রাত সাড়ে আটটা। রাস্তার ধারে ল্যাম্পপোস্ট থেকে অল্প দূরে দাঁড়িয়ে আছে ফারজাদ দ্বিজার ডান হাতটা চেপে ধরে। হাতটা ধরেছিল সে বাড়ি থেকে দ্বিজাকে নিয়ে বেড়িয়ে আসার সময়। এখন অবধি ছাড়ে নি। দ্বিজার খুব অস্বস্তি হচ্ছে আবার অদ্ভুত অনূভূতিও হচ্ছে। এই যে লোকটা হাতটা এমন করে ধরে দাঁড়িয়ে ফোন কানে ধরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে–কোনো বাচ্চা মেয়ের দায়িত্বে আছে সে। হাতটা ছাড়লেই দুর্ঘটনা ঘটবে খুব বড়। ছাড়া যাবে না।
-“ইরফান ভাই!ʼʼ
-“কী ব্যাপার!ʼʼ
-“দ্বিজাকে বের করে এনেছি বাড়ি থেকে। এখন বলুন কী করব?ʼʼ–খুব উত্তেজিত লাগল ফারজাদের কণ্ঠস্বর।
-“বের করে এনেছেন? এখন কোথায় আছেন আপনারা?ʼʼ
-“মোড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছি।ʼʼ
ইরফান হাসল, “তাহলে শেষমেষ রিস্ক নিয়েই নিলেন?ʼʼ
ফারজাদ জবাব দিলো না। ইরফান বলল, “আমাদের এখানে চলে আসুন। এরপর দেখছি কী করা যায়।ʼʼ
-“না। কোথাও আসাআসি করতে চাইছি না। বিয়ের সাক্ষী লাগবে, আপনি আর লাবন্য আসুন। আমি আর্জেন্ট ঢাকা ফিরব।ʼʼ
-“বিয়ে?ʼʼ
ইরফান প্রশ্ন করল যেন একটু অবাক হয়েই। একে তো বলছে বের করে এনেছে, আবার ইমিডিয়েট বিয়ের কথা বলছে? একটু অপ্রত্যাশিত ছিল ফারজাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা। কণ্ঠ শুনে টের পাওয়া যাচ্ছে সে খুব উত্তেজিত মেজাজে আছে। ইরফান বলল, “এখনই?ʼʼ
-“তো কখন? আগে কয়দিন লিভ-ইন টুগেদার কোরে তারপর নাকি? কুমিল্লা থেকে বিয়ে করে এরপর ঢাকার বাসে উঠব।ʼʼ
-“আহ রে! আপনি এত রেগে যাচ্ছেন কেন? আচ্ছা, আমরা আসছি। ওখানেই থাকুন আপনারা।ʼʼ
-“কাজী অফিসে চলে যাচ্ছি, সেখানে আসুন।ʼʼ
কল কাটল ফারজাদ। দ্বিজা কেমন করে যেন চেয়ে আছে ফারজাদের দিকে। সে আশ্চর্যজনক ভাবে লক্ষ করল, সে ফারজাদের চেয়ে উচ্চতায় বেশ ভালোই ছোটো। এভাবে তো কখনও খেয়াল করা হয়নি, আসলে কাধে কাধ মিলিয়ে দাড়ানোই বা হয়েছিল কবে? দ্বিজার বিশ্বাস হতে চায় না মুহুর্তটা। সে বারবার জাগতে চাইছে স্বপ্ন ছেড়ে। এই স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুম ভাঙলে যে তীব্র হাহাকারটা ঘিরে ধরবে সেই কষ্টটা সে পেতে চায়না। তাকে নাকি ফারজাদ এনেছে বিয়ে করার জন্য! ফারজাদ ওকে ধরে নিয়ে হেঁটে রাস্তাটা পার হলো। দ্বিজা উপলব্ধি করল–এখনও ঘুম ভাঙল না। তাহলে কি সে জাগ্রতই! আশ্চর্য! এই লোক হাত ছাড়ছে না কেন? এসব সহ্য হচ্ছে না দ্বিজার হুট করেই। এতদিন এত এত দূরত্ব, অবহেলার পর সল্প সময়ের ব্যবধানে এমন পাল্টে খাওয়া আচরণ মানতে পারছে না সে।
ঘন্টাখানেকের মধ্যে সব ঠিকঠাক করে প্রস্তুত করা হলো। লাবন্য তাকিয়ে দেখছে ফারজাদ-দ্বিজাকে। অবাক করা বিষয় হলো–তার খারাপ লাগছে না। তার কষ্ট হচ্ছে না একটুও। বরং ইরফানের পাশে দাঁড়িয়ে ওদের বিয়ে দেখার ব্যাপারটা ভেতর ভেতর ওকে খুব পুলকিত করছে। কাজী সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, “পালিয়ে বিয়ে?ʼʼ
ফারজাদ বলল, “পালিয়ে বলতে লুকিয়ে? উহু, সকলকে জানিয়ে, তবে সম্মতির বিরুদ্ধে। তাই আর কাজীকে বাড়িতে ডাকা হয়নি, আমরাই চলে এসেছি কাজী অফিসে। নিন, নিজের কার্যক্রম শুরু করুন।ʼʼ
এরকম কাটকাট শক্ত জবাব শুনে কাজী সাহেব একটু কেমন করে যেন তাকালেন ফারজাদের দিকে। দ্বিজা বসে আছে একটা চেয়ারে। কপাল অবধি ওড়না টানা। মাথাটা নুইয়ে বসে আছে। লাবন্য গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে মাথায় স্নেহের হাত বুলালো। দ্বিজা তাকাল না চোখ তুলে। তার কেন জানি ছুটে পালাতে ইচ্ছে করছে। তবে সে পালাচ্ছে না। কীসের এক অদম্য সূতোর টানে সে উঠে পালাতে পারছে না। তবে তার খুশি কেন লাগছে না? সে তো চেয়েছিল এমনই কিছু! তাহলে আজ তার খুশিতে কান্না কেন আসছে না, বরং বরফের মতো জমে গেছে অনুভূতিগুলো। নড়ছে না, চড়ছে না, শীতল, গম্ভীর হয়ে গেছে।
ফারজাদ ফোন কানে নিয়ে কাউকে কল করছে। কয়েক মুহুর্ত পর বলে উঠল, “আপনার মেয়েকে বিয়ে করছি। সম্মতি না দিলেন, দোয়া করবেন। আর সাক্ষীও থেকে যান। জরুরী নয় সব বিয়েই বাপ-মা সাথে থেকে দেবে। ফুপুকে জানিয়ে দেবেন।ʼʼ
উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এরকম ঘটনা হয়ত প্রথমবার দেখছে তারা। একে একে ফারজাদ আব্বু, আম্মাকে কল করে দোয়া চাইল। চাইল না সম্মতি। বিয়েটা যেন তার কাছে জিদ হয়ে উঠেছে। যেন লোকে যত অসম্মতি জানাবে, তত আগ্রহের সাথে সে দ্বিজাকে নিজের করে ছাড়বে। যেমন এই কথা মাথায় রেখেই আজ হাবিব সাহেবের সামনে থেকে দ্বিজাকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।
দ্বিজা কবুল বলতে দেরী করল। বেশ অনেকক্ষণই দেরী করল। তবে কাঁদল না মেয়েটা। পাথরের মতো শক্ত লাগছে মুখের ভঙ্গি। ওদের বিদায় দেবার সময় লাবন্য দ্বিজাকে জড়িয়ে ধরে নতুন জীবনে চলাচলের জন্য শুভেচ্ছা জানাল। দোয়া দিলো ছোটো বোনটাকে। বোনটা আজ নতুন জীবনে পা রাখল সব নিয়ম ভেঙে। জানা নেই–আগামী জীবন কেমন হবে! ইরফানের থেকে ফারজাদ কিছু টাকা চেয়ে নিলো। ইরফান আর লাবন্য দাঁড়িয়ে রইল দুজন।
কাজী অফিস থেকে বেরিয়ে ফারজাদ দ্বিজাকে নিয়ে বাস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছাল। আগামীকালের দুটো টিকেট কেটে রেখেছে সে। সেগুলো আসলেই গচ্চা গেল। তবে সে ঠিকই কাউকে নিয়েই ঢাকা ফিরছে! দুটো টিকেট কেটে নিয়ে কাউন্টারের ভেতরে চেয়ারে গিয়ে বসল দ্বিজাকে নিয়ে। হাত শুন্য দুজনের। শুধু শরীরটাকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে দুজন। ফারজাদের কাছে সামান্য টাকা আর মোবাইল ছাড়া তেমন কিছু নেই। দ্বিজার শরীরে পরিহিত পোশাকটা ছাড়া আর কিছু নেই। এভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার ছিল তার? তাও ফারজাদের সাথে? দ্বিজা শিউরে উঠল একটু। অদ্ভুত এক শিহরণে ছেয়ে গেল ভেতরটায় তার। মাথার দু-পাশ চেপে ধরে ঝুঁকে বসে আছে ফারজাদ। দ্বিজা কিছু বলতে চেয়েও পারল না। কেমন আটকে আসছে ভেতরে। এই লোকটা তার স্বামী! চমকে উঠল সে। দ্রুত নজর ফিরিয়ে জোরে শ্বাস ফেলল। সে নিজেও অস্থির, তবে নিজেরটা ছাপিয়ে বুঝতে পারছে পাশে বসে থাকা মানুষটা তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি অস্থির। তাহলে কি ফারজাদ খুশি না বিয়েতে? না হওয়ারই কথা। তাহলে হুট করে এমন একটা কাজ কিছু সময়ের মধ্যে কেন করে ফেলল? এটাও কি কর্তব্য নাকি জিদ!
হাসতে মন চাইল দ্বিজার নিজের ওপর। সে যার কাছেই থাকে, বোঝা হয়েই। আজ বাপের ঘাঁড় থেকে নেমে ফারজাদের ঘাঁড়ে চাপল। ফারজাদ উঠে গেল। কিছুক্ষণ পর পানির বোতল কিনে নিয়ে এসে বসে ঢকঢক করে প্রায় সবটুকু পানিই খেয়ে ফেলল। বাকি অল্প একটু দ্বিজার দিকে এগিয়ে দিয়ে নিতে ইশারা করল। চোখাচোখি হলো দুজনের। ফারজাদের চোখে চাপা উদ্বেগ, ক্লান্তি! তা দেখে ভালো লাগল না দ্বিজার। কী দরকার ছিল এসবের? দ্বিজা মানিয়ে নিতো ঠিক। নিজেকে অপরাধী মনে হলো খুব। তার জন্য সকলের শান্তি নষ্ট। সে আসলেই অপদার্থ! নিজেকে কষে একটা ধমক দিলো, এত ভাবছে কেন সে? অতিরিক্তই ভাবছে আজ। আগে তো কখনও একরম আকাশ-কুসুম চিন্তায় পড়েনি সে! একটু সময় নিয়ে ফারজাদকে জিজ্ঞেস করল,
-“কোথায় যাচ্ছি আমরা?ʼʼ
-“ঢাকা।ʼʼ
বলে একটু থেমে আবার বলল ফারজাদ, “চিন্তা করিস না। অন্তত এটুকু সামর্থ্য আছে আমার– তোকে তিনবেলা খাবার, থাকার একটা ঘর আর পরার কাপড় দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারব। যাই হোক, তবে তুই কোনো বেকারের সাথে যাচ্ছিস না। আমি ভালো না, এর কোনো সমাধান আপাতত নেই আমার কাছে। তবে আর বাকি দিকে কষ্ট না দেবার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আমার।ʼʼ
দ্বিজার চোখ ভরে উঠল। সে দৃষ্টি নত করে নিলো। লোকটা সত্যিই খুব স্বার্থপর। সে কোনোদিন বুঝবে না দ্বিজাকে। খুব দায়িত্বজ্ঞানবান মনে করে নিজেকে? কচুর দায়িত্বজ্ঞান আছে। সে কি শুধু খাওয়া, থাকা আর কাপড়ের কাঙাল? আব্বু কি সেসব দিচ্ছিল না? তাহলে তার সাথে কেন চলে এলো সে এত কিছুর পরেও? কোনোদিনই বুঝবে না এই লোকটা তাকে। খুব ভুল হয়েছে তার, খুব। তার ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে। সে যাবে না ঢাকা এই লোকের সাথে। যে মন বোঝে না, কিছুই বোঝে না। তার সাথে কেন যাবে ও? আর তাকাল না ফারজাদের দিকে। মাথা নুইয়ে নখ খুঁটতে লাগল। রাত দশটার গাড়ি ওদের। সাড়ে নয়টা বাজে। ফারজাদ উঠে গেল। দ্বিজা হুড়মুড়িয়ে তাকাল সেদিকে। কোথায় যাচ্ছে লোকটা? সে এক মুহুর্তের জন্য নিজেকে অসহায়, চারদিকে অন্ধকার দেখেছে। এই তীব্র অভিমানের মাঝেও যেন সবটুকু ভরসা ওই গোমরামুখো লোকটার সঙ্গ। এত রাতে সে কখনও এরকম লোকালয়ে বসে থাকে নি একা। এভাবে ওকে বসিয়ে রেখে গেল কোথায় ফারজাদ? এই তার দায়িত্বজ্ঞান? হুহ! আল্লাহ পাক জানে এই মানুষের সাথে আগামী জীবনযাপন কেমন হতে চলেছে!
ফরজাদ এসে বসল। হাতে সিগারেট আর দিয়াশলাই। দ্বিজা আড়চোখে দেখল, সরাসরি তাকাল না। তার মাথা থেকে পড়ে যাওয়া ওড়নাটা আলগোছে তুলে ফারজাদ কপাল অবধি টেনে দেয়। চমকে উঠল দ্বিজা। সিগারেট জ্বালিয়ে টানতে লাগল ফারজাদ।
দ্বিজার রাগ হলো খুব। ইচ্ছে করল, চিৎকার করে বলতে,
'আমি যাব না আপনার সাথে। আপনার মতো ইতর লোকের সাথে আমার জীবন কেমন কাটবে এই কিছুক্ষণে বেশ ধারণা হয়েছে। যাব না আমি ঢাকা। সিগারেট ফেলুন নয়ত, সিগারেটের আগুন দিয়েই পুড়িয়ে দেব আপনাকে। কত পড়িয়েছেন আপনি আমায়। হিসেব নেই তার, সেই আপনি যদি এমন আজ স্বামী হিসেবে পাশেই বসে থাকবেন। বাড়ি থেকে ধরে এনে বিয়েই করবেন, তাহলে আমার চোখে পানি ফিরিয়ে দিন, মূল্য চুকতা করুন সেই সব ছটফট করা রাতের। পারবেন? উহু, না। ঘেন্না করি আপনাকে, আপনার স্বভাব, চলাফেরা, পুরো আপনিটাকেই খুব অপছন্দের লাগছে আমার। সহ্য হচ্ছে না আপনাকে। খুব প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে হচ্ছে সেসব দিনের। যেসব দিন ধিকধিক কোরে জ্বলেছি আমি। আজ স্বামী হয়েছেন, সঙ্গে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন? এর বিনিময় কত নিষ্ঠুরভাবে শোধ করেছি, তা অজানা আপনার। আপনি তো আমার হন নি, আমি কিনে নিয়েছি আমার অজস্র ফোঁটা বুক চিড়ে বেরোনো নোনাজলের বিনিময়ে। আজ আর ভালোবাসা জাগছে না আপনার ওপর, আজ আর কষ্ট হচ্ছে না আপনার জন্য। খুব ক্ষোভ উঠছে ভেতরে, ক্ষোভের তুফান বয়ে যাচ্ছে।ʼ
দশটা বেজে কয়েক মিনিট পর বাস ছাড়ল। রাস্তায় জ্যাম না থাকলে সাড়ে বারোটার মধ্যেই পৌঁছে যাবার সম্ভাবনা আছে শান্তিনগর। জ্যামে পড়লে রাত হবে একটু। দ্বিজা জানালার পাশে বসেছে। জানালা আটকানো, তার খুব হাঁসফাঁস লাগল। কয়েকবার চেষ্টা করে জানালা টেনেও খুলতে পারল না। চট করে ফারজাদ ওকে পেরিয়ে একটানে জানালাটা কিছুটা খুলে দিলো। যখন জানালা খুলতে এগিয়ে গেল ফারজাদ, দ্বিজার ছোট্ট শরীরটা একদম মুরগীর বাচ্চার মতোন ফারজাদের বুকের আড়ালে লেপ্টে ছিল। ফারজাদ সোজা হয়ে বসল। অথচ বুকের ধুকপুকানি কমল না দ্বিজার। নাহ! বারবার এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই হার্টফৈইলিওর ঘটে যাবে দ্বিজার। লোকটার কী বাজে আক্কেল! বিনা নোটিশে এত কাছে আসাটা কখনোই কোনো ভদ্রলোকের কর্ম হতে পারে না।
শন শন করে বাতাস ঢুকছে বাসের জানালা দিয়ে। গরমের মৌসুমেও ঠান্ডা লেগে যাওয়ার জোগাড়। নাকে-মুখে বাতাস ঢুকে যাচ্ছে। দ্বিজা জানালার ওপর কনুই রেখে তাতে থুতনি ঠেকিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বাইরের অন্ধকারে ঢাকা প্রকৃতির দিকে। জীবনটা কেমন আসলে? স্রোত আর জীবনের মাঝে বিশেষ পার্থক্য নেই বোধহয়। এদের প্রবাহধারা অপরিকল্পিত। কখন কোন ঘটনা স্রোতের ন্যায় কোথায় গিয়ে মিলিয়ে যাবে, কোথায় বাঁক নেবে তা স্রোতেরও অজানা।
“জানালাটা চাপিয়ে দে আরও কিছুটা। বেশি বাতাস আসছে, ঠাণ্ডা লেগে যাবে। মুখ আর হাত ভেতরে আন।ʼʼ
দ্বিজার একটুও ইচ্ছে করল না ফারজাদের কথা শুনতে। সে বরং জিদ করে অবাধ্যের মতো ওভাবেই রইল। যেন শুনতেই পায়নি ফারজাদের কথা। হুট করে ফারজাদ একটানে দ্বিজার হাতটা ধরে ভেতরে টেনে এনে জানালাটা টেনে দিলো, সামান্য একটু খোলা রাখল। দ্বিজার কাধে নিজের মাথাটা রেখে অদ্ভুত গলায় বলল, “কপালটা টিপে দে। খুব টান ধরেছে মাথায়। আমি একটু ঘুমাব।ʼʼ
দ্বিজা আকস্মিক ঘটনায় হতবুদ্ধি হয়ে যায়। তার ধারণাও ছিল না, এরকম কিছু ঘটার আছে। তবে কেন জানি ফারজাদের কথাটা এড়িয়ে যাওয়ার সাহস হলো না। দ্বিধাগ্রস্থ হাতটা একসময় এনে রাখল সে ফারজাদের কপালে। কপালটা হালকা গরম। মৃদু হাতে কপাল চাপতে চাপতে অস্পষ্ট ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “জ্বর জ্বর লাগছে আপনার?ʼʼ
-“উহু!ʼʼ
কিছুক্ষণ পর ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল, “তোর চুলগুলো খুব জালাচ্ছে আমায়। চুল সামলে রাখ।ʼʼ
দ্বিজা ডানহাত দিয়ে অল্প খোলা জানালাটাও বন্ধ করে দিলো। জনলার ফাঁক দিয়ে আসা বাতাসে চুলগুলো খুব বেপরোয়াভাবে উড়ছিল।
চলবে...
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *