Buy Now

Search

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-২০]

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-২০]

বাড়ি ফিরলে ফারজাদের রুটিন একদম চেঞ্জ হয়ে যায়। সকাল সকাল উঠে আর শারীরিক কসরতটা করা হয়না, ভোর সকালে জগিংয়ে বের হয়ে ঘাম ঝরানো হয় না দেহের। ঘুম থেকে উঠতেও দেরী হয়ে যায়। তার ওপর শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়েছে সে। উঠতে বেলা সাড়ে দশটা বাজল। বরাবরের মতো বাড়ির সকলে খেয়ে-দেয়ে নিজস্ব কাজে ব্যস্ত হয়েছে। আজাদ সাহেব আড়ৎয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাবার সময় কয়েকটা ধাক্কা দিয়েছিলেন বটে ফারজাদের দরজায়। কে করে দরজা ধাক্কার পরোয়া! সকালের ঘুম বড় মধুর কিনা!
ঘুম থেকে উঠে ব্রাশে টুথপেস্ট লাগিয়ে ব্রাশ হাতে করে অপর হাতে লুঙ্গি ধরে রুম থেকে বের হলো ফারজাদ। ঘাঁড়ে গামছা ঝুলছে। ফিরোজাকে দেখে বলল, “কবে এসেছিস তুই?ʼʼ
ফিরোজা বিরক্তিভরা মুখে নাক ছিটকাল, “আজ আবার এত আমার খোঁজ কেন তোর? জীবনে তো কোনোদিন নিতে দেখি নাই। সর সামনে থেকে।ʼʼ
ফারজাদ হঠাৎ-ই ওড়না টেনে ধরল ফিরোজার। গলায় ফাঁস লাগতেই সরু কণ্ঠে চিৎকার করল ফিরোজা,
“আম্মা!ʼʼ
ফারজাদ আঙুলের কোণে লেগে থাকা টুথপেস্ট ওড়নায় মুছতে মুছতে বলল, “এত ক্যানক্যান করিস কেন সারাক্ষণ? বড় হোস নি?ʼʼ
এক বাচ্চার মাকে শাসন করছে এই ছেলে! ফিরোজা কপট কড়া স্বরে বলল, “ওই! একদম বাপ সাজতে আসবি না। তোর মতো খিটখিটে মানুষ মানুষকে জ্ঞান দিলে জ্ঞানের অপমান হবে, ছাড় তো।ʼʼ
ফারজাদ ওড়না না ছেড়ে আরও শক্ত করে হাতে পেঁচিয়ে ধরে বলল, “চল, বাগানে বসি।ʼʼ
ফিরোজা নীরব সম্মতি তো জানাল, তবে মুখে ভেঙচি কেটে। ফিরোজার মুখ ভেঙচানো দেখে ফারজাদ চট করে মৃদূ হেসে ফেলল। যা ফিরোজা আশা করেনি। মৃদু অবাক চোখে তাকিয়ে সে-ও হেসে ফেলল এবার। হুট করে আজ ফারজাদকে সে-ই ছোট্ট ফারজাদ লাগছে, আগের দিনের ফারজাদ!
বাগানে এসে দাঁড়িয়ে ফারজাদ হুকুম করল, “যা, চেয়ার নিয়ে আয়।ʼʼ
ফিরোজা সরু চোখে মুখ ফুলিয়ে চেয়ার আনতে গেল। ফারজাদ ফোন লাগাল পুলিশ কনস্টেবল রফিককে। বলল, “রফিক সাহেব, আমার ফ্লাটে নজরদারি যেন না হটে। আর আজ ভেতরে যাবেন একটু। ওই ছেলেটাকে টুকটাক খাবার, পানি দেবেন।ʼʼ
ফিরোজা কথা বলতে বলতে এসে দাঁড়াল পাশে। ফারজাদ হাত উঁচিয়ে ধরল, ইশারায় চুপচাপ চেয়ার রেখে বসতে বলল। এরপর রফিকের উদ্দেশ্যে বলল, “আর একা যাবার দরকার নেই। দু-একজন সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এডিক্টেড, তার ওপর নিশ্চয়ই ট্রেইন্ড আছে ছেলেটা। আমার ফ্লাটের চারপাশে যেন কোনো সময়-ই ফাঁকা না হয়। কড়া নজরে রাখুন আশপাশটা।ʼʼ
ফোন কেটে আবারও ফোনের দিকে মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিনে স্ক্রল করতে করতে হুট করে প্রশ্ন করল ফিরোজার উদ্দেশ্যে, “আমার কি সত্যিই পরিবর্তন দরকার?ʼʼ
“ভুতের মুখে রাম রাম!ʼʼ
ফারজাদ ফোন থেকে মাথা তুলে বলল, “কেন, তাতে সমস্যা কী? রামচন্দ্র ভালো মানুষ একটা, বড়ো বীর ছিলেন, তার ভেতরে দেবতা ছিল, তাকে স্মরণ করার অধিকার ভুতের নেই নাকি?ʼʼ
“রামের নাম নিলে ভুত পালায়, গাধা। সেই ভুত নিজে রামের নাম ক্যান নিবে?ʼʼ
“আচ্ছা, তো আমি ভুত, নাকি আমার পরিবর্তন হবার ব্যাপারটা রাম রাম?ʼʼ
“দুইটাই।ʼʼ
“আসলেই কি খুব খারাপ আমি?ʼʼ
“তোর কথা পরে আসতেছে, আগে তোর আচরণ।ʼʼ
ফোনটা কানে তুলে মুখে কৃত্রিম বিরক্তিভাব ফুটিয়ে বলল, “তুই তো ব্যক্তিগত আক্রোশে বলছিস এসব। তোর কাছে নিরপেক্ষ, সঠিক একটা মন্তব্য জানতে চাওয়ার বোকামি দিয়ে শুরু করলাম আজকের দিনটা, শ্যাহ! যা এখান থেকে!ʼʼ
ফিরোজা উঠে যেতে যেতে বলল, “তো তুই ভাবতেছিস এরকম একটা ব্যাপারে সিরিয়াস মন্তব্য জানাব আমি? যেখানে তোর মতো খাঁটাশের পরিবর্তন অসম্ভব?ʼʼ
ফারজাদ মুখে 'চ্যাহʼ এর মতো উচ্চারণ করে মাথা ঝাঁকাল অতিষ্ট ভঙ্গিতে। গলা উঁচিয়ে বলল, “আমার ল্যাপটপটা দিয়ে যা।ʼʼ
ফিরোজা নিজেও গলা বাড়িয়ে বলল, “আগে গিলে যান সাহেবজাদা! এরপর বসবেন ধ্যানে।ʼʼ
ওপাশ থেকে কল রিসিভ হয়েছে। ফারজাদ এবার ফোনে মনোযোগী হয়ে বলল, “হু, ইরফান ভাই?ʼʼ
“আরে ফারজাদ বাবু যে! কী খবর, সব ঠিকঠাক?ʼʼ
ফারজাদ মৃদু হেসে জিজ্ঞেস বলল, “চলছে আল্লাহর রহমতে ঠিকঠাক। আপনার হালচাল?ʼʼ
“আর গরীবের হাল আবার চাল। চলে যাচ্ছে দিন। তা কী মনে করে?ʼʼ
এ কথা বলে ফোন কানে ধরে এরই মাঝে ইরফান আবার ডেকে উঠল, “ও লাবু... লাবন্য!ʼʼ
সে যে ফারজাদ কলে থাকায় অপ্রস্তুত হয়ে লাবু ডেকে ফেলে আবার ঠিক করে লাবন্য ডাকছে, তা শুনে হাসল ফারজাদ, “অফিসের জন্য বের হচ্ছেন নাকি? এখন থাক তাহলে, আই উইল কল ইউ ব্যাক এনাদার টাইম?ʼʼ
“আরে, সে তো প্রতিদিনই বের হই। তবে প্রতিদিনই তো আর শ্যালক বাবুর সঙ্গে কথা হয় না তাই না? বলুন বলুন।ʼʼ
ফারজাদ দ্বিধা-সংকোচহীনভাবে বলল, “ওয়াহিদের নম্বরটা লাগত।ʼʼ
ইরফান কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু ভাবল বোধহয়। এরপর হাস্যজ্জ্বল কণ্ঠে বলল, “আচ্ছা, আচ্ছা। আমি মেসেজ করে দিচ্ছি কেমন!ʼʼ

ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার মাঝে পরীক্ষা দিয়ে বের হবার পথে গেইটের বাইরে প্রতিদিন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন পত্র হাতে পেয়েছে দ্বিজা। সব মিলিয়ে এক বোঝা হয়েছে। তার ইচ্ছে ছিল ভার্সিটির জন্য ট্রাই করা। রেজাল্ট কেমন হবে তা জানা নেই। তবে একদম ফেলে দেবার মতো হবে না। ভার্সিটির একটা এডমিশন কোচিংয়ের বিজ্ঞাপনের কাগজ নিয়ে বসেছে সে বিছানা এক কোণায়, জানালা ঘেষে। উদাসী চোখে তাকিয়ে কিছুক্ষণ দেখল কাগজগুলো উল্টেপাল্টে। এরপর একটু মনোযোগী হলো কাগজগুলো দেখায়। তখনই রুমে প্রবেশ ঘটল দিলরুবা বেগমের। তার উপস্থিতি টের পেয়ে দ্বিজা দ্রুত কাগজটা কপট অনীহার সঙ্গে বিছানায় এক কোণে রেখে দিলো। দিলরুবা বেগম বিছানায় বসে কিছুক্ষণ মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকলেন। দ্বিজা প্রাণপনে চেষ্টা করছে নিজেকে একদম স্বাভাবিক দেখাতে। কেন জানি তার একদমই আন্তরিক হতে ইচ্ছে করছে না আম্মুর সাথে। এমনকি সে কী চায়–সেসবও আর জানাতে বা বোঝাতে চায় না সে কাউকে। এই যেমন সে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখে তা আম্মুকে বুঝতে দেবে না বলে হাতের বিজ্ঞাপনের কাগজটা সন্তর্পণে নামিয়ে রাখল হাত থেকে। দিলরুবা বেগম জিজ্ঞেস করলেন, “মন খারাপ?ʼʼ
দ্বিজা ঘাঁড় নেড়ে বলল, “মন খারাপ কেন হবে?ʼʼ
প্রসঙ্গ বদলানোর ছলে একদম স্বাভাবিক স্বরে বলার চেষ্টা করল, “কোনো দরকারে এসেছ নাকি, আম্মা? কিছু বলবে?ʼʼ
দিলরুবা বেগম ক্ষণকাল চুপ থেকে এরপর বললেন, “তোর আব্বু ডেট দিয়ে দিছে। আজ রবিবার। সামনের শুক্রবারে গায়ে হলুদের কথা বলছে ওরা। ওরা ঘটা করে নিয়ে যাইতে চায়। শোন দ্বিজা, আগে যা হইছে ভুলে যা। তোর বাপরে তো চিনিস। তুই যা করছিস, তার সব দোষ আর রাগ আমার ওপর এসে পড়ছে। সব সহ্য করতেছি খালি তোর জন্যে। ওসব ভুলে এখন নিজের আর আমার জন্য যা ভালো হয় তা কর। মন খারাপ করে থাকার কিছু নেই। ফারজাদ এরকমই, এইটা সবাই জানে। ওর কাছে আশা রাখছে কেউ এ যাবৎ! ওর সাথে শান্তি পাইতি তুই? কোনো বাপ মা কোনোদিন চাইবে না ওর কাছে নিজের মেয়ে দিতে। আল্লাহ যা করে মঙ্গলের জন্যেই করে। ওসব ভাববি না আর।ʼʼ
দ্বিজা নিশ্চুপ শুনল কথাগুলো। কোনো জবাব দিল না। আম্মু উঠে চলে গেলে সে আবার উদাস চোখে বাইরে তাকাল। সব-ই বোঝে সে। তবে সে বুঝলে চললে তো হতোই। এই পাগল মনটাকে বোঝানোর বা শান্ত করার উপা কী? এত বেহায়া কেন মন? এত কেন বেলেহাজ! যে জিনিস ছেড়ে দিয়ে সামনের দিনে অন্য পথে হাঁটা লাগাতে হবে, সেই জিনিসের প্রতি এমন মায়ার টান কেন অনুভূত হবে? সে তো আত্মমর্যাদাবোধকে কাছে টেনে নিয়ে তাকে দূরে সরিয়েছে। সে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে ত্যাগ করেছে সেই পথ। তবুও তা ঘনকালো মেঘের মতোন তাড়া করে বেড়াবে কেন? ছেয়ে রাখবে কেন ভাবনায়? কেন ভুলে যাবে না?
গোধূলি নেমে আসা আকাশের দিকে দৃষ্টি মেলে নিজের অজান্তেই দ্বিজা গুনগুনিয়ে উঠল,
প্রথমও যৌবনও বেলা, আমারে পাইয়া অবলা..
প্রেম শিখাইয়া গেল ছাইড়া, গেল গোওও..
জ্বালাইলে যে প্রেমও আগুন, জল দিলে তা বাড়ে দিগুণ
এখন আমি কী করি উপায়...

আজ হঠাৎ-ই ফারজাদ আজানের ধ্বনি কানে আসতেই মাগরিবের নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে পা রাখল। বহুদিন পর সে নিজ ইচ্ছায় প্রভুর নিকট আত্মসমর্পণে গেল। নামায শেষে বের হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্য কফিশপে পৌঁছাল সে। মাঝের একটা টেবিলে বসে আছে ওয়াহিদ। চোখ দিয়ে ইশারা করে হাত প্রসারিত করে কোণার একটা একটা টেবিলে বসতে বলল ওয়াহিদকে। বসতে বসতে বলল, “কী অবস্থা? দিনকাল কেমন যাচ্ছে?ʼʼ
“সে যাচ্ছে ভালোই। তবে হঠাৎ মেজর ফারজাদ সাহেব ডাকলেন আমায়? আসলেই ভয় ভয় লাগছে একটু। কোনো বে-আইনী কিছু করে ফেলেছি নাকি?ʼʼ
ওয়াহিদের কথায় ফারজাদ হাসল। পকেট থেকে সিগারেট বের করে তাতে দিয়াশলাই জ্বালিয়ে বলল, “মেজর?ʼʼ
একটু থেমে দুপাশে ঘাঁড় নেড়ে বলল, “তুমি তো দেখছি এক ধাক্কায় কতগুলো পদ প্রমোশন করিয়ে দিলে। এএসপি তে জয়েন করেছি কেবল। যাই হোক, তুমি ঠিক অপরাধ করো নি, তবে একটা অকাজ করতে যাচ্ছ।ʼʼ
ওয়াহিদ অবাক হলো, “প্রথমেই এএসপি? এটাকে কম বলতে চাচ্ছেন আপনি? আর অকাজ?ʼʼ
“হুম, অকাজ। তোমার বিয়ে কবে?ʼʼ
ওয়াহিদ একটু কপট লজ্জিত হাসল, “সামনের শুক্রবারের পরের শুক্রবারে। তো কি এটাকে অকাজ বলছেন নাকি এএসপি সাহেব?ʼʼ
ফারজাদ সিগারেটে একটা টান দিয়ে কফি প্লেস করতে আসা ওয়েটারের দিকে একবার তাকিয়ে বলল, “হুম, তা-ই। আচ্ছা, দ্বিজাকেই কেন বিয়ে করছ?ʼʼ
“কেন তাতে সমস্যা কোথায়? এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা আছে নাকি?ʼʼ
“প্রশ্ন একটা আমিও করেছি তোমাকে, এবং তোমার আগে।ʼʼ
ফারজাদের হঠাৎ রাশভারী হয়ে ওঠা মুখের দিকে তাকাল ওয়াহিদ। বলল, “পছন্দ করি ওকে, লাবন্য ভাবীকে দেখতে গিয়ে দেখেছিলাম, সেদিনই পছন্দ হয়েছিল। কেন কী হয়েছে?ʼʼ
ফারজাদ সে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বরং নিজে প্রশ্ন করল, “দ্বিজাও পছন্দ করে তোমাকে?ʼʼ
এবার একটু অপ্রস্তুত হলো ওয়াহিদ, “না মানে.. হ্যাঁ ও রাজী তো বিয়েতে।ʼʼ
“আসলেই?ʼʼ
ওয়াহিদ বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকায় ফারজাদের দিকে। সে পরিস্থিতি এবং ফারজাদের কথা বা কথার মর্ম বা উদ্দেশ্য কিছুই ঠিকঠাক উদ্ধার করতে পারছে না। কিছু বলার প্রস্তুতি নিল, অথচ ফারজাদ ওকে বলার সুযোগ না দিয়ে হুটহাট প্রশ্ন করে বসল, “শুধুই পছন্দ নাকি ভালো-টালোও বাসো?ʼʼ
ওয়াহিদ মাথা নিঁচু করে হাসল একটু, “হুম, আমার মনে হয় শুধু পছন্দ হলে বিয়ে পর্যন্ত যেতাম না। ভালোও বাসি।ʼʼ
ফারজাদ নিজে নিজেই একটু তাচ্ছিল্য করার মতো বলল, “মনে হয়?ʼʼ এরপর ঠোঁট উল্টে মাথা ঝাঁকাল মৃদু, “তাই না? তো কাউকে পছন্দ করলে বা ভালোবাসলেই বিয়ে করতে হবে কেন? পছন্দ না করে বিয়ে করা যায় না?ʼʼ
ওয়াহিদ হতবুদ্ধি হলো এবার। আস্তে আস্তে ফারজাদের প্রশ্ন এবং কথাগুলো কেমন অদ্ভুত প্যাচানো হয়ে উঠছে। ভ্রু কুঁচকে বলল, “বুঝিনি আপনার কথা। না মানে, ভালো না বাসলে বা পছন্দ না করলে তাকে নিয়ে সারাজীবন কাটানো যায় নাকি সুখে? মনের একটা ভালো লাগা বা চাহিদার ব্যাপার আছে না?ʼʼ
খুব বুঝেছে এমনভাবে বিজ্ঞের মতো মাথা দুলিয়ে বলল ফারজাদ, “এটা প্রযোজ্য শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে নাকি মেয়েদের জন্যও?ʼʼ
ওয়াহিদের একটু রাগ লাগছে এবার। লোকটা আসলেই আইন বিভাগের লোক এবার আরেকবার বিশ্বাস হচ্ছে। সাধারণ কথাগুলো এত পেচিয়ে বলার মানে কী? বলল, “ তা কেন হবে? সবার নিজের পছন্দমতো সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতা আছে। অবশ্যই মেয়েদেরও..ʼʼ
কথা শেষ হলো না ওয়াহিদের। ফারজাদ বলে উঠল, “দ্বিজা কি সেই সুযোগটা পাচ্ছে?ʼʼ
ওয়াহিদ থামল একটু। কপাল জড়িয়ে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল ফারজাদের দিকে। কিছু বুঝতে চেষ্টা করল বোধহয়। এরপর বলল, “তার মানে কী বলতে চাচ্ছেন, দ্বিজা রাজী না বিয়েতে?ʼʼ
ফারজাদ সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে তা ঠোঁট থেকে নামিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে বলল, “তা তোমার জানার চেষ্টা করা উচিত ছিল না? করেছ? যেখানে দেখতে যাওয়ার দিন সে সকলের সামনে অকপট বলেছে সে বিয়ে করতে চায় না। তুমি কিছুক্ষণ আগে কোন ভিত্তিতে বললে, সে রাজী বিয়েতে?ʼʼ
ফারজাদের শীতল স্বরে বলা কথাগুলোতে ওয়াহিদ মিইয়ে গেল একদম। ফারজাদ সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া গালে রেখেই কফিতে চুমুক দিলো। ধোঁয়া ও কফি একসাথে গিলল। এরপর তাকাল ওয়াহিদের দিকে। ওয়াহিদের চোখ-মুখ একটু ফ্যাকাশে হয়ে উঠেছে। সে কেমন জালে ফেসে গেছে যেন এমন মনে হচ্ছে। ফারজাদ এসবি অফিসার নাকি উকিল? ওহহো! সে শুনেছিল ফারজাদ এলএলবি তে অনার্স করেছে। সে থতমত হয়ে কোনোমতো বলল, “ওর আব্বু মত দিয়েছে।ʼʼ
কথাটা বলে ওয়াহিদের মনে হলো ফারজাদের সমানে এটা একটা খুবই সস্তা আর বোকা বোকা যুক্তি পেশ করেছে সে। কিন্তু চট করে একটা কৌতূহল জাগল। ফারজাদকে জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু আপনি কেন এসব বলতে ডেকেছেন আমায়?ʼʼ
ফারজাদ চারপাশে ঘাঁড় ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে বলল, “আমার কর্তব্য?ʼʼ
“আপনার কর্তব্য? কীসের কর্তব্য?ʼʼ
“মামাতো ভাইয়ের কর্তব্য।ʼʼ
ওয়াহিদ গোমরা মুখে চোখ ছোটো করে সন্দিহান কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “শুধুই মামাতো ভাইয়ের কর্তব্য পালন করতে এখানে এভাবে এই কথা এরকম উকালতি করে বলতে এসেছেন?ʼʼ
ফারজাদ ওয়াহিদের কথায় ওর দিকে তাকিয়ে সামান্য বাঁকা হেসে বলল, “আপাতত তা-ই। তবে একটা গ্রেট এক্সাইটেড ট্রুথ হচ্ছে–দ্বিজা ফারজাদকে ভালোবাসে। সে ভালোবাসা বহত কিছুর ঊর্ধ্বে। যা এড়িয়ে যাবার মতো নয়। আর সেই অনুভূতিকে বুকে চেপে সে অন্য কাউকে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গ্রহন করবে, এটা অবিচার হয়ে যাবে না? আফটার অল, আমি আইন ও ন্যায়বিচার বিভাগের কর্মকর্তা।ʼʼ
ওয়াহিদ তাকিয়ে রইল কেমন করে যেন ফারজাদের দিকে। সে কিছুই মেলাতে পারছে না এতক্ষণে ঘটে যাওয়া ও হয়ে যাওয়া কথার হিসবেটা। বিশেষ করে এই ফারজাদের ওপর রাগ হচ্ছে। মারাত্মক রাগ। কোথা থেকে শুরু করে কোথায় নিয়ে এলো ব্যাপারটা। আবার কথাবার্তাও চরম অদ্ভুত!
চলবে..

Olindo Rahman

Olindo Rahman

A good book is worth a hundred good friends. 
But a good friend is equal to a library.!! 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy