Buy Now

Search

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-১৫]

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-১৫]

মাসখানেক কেটে গেছে। দ্বিজার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষের দিকে। ব্যবহারিক বাকি আছে। পরীক্ষার আগে ব্যবহারিক খাতাগুলো লেখা সম্পূর্ণ হয়নি। মনের অবস্থা ভালো ছিল না, এখন করতে হচ্ছে রাত-দিন জেগে। মাঝরাতের দিকে একদমই মনোযোগ হারিয়ে ফেলল মেয়েটা আঁকাআঁকি থেকে। ফোনটা বের করে গ্যালারিতে ঢুকে ফারজাদের একটা ছবির দিকে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল। এই মাসখানেকের মাঝে আর কথা হয়নি লোকটার সাথে। তাদের এক আজব সম্পর্ক, দুই পক্ষের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম আর অদ্ভুত মনোভাবের মাঝ দিয়ে রহস্যজনক ভাবে নকেটে যাচ্ছে মাঝের দিনগুলো। মনের জড়তাকে পাশ কাটিয়ে একবার কল করেই বসল দ্বিজা ফারজাদের নম্বরে। লোকটা কেমন আছে, নিশ্চয়ই খুব পরিশ্রম করছে ট্রেনিংয়ে। ট্রেনিং শেষ হয়েছে কিনা, তাও তো জানা হয়নি। কল রিসিভ হলো না। দ্বিজা একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ফোনটা ছুঁড়ে মারল বিছানার ওপর। কিছুই ভালো লাগছে না আর।
রাত একটার মতো বাজে। শান্তিনগর মেইন রোডের একপাশ দিয়ে হাঁটছে ফারজাদ। পরনের ছাইরঙা ডেনিম জ্যাকেটের পকেটে হাত গোঁজা। মাঘের শেষের দিকটা, আজ দু'দিন ঢাকাতে ঠাণ্ডার প্রকোপ খানিক কম, অবশ্য যে-কোনো সময় বেড়ে যেতে পারে। ফোন বেজে শেষ হবার মুহুর্তে বিরক্ত হাতে একবার ফোনটা বের করে দেখল দ্বিজার কল। ততক্ষণে কল কেটে যায়, ফারজাদ ফোনটা আবার রেখে দিল পকেটে।
হাঁটতে হাঁটতে বেঙ্গল টাওয়ার পেরিয়ে স্কয়ার পার্কের সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রায় ফাঁকা শহর, অন্য শহর হলে এতক্ষণে জনশূন্য হয়ে যেত, ঢাকা বলে এখনও জাগ্রত লাগছে শহরটাকে। ফারজাদ আরও খানিক এগিয়ে যায়, হাঁটতে হাঁটতে সিগারেট ধরায় একটা। আর একটু এগিয়ে গেলেই বড়ো ভিআইপি রোড সামনে। সামনে রাস্তার পাশে একটা লোক বসে আছে। ফারজাদ এগিয়ে গিয়ে বসে লোকটার পাশে। লোকটা হাতের ব্যাগটা কাধে তুলে নিয়ে এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। ফারজাদ আরাম করে ফুটপাথের ওপর বসে শান্ত চোখে তাকায় লোকটার দিকে। ঠিক লোক নয়, ছেলে। চোখ দ্বারা ইশারা করল, পাশে বসতে। ছেলেটা বসতে চায় না, ফারজাদ হাত ধরে টেনে বসায়। ছেলেটার চোখে-মুখে ভয় নেই, তবে বিরক্ত হচ্ছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। ফারজাদ জিজ্ঞেস করল,
“ঝোলাতে কী? দামী সম্পদ মনে হচ্ছে!ʼʼ
“তুমার জানার কী কাম?ʼʼ
ফারজাদ বলল, “কাম থাকলে এভাবে এসে তোমার পাশে বসে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতাম না, কাম নেই কোনো। নাম কী তোমার?ʼʼ
ছেলেটা এবার আড়চোখে তাকায় ফারজাদের দিকে, “আলামিন।ʼʼ
ফারজাদ বেশ আন্তরিক ভঙ্গিতে ছেলেটার কাধে হাত রাখে। এতে ভরকাল আলামিন, তার গায়ে জীর্ণ ময়লা পোশাক, তাতেও ফারজাদ একদম জড়িয়ে বসেছে ওকে। কাঁধে হাত রেখে বেশ ফুরফুরে কণ্ঠে বলল, “আল-আমিন শব্দের অর্থ জানো?ʼʼ
ছেলেটা বোকার মতো তাকিয়ে আছে। যেন সে বোঝার চেষ্টা করছে ফারজাদের গতিবিধি। ফারজাদ বলল, “ অর্থ হলো, সত্যবাদী, বিশ্বাসী। এবার নাম অনুযায়ী কাম করো। ঝোলাতে কী?ʼʼ
“যাও তো মিয়া, আর নয়ত আমারে যাইতে দেও।ʼʼ
আলামিনকে একটু ভড়কে দিয়ে চট করে ফারজাদ হেসে ফেলল,“তুমি মেয়ে হলে না-হয় ধরে রাখার চান্স নিতাম, আফটার অল ব্যাচেলর মানুষ। তবে তোমার কাজের ঠিকানা তো এখানেই। সারারাত তুমিও বসে থাকবেনা, আর আমিও না। প্রশ্নের উত্তর দাও।ʼʼ
“কিডা তুমি? তুমারে ক্যান জবাব দিতাম?ʼʼ
ফারজাদ কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ তাকিয়ে থেকে হঠাৎ-ই বলল, “খরিদ্দারের অপেক্ষা করছ, নাকি মালিকের?ʼʼ
ছেলেটা চমকিত চোখে তাকায়, এক পলকে তার অভিব্যক্তি বদলে চোখেমুখে ভয় জড়ো হয়েছে। ওর আতঙ্কিত দৃষ্টিতে চোখ রেখে দুর্বোধ্য হাসে ফাদজাদ। ছেলেটা এবার ছটফট করছে, ফারজাদের হাত কোনোমতো কাঁধ থেকে সরিয়ে কখন জানি দৌঁড় লাগায়। ফারজাদ বলল, “কেমন মাল দেখি? কোকেইন?ʼʼ
ছেলেটা চরম ঘাবরেছে এবার। একটু এলোমেলো স্বরে বলল, “আমার কাপুড়-চুপুড় আনছি এই ঝুলায়। আর কিস্সু নাই। ছাড়ো তো আমারে!ʼʼ
“হু, তার তো অবশ্যই। তবে তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি পুলিশ-টুলিশ না। সবে ট্রেনিং চলছে, শেষের দিকে অবশ্য। দেখি বের করো, একটু টেস্ট করি।ʼʼ
ছেলেটা শুকনো এক ঢোক গিলল। পুলিশের লোক ফারজাদ, ট্রেনিং শেষের দিকে, অথচ বলছে পুলিশ না! কাঁপা হাতে বের করে ধরল খাতার পৃষ্ঠায় মুড়ানো সাদা আটার মতো পাউডার। ফারজাদ বলল, “এমনভাবে ভয় পাচ্ছ কেন? খুব বেশি ক্ষতিকারক না মালটা, এতটুকুতে বড়োজোর টুকটাক জরিমানা করবে। আমার যখন নিজের এই নষ্ট জীবনের প্রতি বেশি ক্ষোভ জমে, আমিও তৎক্ষণাৎ সুখের জন্য মাঝেমধ্যেই দু-এক চালান শুঁকে নিই। এখন খুব দরকার, তোমার উপকারের প্রতিদান পাওনা রইল।ʼʼ
উল্টোপাল্টা কথাবার্তা ফারজাদের–বলেই মনে হলো আলামিনের। ফারজাদ মুড়ানো কাগজটা খুলে দু আঙুলের চিমটির মাঝে সামান্য পাউডার তুলে হাতের তালুতে রেখে তা নাক দিয়ে কয়েকবার নিঃশ্বাসের সঙ্গে তুলে নেয়। আঙুলের অগ্রভাগ জিহ্বায় চেটে বলল, “খাঁটি মাল, কোথা থেকে আমদানী হচ্ছে রে?ʼʼ
আলামিন এবার ফারজাদের কাণ্ডে বোধহয় আশ্বস্ত হলো। বলল, “বসের থেইকা শুনছি, যদ্দূর সম্ভব আমেরিকা থেইকা।ʼʼ
ফারজাদের হাতের সিগারেট পুড়ে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। সেটায় টোকা দিয়ে ছাই জমে থাকা ছাই ফেলল, এরপর পুরো সিগারেটটাই কী মনে যেন ফেলে দিলো। ঘাঁড় নাড়ল, “হুউউউউ! এখানে বসে আছ কেন?ʼʼ
“একজন নিতে আইব এইডা। তুমি তো একটু নিলা, দাম জানো মিয়া?ʼʼ
ছেলেটার কথার ভাব বদলেছে, তাহলে সে বিশ্বাস করেছে ফারজাদ যাই হোক, ওদেরই দলের এক মাতাল। ফারজাদ পকেট থেকে চট করে একটা পাঁচশো নোট বের করে দিয়ে বলল, “অল্প একটুই নিয়েছি, চলবে?ʼʼ
আলামিন পাঁচশো টাকা দেখে খুব একটা সন্তষ্ট হয়নি, তা মুখ দেখে বোঝা গেল। না হওয়ারই কথা, কেজি প্রতি কোটি টাকার মাল বলে কথা। ফারজাদ জিজ্ঞেস করল, “কোথায় থাকো?ʼʼ
“মোহাম্মদপুর বস্তিত।ʼʼ
“কে কে আছে পরিবারে?ʼʼ
ছেলেটা বিরক্ত হয়ে তাকাল, বখাটেদের মতো ভাব নিয়ে বলল, “আবার জিগায়! মা আছে, তিনডা ছোডো বোইন আছে।ʼʼ
“বাপ নেই?ʼʼ
“হ আছে। এহন মনেহয় কুনো মা*গী*র কাছে যাইয়া পইড়া আছে।ʼʼ
ফারজাদ জিজ্ঞেস করল, “তোমার আম্মা অসুস্থ নাকি?সংসার কী তোমার উপার্জনেই চলে?ʼʼ
“হ, মার কী জানি হইছে, সারা গা'য় ঘাও হইছে, মাং স পঁইচে গেছে।ʼʼ
“একটা ডিল করি চলো।ʼʼ
“কী করতাম?ʼʼ
“চুক্তি।ʼʼ
“চুক্তি?ʼʼ
“হুম, চুক্তি। আমি তোমার একটা উপকার করব, তার বদলে তুমি আমার একটা কাজ করবে।ʼʼ
“কী কাম?ʼʼ
“তোমার বস কে? তার খোঁজ দেবে আমায়, এর বদলে তোমায় আমি ভালো একটা কাজ পাইয়ে দেব, ভালো বেতন পাবে। রাত ধরে মশার সাথে বসে গান গাইতে হবে না।ʼʼ
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল ফারজাদের দিকে, হুট করে পেছন থেকে অপর হাতটা বের করল। হাতে তার পকেট ছুরি, তা দিয়ে আঘাত করল ফারজাদের হাতে, ফারজাদের বামহাত ছুটে যায় আলামিনের কাঁধ থেকে। আলামিন উঠে ঝড়ের গতিতে দৌঁড়াবে, তার উঠে দাঁড়ানোর গতি তা-ই বলে। ফারজাদ খপ করে হাতটা ধরে বসিয়ে দেয় জোর করে, অপর হাতে বন্দুকের নল ঠেকায় আলামিনের কোমড়ের একটু ওপরে। রাস্তা দিয়ে হঠাৎ হঠাৎ-ই সাঁ করে গাড়ি চলে যাচ্ছে ওদের পেরিয়ে। ফারজাদের বাম হাত থেকে র ক্ত ঝরছে। ওই হাত দিয়েই আলামিনের কলার চেপে, বন্দুকের নলটা আরেকটু চেপে ধরে বলল,
“অবশ্য আমাকে অফিশিয়ালি এখনও ওয়েপন দেয়া হয়নি, এটা চোরাই বন্দুক। তবে ম্যাগাজিনে লোড হওয়া বুলেট কিন্তু একদম পিওর বারুদের। অফারটা ভালো দিয়েছি তোমায়, অভাবীদের প্রতি আমি সর্বদা সদয়, তবে সেই অভাবকে পুঁজি করে ক্রাইম করা.. চ্যাহ! ইটস ভেরী ব্যাড।ʼʼ
আলামিন বলল, “তুমি কীসের কাম দিবা? আমি এই কামেই ভালো আছি। আমার দরকার নাই অন্য কামের, ভালো কথা কইতাছি আমারে ছাড়ো, তুমি জানো না আমার বসের হাত কত বড়ো।ʼʼ
ফারজাদ হতাশ শ্বাস ফেলল, “আইনের চেয়ে বড়ো না। শোনো নি— আইনের হাত বহুত লম্বা হয়? আর আমিই বা কোথায় সারাজীবন এমন ইমানদারীর সাথে কাজ করব? এই ধরো ঠিকঠাক কয়েকটা পদে প্রমোশন হয়ে গেলে এরপর শুরু করব পকেট গরম করা। আজ তোমায় ধরতাম না, ওই যে ওই মালটুকুর লোভ, আর চাকরির আগেই যদি একটা স্মাগলার ধরে দেই, একলাফে কোন উচু পদে পড়ে মাজা ভাঙবে, বলা তো যায় না। বলতে পারো স্বার্থের জন্যেই আজ তোমার ওপর এই দয়াটুকু করছি?ʼʼ
এটা দয়া? আলামিন ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে, চোখে স্পষ্ট আতঙ্ক সাথে কৌতূহল। এখন অবধি ফারজাদের আচরণে কিছুই স্বাভাবিক লাগেনি তার ফারজাদের মাঝে, এখন আরও গোলমেলে লাগছে কথাবার্তা। এখন পর্যন্ত ওর সাথে কোথা থেকে কী ঘটে গেল, পুরোটা মিলছে না যেন। ফারজাদ শান্ত স্বরে বলল, “আমি যেখানে নিয়ে যাব, চুপচাপ যাবে। তুমি কোনোরকম তামাশা বা চালাকি করার পরিকল্পনা করবে, আমি বিনা পরিকল্পনায় তোমার মাথার করোটিটা উড়িয়ে দেব। জোয়ান এসবি অফিসার তো, মাথার টেমপার হাই।ʼʼ

পরদিন সন্ধ্যায় দ্বিজার ডাক পড়ল আব্বুর ঘরে। দ্বিজার খুব একটা ভালো ঠেকছে না ব্যাপারটা। গিয়ে বসল আস্তে করে একটা চেয়ারে। হাবিব সাহেব আধশোয়া হয়ে বসে আছেন বিছানায় হেলান দিয়ে। ছোটোবেলা থেকে আব্বুকে কাছে না পাওয়ায় দ্বিজার খুব একটা আন্তরিক সম্পর্ক নয় আব্বুর সঙ্গে, সেই সাথে হাবিব সাহেব খুব মেজাজি মানুষ। দ্বিজা আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, “কিছু বলবেন, আব্বু?ʼʼ
হাবিব সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন, “নিয়মিত ছাদে যাও নাকি?ʼʼ
দ্বিজার মুখটা শুকিয়ে যায় এবার। সে জানে কোন প্রসঙ্গের শিরোনাম দিচ্ছে হাবিব সাহেব। আজও শুকনো কাপড় ওঠাতে গিয়ে দেখেছ ওয়াহিদ দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার একপাশে বাইক নিয়ে। দেখতে আসলেই খুব দৃষ্টিকটু লাগে ব্যাপারটা, গ্রামের লোকের মুখে না জানি কবে এমন বাজে কথা শুনতে হয়। দ্বিজা জবাব দিলো না। এবার আরও খানিক কড়া শুনতে লাগল হাবিব সাহেবের গলাটা, “ছেলেটা কে? কতদিন ধরে দাড়ায়ে থাকে এসে এরকম?ʼʼ
দিলরুবা বেগম নিরস মুখে ঘরে ঢুকলেন। দ্বিজার বুক কাঁপছে। একটা আতঙ্কিত ঢোক গিলে বলল, “আব্বু! আমি এসবের কিছুই জানি না।ʼʼ
কথা কেড়ে নিলেন হাবিব সাহেব, “ও তাই নাকি?ʼʼ
দ্বিজার অসস্তি লাগছে এবার। সে দ্রুত বলে উঠল, “লাবন্য আপুর চাচাতো দেবর।ʼʼ
“দুই বোন এক বাড়িতে যাবার পরিকল্পনা করছো নাকি? ভালোই মানুষ করছে তোমার মা তোমারে। তা নানির বাড়ি যাবা নাকি, পরীক্ষা তো শেষের দিক, চলো রেখে আসি।ʼʼ
স্পষ্ট ভৎসনা হাবিব সাহেবের কণ্ঠে। অবশ্য এ আজ নতুন নয়—সে কোনদিনই দিলরুবার মায়ের বাড়ির সঙ্গে এত খাতির পছন্দ করেন না। তার ধারণা–এতে ছেলে মেয়ের জীবন নষ্ট হয়েছে, খুব ছাড় পেয়ে অসভ্য আর বাউন্ডুলে হয়ে গিয়েছে দ্বিজা ও দিহান। দিলরুবা বেগম চুপচাপ কাপড় ভাজ করছেন। এ সময় কিছু বলা মানে, খিস্তি শোনা। দ্বিজা আর বলার মতো কথা পেল না এ মুহুর্তে। সত্যিটা না শুনেই যখন মন্তব্য করে বসে সামনের মানুষটা, সাফাই গাওয়ার পরিস্থিতি থাকে না তখন আর। আর আব্বুর সামনে তো মোটেই নেই তার। হাবিব সাহেব আবার বললেন,
“পড়ালেখায় নাকি খুব মনোযোগী শুনছি, তোমার মা বলছে। আসার পর থেকে তেমন কিছুই পাই নাই, সবসময় আনমনাই দেখছি তোমারে। এই যে দেড়মাস হইলো আসছি, একবার আসছো আমার কাছে দুই দণ্ড কথা বলার জন্য? ঘর থেকেই বার হওনা। কথাও বলো না ঠিকমতো, বয়স খারাপ যাইতেছে তোমার, মেয়ে! এ জন্যই বাপের শাসন ছাড়া সন্তান ভালোভাবে গড়ে ওঠে না। কিন্তু আমি কয়দিক যাব? কামাই রোজগার করে খাওয়ানোর দায়িত্ব তো আছে বাপ হিসেবে নাকি? শোনো মেয়ে, সব সইতে পারি, খালি সম্মানের হানি সওয়ার জায়গা নাই আমার ভিতরে, মনে রাইখো।ʼʼ
দ্বিজার চোখটা ভিজে উঠতে চাইছে, মেয়েটা খুব কষ্টে সামলে নিলো তা। সে অনেক চেষ্টা করেছে আব্বুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে, অথচ সংকোচ কাটে না। ছোটোবেলা থেকে টুকটাক ফোনেই যা কথা, তাই চাইলেও আর পাঁচটা বাপ-মেয়ের মতো মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। তবে সে যে আব্বুকে ভালোবাসে না, তা মোটেই নয়। আজ আব্বুর আক্ষেপ শুনে খারাপ লাগছে। তবে আজ তো আব্বু ওর কোনো কথাই শুনল না, শুধু চোখের দেখার ওপর ভিত্তি করে কত কথা শুনিয়ে দিলো। অবশ্য তার সব কথা মিথ্যে নয় মোটেই। দ্বিজা আনমনা থাকে, পড়ালেখার মনোযোগ হারিয়েছে, তবে ওয়াহিদের ব্যাপারটা শুধুই ভুল বোঝাবুঝি। সঙ্গে তার আজ অবধি কথাই হয়নি। রাগ হলো খুব। নিজের ওপর রাগ হলো–এতদিনে ব্যাপারটাকে এত সহজ ভাবে না নিয়ে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার ছিল আসলেই। তবে এবার আর সে চুপ থাকবে না। এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছে ছেলেটা। যদি ব্যাপারটা আব্বুর চোখে পড়ে যায় এভাবে, তাহলে পাড়ায় কথা রটে নি?
চলবে..

Olindo Rahman

Olindo Rahman

A good book is worth a hundred good friends. 
But a good friend is equal to a library.!! 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy