Buy Now

Search

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-০৯]

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-০৯]

সকাল থেকে ফারজাদ ব্যস্ত। দৌড়াদৌড়ির মাঝে সকালের খাওয়াটা হয়ে ওঠেনি তার। বেলা এগারোটা বেজে গেছে। ডেকোরেটরের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ফারজাদ সেদিকেই তদারকি করছে। বাঁশ, খুঁটি কোথায় কোনটা গাঁড়বে, কয়টা টেবিল বসবে এসবের জন্য ছোটাছূটি তার ভালোই করতে হচ্ছে। লাবন্যকে বসিয়ে রাখা হয়েছে উঠানের একপাশে চেয়ার পেতে। ভাবীরা ঘিরে ধরে মেয়েটার নখ কেটে দিচ্ছে, তো কেউ পাশেই বসে হলুদ ও মেহেদী পাতা বাটছে। ফারিন ও ফিরোজা বরপক্ষের লোকদের জন্য বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরী করতে বসেছে চুলোয়। ভেতরে সিলিন্ডার গ্যাসে আরও সব রান্না বসানো হয়েছে।
হাসি-আমেজে পূর্ণ আশপাশের মাঝে সজল চোখে তাকিয়ে আছে লাবন্য ফারজাদের দিকে। না না, তার আফসোস নেই! সে আর ফারজাদকে চায় না, তবে কোথাও যেন ছিঁড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা হচ্ছে তার ভেতরে। মায়ার বাঁধন ছেঁড়ার যন্ত্রণা বুঝি! এতদিন যে পুরুষটাকে যতনে নিভৃতে বুকে পুষে রেখেছিল মেয়েটা, সেই পুরুষটিকে চিরতরে মুক্ত করে দেওয়ার সময় বুঝি ঘনিয়ে এলো। কোন পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে রেখে তাকে রোজ দানা-পানি খাওয়াতে খাওয়াতে যে অভ্যাস, মায়া, টানটা জন্মে, সেই পাখিটি খাঁচা ভেঙে পালালে বা কোন কারণে তাকে নিজ হাতে খাঁচা ভেঙে মুক্ত করলে যে সূঁচাল ব্যথারা আন্দোলনে লিপ্ত হয়, আজ লাবন্যর তাই-ই হচ্ছে। আজকের পর থেকে আর কোনদিন এই পুরুষটির দিকে মনের নরম টানে তাকানো হবে না, আর কখনও তাকে পাওয়ার অভিলাষ করা হবে না, আর কোনদিনই তাকে একদিন চেয়েছিলাম—এ কথা স্বীকার করার সুযোগ থাকবে না। মনের গহীনে দাফন হয়ে যাবে এই ব্যর্থ চাহিদাটুকু।
ভেবে বুকটা হাহাকার করে উঠল—যেন মরুভূমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে পানির অভাবে প্রাণটা বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে কোন বেদূইনের যেমন জীবনের প্রতি একটা মায়া অনুভব হয়। মনে হয়, আজ একটু পানি পেলে হয়ত বেঁচে যেতাম, আর কিছুদূর হাঁটতে পারতাম এই তপ্ত মরুতে। উহু, তপ্ত– তবে মরু নয়। এ যে প্রেমের মতো প্রবাহমান অনুভূতি, তাই এটা সমুদ্র-সরোবর। এ হলো— তপ্ত সরোবর!
অথচ লাবন্য চায়না আর। এই পুরুষটিকে আর চায়না। সে ভাগ্যে বিশ্বাসী, তার জন্য ভালো কিছু আছে। সে এই অনুভূতিটাকে ভালোবাসা বলতে চায়না। চোখ ফিরিয়ে নিলো। হাতের মেহেদী শুকিয়ে গেছে প্রায়। সেদিকে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল। দু'হাত ভর্তি মেহেদী, বেশ কয়েক ঘন্টা বসে থেকে একঘেয়েমি লেগে গেছে, তবুও কিছু করার নেই। কয়েকটা দিন এভাবেই বিরক্তিকর পরিবেশে কেটে যাবে। মূর্তির মতো বোঝাই বোঝাই কাপড়-চোপড়, গয়না, সাজ শরীরে ঝুলিয়ে বসে থাকতে হবে।
সে চারদিকে তাকিয়ে দ্বিজাকে খুঁজল। মেয়েটার অভিমান খুব প্রকাশ্য! লাবন্য হাসল মনে মনে। পাগলি মেয়ে, বয়সটা এখনও পরিণত হয়নি। নিজেকে সামলে নিতে কষ্ট হচ্ছে খুব পাগলিটার! নিপাকে ডেকে বলল, দ্বিজাকে ডেকে আনতে। নিপা ঘুরে এসে বলল, দ্বিজা আপু তোমার ঘরের বারান্দায় বসে মেহেদী লাগাচ্ছে হাতে। লাবন্য বুঝতে পারে, যাতে কেউ বিশেষ করে দিলরুবা ফুফু সন্দেহ না করতে পারে, তাই এই প্রচেষ্টা মেয়েটার। ফারিন বলে উঠল, “সকলে এইখানে মেহেদী লাগাইতেছে, মেডাম একা একা ভাব ধরছে ক্যান? যা যাইয়া বল, আমি ডাকতেছি। না আসলে কান ধরে টেনে নিয়ে আসব।ʼʼ
কিছুক্ষণ পর দ্বিজা এলো। মুখে তার কৃত্রিম হাসি ঝুলে আছে। যা লাবন্য ছাড়া সকলকে ধোঁকা দিতে কার্যকরী।
ফারজাদকে বাগান থেকে ধরে-বেঁধে টেনে নিয়ে এলেন আজাদ সাহেব, খিস্তি ঝারছেন বিনা থেমে—দামড়া ছেলে, সকাল থেকে না খেয়ে লেগেছে কাজে। এত বড়ো ব্যাটাছেলের পিছনে খাবার নিয়ে দৌঁড়ানো সাজে এখনও?
ফারজাদ বিরক্তিতে চোখ-মুখ জড়িয়ে আছে। আজাদ সাহেব একটা চেয়ারে জোর করে বসিয়ে এক লোকমা খিচুড়ি মুখে তুলে দিলেন। দৃশ্যটি উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। বাবা-ছেলের আত্মিক সম্পর্ক বোধহয় একেই বলে। বয়স এখানে আসলেই কেবল সংখ্যা। বাপ-মায়ের কাছে আবার সন্তান বড়ো হয় নাকি! সারাদিন এই ফারজাদ সকলের সাথে খিটখিট করবে, বিশেষ করে বাপ-মায়ের সাথে। দিনশেষে বাপ-মা যেমন এই গোমরামুখোতে বেজায় দুর্বল, তেমন ফারজাদের ক্ষমতা নেই এই দুটো মানুষকে এড়িয়ে চলার। ফারহানা বেগম ভেতর বেরিয়ে এসে দেখলেন আজাদ সাহেব শুকনো খিচুড়ি খাওয়াচ্ছে ফারজাদকে। সে খাবার মুখে নিয়ে কোলের ওপর খাতা রেখে কিসের হিসেব কষতে বসেছে। দই ও সফ্ট-ড্রিংকস আনা হয়নি এখনও। ফারহানা বেগম বাবুর্চিদের কাছ থেকে কয়েক পিছ কষা মাংস এনে প্লেটে দিলেন। ফারিন চেঁচিয়ে ওঠে,
“আম্মা! এইটাকেই বলে সন্তান বৈষম্য। আপনাদের কোন বিবেক আছে নাকি? ওই হারামজাদা করছেটা কী সকাল থেকে। আমি এই-যে চুলার পাশে বসে বড়া ভাজার সাথে সাথে নিজেও ভাজা হয়ে যাচ্ছি, কই আমি তো এরকম খিচুড়ি-মাংস অফার পাইলাম না। আসলে এইদেশ থেকে ছেলে-মেয়ের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ কোনদিন যাবে না।ʼʼ
শেষের কথাটা ফারিনের ন্যাকা আর ঢঙ্গি কান্নার মতো শোনাল। তাতে উঠোনে উপস্থিত সকলে হো হো করে হেসে উঠল। ফারজাদ-ফারিন পিঠাপিঠি হওয়ায় এদের দুজনের কোনদিন বনিবনা হয়না। ফারজাদ হঠাৎ-ই তার বিরল হাসিটা ঠোঁটে চেপে ভাব নেওয়ার ভঙ্গিতে কলার উচিয়ে চেয়ারে গা এলিয়ে বসল আরেকটু। তাতে সকলে আরও খানিকটা হেসে উঠল ফারিনের ওপর। ফারিন মুখ ফোলাতে গিয়ে নিজেও হেসে ওঠে ফিক করে।

বরপক্ষের খাওয়া প্রায় শেষের দিকে। লাবন্যর সাজও শেষ, শড়িটা পরানো হচ্ছে তাকে। দ্বিজা চুপচাপ বসে আছে লাবন্যর পাশেই। তার পাশে ইরফানের বোন ইমা সব স্বর্নের গয়না ও ও বাড়ি থেকে আসা জিনিস বুঝিয়ে দিচ্ছে। ঘরে উপস্থিত সকলে আনবরত ঠাট্টা-তামাশা করছে, তাতে দ্বিজা তার বানোয়াট হাসিটা হাসছে মুহুর্তখানেকের জন্য। এরপর আনমনে উদাসী চোখে চেয়ে আছে লাবন্যর দিকে। শাড়ি পরানো শেষ হলে লাবন্যর মাথায় ঘোমটা লাগানোর মাধ্যমে তার প্রস্তুতি শেষ হলো। কিছুক্ষণ বাদের ভিড় কমিয়ে ঘরে ঢুকলেন কাজী সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে আজাদ সাহেব, লাবন্যর বাবা, ফারজাদ, দিলরুবা, আফসানা বেগম আমিনা বেগম সহ বাড়ির অভিভাবকেরা সকলেই। ফারজাদের গায়ে সাদা টিশার্ট। ছেলেটা সারাদিন গোসল করারও ফুরসত পায়নি। গলায় ঝুলছে লাল গামছা। তা দিয়ে ক্লান্ত মুখটা মুছে নিলো। লাবন্য কয়েক মুহুর্তের জন্য চোখ তুলে তাকায় ফারজাদের দিকে। হঠাৎ-ই মনে হলো, শেষবারের মতো দেখছে ফারজাদকে সে। আসলেই তো! কিছুক্ষণের মধ্যে অন্য পুরুষের হালাল স্বীকৃত স্ত্রী হয়ে যাবে। তারপর কি আর কোনদিন ফারজাদের দিকে প্রেমময় নজরে তাকানোর বৈধতা থাকবে?
লাবন্য দ্রুত চোখটা নামিয়ে নেয়। চোখ ভরে উঠেছে, লোকে দেখে ফেলার ভয়! আজ সে এ বাড়ি থেকে তিন কথায় পর হয়ে যাবে। আর সকালে উঠে বড়ো মার হাতের এক কাপ চা আর দুটো টোস্ট বিস্কুট খাওয়া হবে না। বিকেলে বড়ো আব্বার সঙ্গে পুকুর পাড়ে মাছের খাবার দিতে যাওয়া হবে না। ফারজাদের রুমটা সকাল সকাল উঠে গুছিয়ে রাখতে যাওয়া হবে না। আজ থেকে নতুন বাড়ি, নতুন সম্পর্ক, নতুন জীবনযাপন! এ বাড়ির অতিথি হতে আজ তাকে কবুল বলতে হবে। আফছানা বেগম ডুকরে কেঁদে উঠলেন। সকলের চোখের কোণই সজল জলে চিকচিক করে উঠেছে। লাবন্য তো জোরে কাঁদতে পারে না। মেয়েটা মোটেই চিৎকার করে ব্যথা প্রকাশ করতে জানে না। আজও কেবল ঝরনার মতোন জল গড়িয়ে পড়ল চোখ বেয়ে।
দ্বিজার চোখে পানি, তা লুকোতে সে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। হঠাৎ-ই চোখ পড়ল ভিড়ের এককোণে একটা ছেলে একদৃষ্টে চেয়ে আছে দ্বিজার দিকে। চট করে মস্তিষ্ক ধরে ফেলল এটা ওয়াহিদ না? দ্বিজা এলোমেলো দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।
মেয়েদের জীবনটা বোধহয় এমনই। এর থেকে ওর হাতে স্থানান্তর হতে হতেই ফুরিয়ে যায়। আজ বাবার হাত থেকে স্বামীর হাতে যাচ্ছে! ঘরটা একটু ফাঁকা হয়ে গিল কাজী সাহেব বিয়ে পড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর। দ্বিজাও হঠাৎ-ই উঠে চলে গেল সেখান থেকে। দু-একজন মুরুব্বী ও ছোটো ছেলে-মেয়েরা বসে আছে। অন্য সকলে আসছে যাচ্ছে। ফারজাদ বের হলো না। লাবন্যকে বিষ্মিত করে পাশে এসে বসল আস্তে করে। লাবন্য তাকায় না, নিজের বাঁ হাতের স্বর্নের মোটা বালার দিকে তাকিয়ে আছে, যেটা ইরফানের বাড়ি থেকে দেওয়া হয়েছে। ফারজাদ হঠাৎ-ই বলে ওঠে,
“সুন্দর লাগছে তোকে দেখতে বউ সেজে।ʼʼ
বুকের রক্ত ছলকে দেওয়া কথাখানি! লাবন্য দম আটকে যায় এখানেই। কয়েক মুহুর্ত পরে দম ছাড়ল। তবে চোখ তুলে তাকাল না সে ফারজাদের দিকে। পারবে না ও।
“কষ্ট পেয়েছিস আমার থেকে? বোকার মতো প্রশ্ন করছি তাই না? তোরা অন্যকিছু আশা রাখিস কেন? আমি তো কষ্ট ছাড়া কিছু দেওয়ার সামর্থ রাখি না। সৃষ্টিকর্তা মানুষের কাছ থেকে এমন বহু জিনিস কেড়ে নেয়, যা তাৎক্ষণিক খারাপ লাগলেও, পরে বোঝা যায়–এটাতে মঙ্গল ছিল। এর বদলে উত্তর কিছু দিয়েছেন রব। ইরফান তোর জীবনে সেই মঙ্গল। যেটা তুই আমার মতো ফালতু লোকের পরিবর্তে পেয়েছিস। ইরফান ভালো, তুই কিছুদিন ওর সঙ্গে থাকলে বুঝতে পারবি আমার আর ওর পার্থক্যটা।ʼʼ
হঠাৎ-ই ফারজাদ একটু মলিন হাসল। তাকে দেখতে আর পাঁচটা মানুষের মতো আবেগী লাগল এক মুহুর্তের জন্য। হেসে বলল, “আজ থেকে এ বাড়ির জ্ঞানী মেয়েটাকে হারিয়ে ফেললাম। যার সঙ্গে বেশ ভালোই কথা জমতো আমার।ʼʼ
এ পর্যায়ে ঠোঁটটা ভেঙে এলো লাবন্যর। নিয়ন্ত্রণ থাকছে না নিজের প্রতি। এ প্রেমের নয়, এই ব্যথা বুঝি মায়ার। চাচাতো ভাই নামক এই মুখোশধারী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষটির প্রতি ছোটোবেলা থেকে জমে থাকা মায়ার বিচ্ছেদের ব্যথা। ফারজাদ আবার বলে, “ভালো থাকবি তুই, লাবন্য। আমার কামনা রইল। যেটুকু কষ্ট পেয়েছিস আমায় ঘিরে, তার কারণ যতটুকু আমি, হিসেব করে ততটুকু ক্ষমা করে দিস। আমি তোদের সকলকে অনেক ভালোবাসি বোধহয়। কিন্তু ওই-যে, আমার স্বভাব!ʼʼ
আচমকা লাবন্য ফারজাদের বাঁ-হাতটা চেপে ধরল। ফারজাদ ছাড়ালো না, কোন প্রতিক্রিয়া দেখাল না। লাবন্যর চোখের কাজল লেপ্টে ছড়িয়ে গেছে চোখের চারপাশে। ফুপিয়ে কাঁদছে মেয়েটা। ফারজাদ মৃদুহাস্য নজরে তাকায় সেদিকে। লাবন্যকে বোধহয় প্রথম কাঁদতে দেখা গেল, আর তা দেখল ফারজাদ। এদের সম্পর্কটাই এমন। দুজনেই চাপা স্বভাবের, এজন্য এ দুজন দুজনের কাছে খোলা বইয়ের মতো ছিল। লাবন্য কান্না মেশা স্বরে বলে,
“এসব কেন বলছেন, ফারজাদ ভাই! লাবন্যর সাধ্যি কোথায় ফারজাদকে অপরাধে বাধিয়ে রাখে। ফারজাদের অপরাধগুলো ধরা গেলে লাবন্য তার প্রেমে পড়ত নাকি কোনকালে? আপনাকে আমি জানি, আর কেউ না বুঝুক আমি চিনি। আপনার আমার সম্পর্কের নাম নেই, এ এক আজব নীরব বন্ধন, যার কোন পরিণতি নেই। পরিণতি এলে এ সম্পর্ক শেষ হয়ে যেত সেদিনই। পরিণতি হবে না, বিধায় চিরদিন আমি-আপনি বেধে থাকব এই নাম না থাকা রহস্য সম্পর্কে। আমি নিজেও মাঝেমধ্যে বুঝি আপনার ওপর আমার এই অনুভূতি প্রেম বা ভালোবাসা নয়, এ হলো একে-অপরকে বোঝা ও জানার মায়া। শুধুই অদমনীয় মায়া!ʼʼ

বাড়িটা শোকে ছেয়ে গেছে যেন। মেয়ের বিয়েতে মেয়ে বিদায়ের পর এ এক পরিচিত দৃশ্য বটে। বাড়ির লক্ষী বাড়ির বাইরে কদম রাখে সকলকে শূন্যতার হাহাকারে ডুবিয়ে। আফছানা বেগম যতটুকু কাহিল হয়ে পড়েছেন, ফারহানা কম নয়। বাড়িটা নিশ্চুপ, বাইরে কুয়াশায় ঢাকা। পুরুষেরা কাজবাজ সামলে। বাকি কাজ লোকের হাতে সঁপে এসে বিছানায় গা এলিয়েছে।
ফারজাদ সেই সকালে খিচুড়ি খেয়েছিল, এরপর সারাদিন গোসল নেই, আরাম নেই, একনাগারে চারদিক সামলেছে। সারা শরীরে ধুলোবালি, খাবারের দাগ সঙ্গে ক্লান্তি। রাত আটটার দিকে গোসল করে এসে খেতে বসল। ফিরোজা ফারজাদকে খেতে দিয়ে নিজেও খেতে বসে গেল পাশে। টুকটাক আলোচনা হলো, আগামীকাল ও বাড়ি যাওয়া নিয়ে।
ফারজাদের রুমে যেতে লাবন্যর রুমটা পার করতে হয়। ফারজাদ একবার তাকাল আজ রুমটার দিকে। এ ঘর জুরে থাকা মেয়েটা আজ অন্যের ঘরের ঘরনী হয়ে গেছে। হঠাৎ-ই নজরে এলো রুমের বারান্দায় কেউ দাঁড়িয়ে আছে গ্রিল ধরে। দ্বিজা! ফারজাদ ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে নিজের কক্ষের দিকে এগিয়ে যায়। একটা লম্বা ঘুম দরকার। যা কাজ বাকি আছে পরে রাতে দেখা যাবে।
চলবে..

Olindo Rahman

Olindo Rahman

A good book is worth a hundred good friends. 
But a good friend is equal to a library.!! 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy