বেশ কিছুদিন কেটে গেছে মাঝখানে। দ্বিজার পরীক্ষার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। মেয়েটা পড়ালেখায় বেশ ব্যস্ত আজকাল। এমনটাই দেখতে পাওয়া যায় তাকে। সপ্তাহখানেক আগে তিনমাসের ছুটিতে দেশে ফিরেছেন দ্বিজার বাবা হাবিবুর রহমান। তার সঙ্গে দ্বিজার খুব একটা সখ্য নেই। ছোটোবেলা থেকেই বাবাকে কাছে পেয়েছিল না দ্বিজা, মামার বাড়িই তার সব।
দুপুরের খাওয়াটা একসঙ্গে খেয়ে এসে নিজের ঘরে জানালার পাশে বসে আছে সে। সামনে বই-খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একটা বই তুলে কোলের ওপর রেখে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ বইয়ের দিকে। উহু, মনোযোগ আসছে না। দ্বিজা বেশ চুপচাপ হয়ে গেছে আজকাল। আগের মতো আর লাফালাফি বা চটপটে কথাবার্তা বলতে দেখা যায় না তাকে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল দ্বিজা। জানালার ওপারেই দাদি কুমড়ো গাছ লাগিয়েছে। সেটা জানালার ধারে পোঁতা খুঁটি বেয়ে উপরে উঠে গেছে। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সেই গাছের দিকে বেখেয়ালি দৃষ্টিতে। খুব খালি খালি লাগছে বুকটা। না ভেতরটা শুকিয়ি আসছে যেন পিপাসায়। জলের পিপাসা নয় বোধহয়, এ পিপাসা আত্মার, এ পিপাসা মনের! পাশে পড়ে থাকা ফোনটা চট করে হাতে তুলে নিলো দ্বিজা। দুপুর আড়াইটার মতো বাজে। ফোনে ভেসে থাকা নম্বরটার দিকে তাকিয়ে পেটে মোচর দিচ্ছে, বুকটা ঢিপঢিপ করছে কেন এত? আর একটু হলে তো বুক ফেটে যাবে, কী মুশকিল! দ্বিজা নম্বরটা ডায়াল করে দম আটকে বসে রয়। সে জানে না রিসিভ হবে কিনা, হলেও তারপর কী হবে?
“দ্বিজা!ʼʼ
ওপাশ থেকে সরাসরি এক ভরাট পূরুষালি গলা শোনা গেল। দ্বিজা কথা হারিয়ে ফেলেছে। দম ছাড়ছে না তার। চোখটা বুজে নিলো চেপে। এই কণ্ঠস্বর! গলা ভিজে এসেছে যেন দ্বিজার, তাহলে কী সে এই পিপাসায় কাতর ছিল? ফারজাদ আবার বলল, “কল করে চুপ করে থাকার মানে কী, দ্বিজা! কিছু বলবি?ʼʼ
চোখটা খুলল দ্বিজা। কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল, “দুপুরের খাওয়া শেষ?ʼʼ
“না শুরু করব।ʼʼ
দ্বিজা দ্রুত বলে ওঠে, “ঠিক আছে, তাহলে খাও তুমি..ʼʼ
“খাব, তুই বল।ʼʼ
দ্বিজা একটা ঢোক গিলল অসস্তিতে, “কবে আসবেন আপনি?ʼʼ
প্রশ্নটা চরম বোকার মতো করেছে মেয়েটা, যেন ওকে অপেক্ষায় রেখে গেছে ফারজাদ। ভ্রূটা কুঁচকে ফেলে ফারজাদ সামান্য। কিছুক্ষণ কেউ-ই কোনো কথা বলল না। বেশ কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেঙে দ্বিজাই বলল, “একটা কথা বলার জন্য কল করেছি।ʼʼ
“শুনছি, বল।ʼʼ
“গতকাল এডমিট কার্ড আনতে গেছিলাম। সেখানে ওয়াহিদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।ʼʼ
“হুমম? তো?ʼʼ
“প্রায় দিনই বাড়ির সামনে দেখি এসে দাঁড়িয়ে থাকে।ʼʼ
ফারজাদ দ্বিজাকে অবাক করে দিয়ে ভারী গলায় হেসে ফেলল, “তুইও যদি দেখতে না যাস, তো ওর দাঁড়িয়ে থাকা দেখিস কীভাবে?ʼʼ
দ্বিজার মোটেই ভালো লাগল না কথাটা। তার আর এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে ইচ্ছে করল না, মনটা আরও ভার লাগছে। তবে কল কাটল না ওভাবেই ধরে রাখল। ফারজাদের নিঃশ্বাসের আওয়াজ কী শুনতে পাওয়া যাচ্ছে? চোখটা বুজতেই থুতনিটা ভেঙে আসল মেয়েটার। এই লোকটাকে সে দেখে না প্রায় দুইমাস হলো। অথচ মায়া, টান, বুকের তীব্র উথাল-পাতাল অনুভূতি—কিছুতেই ভাঁটা পড়েনি কেন? ফারজাদের চোখের ওপরের চটা ভ্রুটা খুব সুন্দর। দেখতে খুব ভালো লাগে দ্বিজার, সে বহু আগেই এই ভালো লাগা টের পেয়েছিল। অথচ এখন সেই ভালো লাগার একটা নাম দিয়েছে সে, তৃষ্ণা। অথচ যে সরোবরে সে ডুবেছে তার তরল বড়ো রুক্ষ, তপ্ত। এই তপ্ত সরোবরের জল পান করা দুঃসাধ্য! হঠাৎ-ই ফোনের ওপাশে ফারজাদের আওয়াজে চোখ খূলল দ্বিজা,
“পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন?ʼʼ
“ভালো, তবে...
“কার সঙ্গে কথা বলতেছিস দ্বিজা?ʼʼ
দ্বিজা চমকে উঠে তাকায়, ফোনটা কান থেকে বিদ্যুতের গতিতে নামিয়ে এক আঙুলে কোনোমতো ফোন কাটল দ্বিজা। দিলরুবা চোখ ছোটো ছোটো করে সন্দিগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছেন। একটা মেয়ের কাছে এরকম পরিস্থিতিতে মায়ের ওই সন্দিহান দৃষ্টি ঠিক কতটা আতঙ্কের, তা দ্বিজার বুকের আন্দোলনে খানিক টের পাওয়া যায় বোধহয়। অথচ দ্বিজার মাঝেমধ্যেই নিজেকে চালাক মনে হয় বেশ। সে নিজেকে ভালো অভিনেত্রী মনে করে বসে কখনও কখনও। তেমনই এখন পরিস্থিতি লুকিয়ে অতিষ্ট ভঙ্গিতে মাথা দুলিয়ে মুখে বেশ বিরক্তি ফুটিয়ে বলল, “উফফ, এভাবে ভুতের মতোন ঘরে আহো কেন? তমার সাথে কথা বলছিলাম, রুটিনের ব্যাপারে।ʼʼ
অথচ মেয়েটা বোধহয় ভুলে গেছে তার চোখের পাপড়ি এখনও ভেজা। চোখের নিচের কালি দেখে সহজেই আন্দাজ করা যায়, বহুরাত মেয়েটার চোখ খুলে কেটেছে। দিলরুবা বেগম গম্ভীর পায়ে হেঁটে এসে খপ করে ফোনটা কেড়ে নিলেন। হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করে দেখলেন লক করা। বললেন, “তমার সাথে কথা বলতেছিলি, তো আমি আসায় এরম কল কাটলি ক্যান?ʼʼ
“আরেহ! চমকে উঠেছি তোমার এভাবে আসায়, হাতের চাপে কেটে গেলো কল।ʼʼ
দিলরুবা বেগম কিছুক্ষণ চেয়ে রইলেন মেয়ের দিকে। দ্বিজা ওই চোখে নজর মেলাতে পারে না। সে একবার তাকাচ্ছে আবার চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দিলরুবা বেগম ফোনটা ছুঁড়ে মারলেন বিছানায়, বললেন, “ভালো করে পড়, পরীক্ষার আর দুইদিন আছে।ʼʼ
ব্যাপারটা এত সহজে ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হজম হলো না দ্বিজার। বুকের কাঁপুনি থামছে না দিলরুবা বেগম চলে যাওয়ার পরেও। তার অজানা এক শঙ্কা হতে লাগল মনে। সেদিন খালামণি আম্মুকে কথাটা বলার পরেও আম্মু এখন অবধি নীরব। অবশ্য দ্বিজার প্রতি নজরদারী বেড়েছে, বহু গুণে বেড়েছে। একটা মেয়ের অর্ধ জড়িত শাড়ি পরা অবস্থায় একা রুম থেকে একটা ছেলে বেরিয়ে যাওয়া, গ্রাম বাংলায় ব্যাপারটাকে মোটেই সহজভাবে নেওয়া হয় না। তাদের কোনো সাফাইয়ের পাত্তা দেওয়া হয় না। যেমনটা দ্বিজাকে কিছু জিজ্ঞেসই করা হয় নি আজ পর্যন্ত। অথচ দ্বিজার জীবনধারা খানিক হলেও বদলেছে। অযথাই আম্মুর চোখে সারাক্ষণ সে তার প্রতি সন্দিহান, বাঁকা নজর টের পায়। সেও কিছু বলে না, আম্মুও না।
দিলরুবা বড়ো আত্নসম্মানবোধ সম্পন্ন মহিলা। সম্মান জড়িত বিষয়ে তার কাছে প্রশ্রয় পাওয়ার চান্স নেই। আর হাবিবুর রহমান আগুনের দলা। আব্বুর যুক্তি ও মন মেজাজ দেখে দ্বিজার মাঝেমধ্যে মনে হয় আজও তার আব্বু অশিক্ষিত, আর কুসংস্কারের যুগের লোক। কেমন যেন শাসিত দৃষ্টিভঙ্গি তার। যদিও দ্বিজাকে তিনি কখনো কোনরকম গালমন্দ করেন নি। তবুও আব্বুর সঙ্গে সে সহজ হতে পারে না।
মেয়েটা ওভাবেই থম মেরে বসে রইল। তার বুকটা এখনও মৃদু কাঁপছে বোধহয়! ইশ! জীবনটা কেমন ঘোলা ঘোলা লাগে আজকাল। দিনদিন চঞ্চলতা হারিয়ে যাচ্ছে তার জীবন থেকে। আচ্ছা! জীবন কি এরকমই? উত্তর নেই, কে দেবে উত্তর? অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে, তার আজকাল শুধু তাই-ই মনে হয়।
—
রাজারবাগ পুলিশ লাইনের জলাশয়। চারপাশটা নারিকেল গাছে ঘেরা। রাত এগারোটার মতো বাজছে। ফারজাদ হালকা কুয়াশার ভিড়ে আধো অন্ধকারে নিজের ঘড়িতে সময় দেখল। জ্যাকেট ভেদ করে প্রবেশ করা ঠান্ডায় মাঝেমধ্যেই গা শিউরে উঠছে। ফারজাদ তাকিয়ে রইল জলাশয়ের কালো পানির দিকে। বুক ফুলিয়ে বেশ দীর্ঘ একটা শ্বাস নিলো। পানি থেকে চোখ তুলে শূন্যে তাকাল। তার ট্রেনিং শেষের দিকে। ক'দিন বাদেই ডিউটিতে জয়েন করবে সে।
নিজের প্রতি অভিযোগ করতে বসে যায় সে। তার এই অন্তর্মুখী স্বভাব তাকে সকলের থেকে কত দূরে ঠেলে দিয়েছে। ঠেলে দিয়েছে বলতে সে চলে এসেছে। সে নিজেই মাঝেমধ্যে নিজের মানসিক হাবভাব বুঝতে পারে না। হঠাৎ-ই দ্বিজার কথা খেয়ালে এলো, সে স্পষ্ট শুনেছে ফুপুর গলার স্বর। তার পর পরই দ্বিজা কল কেটেছে। ফারজাদ নিজের মনেই একবার উপহাসের হাসি হাসল। দ্বিজার পাগলামি বাড়ছে, মেয়েটা সামনে বেশ বড়োসড়ো ধাক্কা খেতে চলেছে। মেয়েটাকে আজও বোঝানো গেল না, ফারজাদ মৃত আত্মা। পড়ে আছে তাকে নিয়ে। আজ নিশ্চয়ই বাড়িতে একটা তামাশা হয়েছে? আর ঠিক কীভাবে বোঝালে বুঝবে পাগলিটা? ফরজাদ ফারজাদ হাঁ করে শ্বাস নিলো। আঙুলের মাঝে ঘুরাতে থাকা সিগারেটটা ঠোঁটের ভাজে চেপে একটা দিয়াশলাই ঘষল ম্যাচ বক্সে।
ঠোঁটের বিভাজন থেকে মুক্ত হয়ে উড়ে যাওয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলিতে ফারজাদের ফেলে আসা কাল ভেসে ওঠে।
—
ফারজাদের বয়স আঠারো চলছে। তখন মাধ্যমিকে সাফল্যের সঙ্গে ভালো ফলাফল করার পর, ভাগ্যক্রমে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চান্স হয়ে গেল তার রাজউক কলেজে। গ্রামের এক রত্নই ছিল বটে ফারজাদ। তখন আসলাম সাহেব ও আফছানা বেগম ঢাকাতে থাকতেন। তাদের কাছে থেকেই পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকল ফাদজাদ।
একাদশ শ্রেনিতে হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার কয়েকদিন বাকি ফারজাদের। ক্লাসের শেষে ক্যাম্পাস থেকে বের না হয়ে মাঠের এককোণে কয়েকটা বন্ধুসহ বসে আছে সে। তখনই হঠাৎ তাদের সামনে একটা মেয়ে এসে দাঁড়াল। মাথাটা ঝুঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফারজাদ দেখল একবার তাকিয়ে। মেয়েটা মিনমিনে স্বরে ডেকে ওঠে, “ভাইয়া! গতকাল যে সাজেশন দিয়েছে ক্লাসে, আমি এসেছিলাম না জন্য পাইনি। ওগুলো দিতে পারবেন?ʼʼ
ফারজাদ প্রথমত অবাক হলো, সে কোনো মেয়ের কাছে সাজেশন না চেয়ে ওর কাছে কেন এসেছে? সে-সব বাদ দিয়ে দুষ্টু হেসে ভ্রু উঁচিয়ে বলল, “ভাইয়া!ʼʼ
মেয়েটা তখনও সংকুচিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে হাতের আঙুল খুঁটছে। ফারজাদ মৃদুহাস্য নজরে একবার আপাদমস্তক দেখে নিলো মেয়েটার— বিণুণী গাঁথা চুলটা কাধ ঘুরিয়ে সামনে এনে রাখা, চোখ ও কপালের ওপরে কিছু এলোমেলো চুল পড়ে আছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। দ্বিধা—আড়ষ্টতায় আধমরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি মাথা নিঁচু করে। ফারজাদের হাসি চওড়া হলো একটু। চট করে উঠে দাঁড়াল মেয়েটির সামনে। তালগাছের মতো লম্বা ফারজাদের তুলনায় মেয়েটাকে নেহাত ছোটো দেখতে লাগে। ফারজাদ ঘাঁড় নেড়ে বলে, “তোমার হাইট অনুযায়ী অবশ্য আমায় ভাইয়া ডাকা ঠিকই আছে।ʼʼ
পাশ থেকে বন্ধুরা সব হেসে উঠল সমস্বরে। ফারজাদ ওদের দিকে তাকিয়ে শার্টের ওপর পড়ে থাকা টাই-টা টেনেটুনে আরেকটু ঢিলা করে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল, “কীসের সাজেশন লাগবে?ʼʼ
“কাল দিয়েছে যেগুলো।ʼʼ
ফারজাদ কেমন করে যেন চেয়ে আছে মেয়েটার মুখের দিকে। সংকোচে বুদ হয়ে আসা ওই মুখে কিছু খুঁজছে বোধহয়! ভ্রুটা সামান্য কুঁচকে বলল, “দিয়েছে তো অনেকগুলোই। অত নেবে কীভাবে?ʼʼ
বলেই ফারজাদ আবার অলস ভঙ্গিতে বসে পড়ল। তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে। মেয়েটা চোখ তুলে তাকায় এবার। ঘন পাপড়ি চোখের, দেখতে আফগানিস্তানিদের মতো লাগছে হুবহু। ফারজাদ কপাল জড়িয়ে চেয়ে রইল সেদিকে। মেয়েটা একটু ইতস্তত করে বলল, “এখন তো অত লিখে নেওয়া সম্ভব না। আপনার নাম্বারটা দেবেন, বাড়ি গিয়ে আম্মুর ফোন থেকে ছবি নিয়ে নেব!ʼʼ
ওরা সকলে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। ফারজাদ কেবল একদৃষ্টে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে। আবার একবার চোখ ঘুরিয়ে মেয়েটিকে পরখ করে দেখল। জিজ্ঞেস করল, “এখানকার স্থানীয়?ʼʼ
মেয়েটা মাথা নেড়ে 'না' বোঝায়। ফরজাদ আশেপাশে চোখ ঘুরায়। অনেককেই দেখা যাচ্ছে—কেউ দাড়িয়ে, তো কেউ বস আছে, কেউ হেঁটে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফারজাদ সন্দিগ্ধ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “মেয়েদের কাছ থেকেও তো নিতে পারতে। আমার কাছেই কেন?ʼʼ
“কাউকে চিনি না আমি, তেমন পরিচয় নেই। আর ওদের দেখেও ভালো মনে হচ্ছে না... মানে..ʼʼ
ফারজাদ কথা কেড়ে নেয়, “তো আমায় দেখে ভালো মনে হচ্ছে?ʼʼ
মেয়েটাকে একটু অপ্রস্তুত দেখায়। ফারজাদ খুব মজা পাচ্ছে কেন জানি মেয়েটার এই অস্বচ্ছন্দ, জড়তা ভঙ্গিতে।
ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল, “নাম কী?ʼʼ
মেয়েটা আস্তে করে বলল, “ইভা! আর আপনার নাম?ʼʼ
ফারজাদ চোখ বাঁকা করে দু পাশে ঘাঁড় ঘুরিয়ে তাকাল, বন্ধুদের উদ্দেশ্যে দাঁত চেপে বলল, “ভাই, মেয়েটাকে বোঝা—আমি ওর সেইম ইয়ার ব্যাচ। ভাইয়া, আপনি, আল্লাহর রহমতে কখন না জানি চাচা ডাকবে।ʼʼ
সকলে মুখ চেপে হেসে উঠল। ফারজাদ সবকিছুকে এড়িয়ে ইভার দিকে তাকিয়ে কেবল বলল, “আগামীকাল এখানেই এসো, আজ আনিনি সাজেশনগুলো। কাল নিয়ে আসব, লিখে নিও।ʼʼ
ইভা একটু থমকাল—আজব ছেলে!
চলবে..
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *