরে বলেন,
-“শিক্ষা পেয়েছেন? মানুষ চেনার শিক্ষা? ভুল মানুষকে ভালোবাসার পরিণতির শিক্ষা? অনুভূতির খেলার জঘন্যতার শিক্ষা? পেয়েছেন?”
-“পেয়েছি।”
-“এগোন। আর ভুল করবেন না।”
-“বুবুজান..”
-“আজই বলছি না। নিজেকে গুছিয়ে নিন। আমি আপনার বাবা-মায়ের সাথে বাকিটা কথা সেরে নেব।”
-“জি আচ্ছা।”
-“এখন রুমে গিয়ে রেস্ট করুন, ভালো লাগবে।”
-“আচ্ছা বুবুজান, আসছি।”
প্রিয় নিজের রুমে চলে যায়। মন খারাপের রেশটা অনেকাংশেই কমেছে। রুমে এসে বসতেই, করিডোরের দরজায় করাঘাত হলো। বিরক্তিতে প্রিয়র কপাল কুঁচকে এলো। আলস্যতা নিয়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলল। সামনে শরৎ। প্রিয়র কুঁচকানো কপালের ভাঁজ আরও গভীর হলো। শরৎ বলল,
-“নীহিন ডেকে যায়নি?”
কপাল শিথিল হলো প্রিয়র লোকটার আসার উদ্দেশ্য জানতে পেরে। বড়ো ভাব নিয়ে বলল,
-“ওলে বাবালে! আমি যাচ্ছিলাম না বলে একা লাগছে আপনার? তো আগে বলবেন না, ইউ আর মিসিং মি.. আমি এক্ষুনি যেতাম। চলুন যাই।”
প্রিয় শরৎকে পাশ কাটিয়ে হাঁটা দিলো। শরৎ দু-ধারে মাথা নেড়ে ওর পিছে পিছে আসতে লাগল। সামনে প্রিয় এগোচ্ছে। ফুল স্লিভস ফোল্ড করে নিল প্রিয়, খুলে যাওয়া চুলগুলো কাটার সাহায্যে উঁচুতে কোনোরকম আটকে ফেলল। বাঁধা অমান্যকারী বেশ কতকগুলো চুল কপালের দু'পাশ হয়ে নেমে আছে।
শরৎ তা লক্ষ করে নিজের ট্রাউজারের পকেটে গুঁজে রাখা হাতদুটো বের করল। পরনের লাইট গ্রে কালারের টিশার্টের স্লিভস ফোল্ড করতে লাগল। বাঁ হাত দিয়ে চুলে ব্যাকব্রাশ করল।
প্রিয় হাঁটতে হাঁটতেই বলল,
-“এখন কে কাকে কপি করছে?”
শরৎ কপাল কুঁচকে হাতের ডানে তাকাতেই, জানালার গ্লাসে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল। নিজের পক্ষ নিয়ে বলল,
-“আপনার মতো কুর্তার হাতা গুঁজছিলাম নাকি আমি? দেখতে তো পাচ্ছি, আমি একটা সো ড্যাম হট টিশার্ট পরে আছি। আপনি কি অন্যকিছু দেখতে পাচ্ছেন? তাহলে তো সমস্যা। এই দেখুন তো, এখানে কয় আঙ্গুল?”
এটা বলে প্রিয়র চোখের সম্মুখে নিজের ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল তুলে ধরল। প্রিয় ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলল,
-“নিজেকে এই সাদা শার্ট পরে হিরো ভাবেন? হট হিরো? সরি! লাগছেন না।”
শরৎ প্রিয়র কথায় ভুল ধরল,
-“প্রথমত হিরো ভাবার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ আমি হিরোই, হ্যান্ডসাম-হট হিরো। অস্বীকার করতে পারবেন না। আর এটা শার্ট না, টিশার্ট। তাও সাদা নয়; লাইট গ্রে। আপনার চোখে আসলেই সমস্যা আছে।”
-“এই যে, মশাই! সাদাকে সাদা বলতে শিখুন। দীর্ঘদিন নীল রঙ মেরে, রঙ মরে যাওয়া সাদা শার্টকে এমনই দেখায়।”
শরৎ হাসে,
-“অভিজ্ঞ আপনি?”
-“সত্যে অভিজ্ঞ। কে সত্য বলল না বলল, তা বুঝি।”
-“মিথ্যে ধরতে পারেন, প্রিয়?”
শরতের আওয়াজ হুট করেই নরম হয়ে আসে। প্রিয় তাকায় শরতের দিকে,
-“মিথ্যে ধরতে পারি।”
-“আর মিথ্যেবাদীদের?”
-“পারি না।”
নিজের অপারগতা বিনা দ্বিধায় স্বীকার করে নিল প্রিয়। শরৎ বলল,
-“আপনার ছোটবেলার ঘটনাটা মনে আছে? আপনার খালামণি ছোটবেলায় সেটা আমাদের প্রায়ই শোনাত।”
-“কোনটা?”
শরৎ মুচকি হেসে বলে,
-“ছোট বাচ্চারা হামাগুড়ি দিয়ে খেলতে পছন্দ করে, দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে, বাবা-মাকে প্রচুর জ্বালায়। অথচ আপনি ওমন কিছুই করেননি। এইজন্য আঙ্কেল-আন্টি আপনাকে নিয়ে প্রচুর টেনশন করত। আপনার ফার্স্ট বার্থডেতে আপনি খাটের শেষাংশ ধরে ধরে হেঁটেছেন, প্রথমবার নিজের পায়ে ভর রেখেছেন এভাবে। তারপর পড়ে গেছেন, তারপর আবার উঠেছেন, আবার হেঁটেছেন। এভাবেই অনেকটা সময় কেটেছে। আপনি ফ্লোরে মুখ থুবড়ে পড়ার সময় চোখ-মুখ কুঁচকে কাঁদার ভঙ্গিমা করেছিলেন অবশ্য, তবে কাঁদেননি। পড়েছেন, উঠেছেন, আবার পড়েছেন আর শিখেছেন।”
প্রিয় হা করে শুনছিল৷ এটা সে জানে। এই কথাটা সবার মুখেই শুনেছে। শরৎ প্রিয়র দিকে তাকিয়ে আবার বলল,
-“লাইফ আপনাকে আপনার ফার্স্ট বার্থডেতেই জীবন চলার শিক্ষাটা দিয়ে দিয়েছিল। আপনি ভুললেন কী করে?”
প্রিয় হোঁচট খায় সিঁড়ির সামনে এসে। শরৎ একহাতে ত্বরিতে ওর বাঁ হাতটা টেনে ধরে উঁচু গলায় বলে ওঠে,
-“সাবধানে!”
প্রিয় নিজেকে সামলে নিয়ে শরতের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। ঠিক সেই মুহুর্তেই শরৎ প্রিয়র বাঁ-হাতে অসংখ্য কাটাকাটির দাগ এক ঝলকে দেখতে পায়। কিছু দাগ খুব পুরোনো, কিছু দাগ তারও অধিক পুরোনো। আঁড়াআঁড়িভাবে, লম্বালম্বিভাবে, সবভাবে অসংখ্য দাগ। প্রিয় অপ্রস্তুত হয়ে স্লিভস ঠিক করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়। অসংখ্যাত প্রশ্নের দানা বাঁধতে থাকে শরতের মনে।
চলবে..
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *