Buy Now

Search

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-১৭]

তপ্ত সরোবরে [পর্ব-১৭]

সকাল এগারোটার পরপরই গোসল করে এলো দ্বিজা। মেয়েটার ভারী মুখের দিকে চেয়ে লাবন্যর মনটা বিষণ্ন হয়ে ওঠে। সবকিছু বদলাচ্ছে–সে গম্ভীর থেকে হাস্যজ্জ্বল হয়ে উঠছে, অপরদিকে সারাদিন নেচে-কুদে বেড়ানো মেয়েটা কেমন ঝিমিয়ে গেছে। দ্বিজা গোসল করে এসে নিঃশব্দে এসে বসল বিছানায়। লাবন্য দেখল মাথায় প্যাচানো গামছাটা খোলেনি এখনও। লাবন্য এগিয়ে গিয়ে সযত্নে মাথা থেকে গামছাটা খুলে দিলো। ভেজা চুলগুলো নাড়তে নাড়তে বলল, “দ্বিজা! এত নিরাশ হতে নেই রে বোন। আল্লাহ যা করবেন, তোর খারাপ হবে না।ʼʼ
দ্বিজা এড়িয়ে যেতে চাইল যেন কথাটা, “বাদ দে তো লাবন্য আপু এসব। ইরফান ভাইয়া কখন আসবে?ʼʼ
লাবন্য গামছাটা খাটের বক্সের ওপর মেলে দিতে দিতে বলল, “ওদের সাথেই আসবে হয়ত। ওয়াহিদ তো তোর ভাইয়ের লেজ। সাথে সাথে বেঁধে থাকে সবসময়।ʼʼ
দুপুরের পর বিকেল তিনটার দিকে এলো মেহমান। দ্বিজাকে শাড়ি পরানো হয়েছে একটা মেজেন্টা ও সোনালী রঙের সংমিশ্রনে সজ্জিত। হালকা সাজ, টুকটাক গহনা–দ্বিজার বাচ্চা বাচ্চা মুখটায় বেশ মানিয়েছে। তবে বড়োই বেমানান লাগল আজ তার মুখের বিবর্ণ ভাবটা। সেখানে কোনো উচ্ছ্বাস নেই, খুশির মাধুরী নেই। এমনিতে মেয়েরা পাত্রপক্ষের সামনে লাফালাফি করে না। তবে দ্বিজার চেহারায় অস্বাভাবিক রকমের প্রাণের অভাব যেন। ওয়াহিদ বারবার তাকাচ্ছে দ্বিজার দিকে। এই মেয়েটাকে প্রথম বার দর্শনেই একটা আকর্ষন জেগেছিল তার। দ্বিজার নজর উদাসীন অলক্ষ্যে। হাবিব সাহেবের একতলা পাকা বাড়ি, জমা অর্থও আছে যথেষ্ট, জমিজমা মিলে মধ্যবিত্ত হিসেবে ভালো অবস্থা ওনার। মেয়ে পছন্দসই, ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছে। সবদিকেই মিলে গেল। ওয়াহিদের যেহেতু বাবা নেই, তাই বড়ো চাচা অর্থাৎ ইরফানের বাবা অভিভাবক হয়ে চূড়ান্ত একটা পাকা কথার ব্যাপারে কথা তুললেন। হাবিব সাহেবও আপত্তি করছেন না আর। তার ধারণা–দ্বিজাকে আর রাখা উচিত হবে না। পরিস্থিতি ভালো চলছে না। সম্মানহানীকারক কিছু ঘটে যাবার আগে সম্মানের সাথে তিনি একটা কূল করতে চান মেয়ের। ও-বাড়ি থেকে লাবন্যই এসেছে, আর কাউকে বলেন নি বা বলার কথা বলেননি হাবিব সাহেব। দ্বিজা চুপচাপ বসে আছে। লাবন্য পেছনেই দাঁড়ানো, তার পাশেই বাহুতে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে ইরফান। এরই মাঝে কোনো পাকা কথা দেবার আগে ইরফানের বাবা মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করলেন দ্বিজাকে,
“আমরা যাই-ই বলি, একসাথে জীবন কাটাবে তোমরা।তোমার সম্মতি আছে তো মা এই বিয়েতে?ʼʼ
পুরো পরিস্থিতিটাকে শিহরিত করে দ্বিজা কাষ্ঠল ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে দুপাশে, “না।ʼʼ
কয়েক মুহুর্ত গোটা পরিবেশটা একদম গুমোট হয়ে রইল। এরপর সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা বোধহয় খেল ওয়াহিদ। চাচার দিকে তাকাল একবার, ইরফানের বাবা ওকে ছাপিয়ে ইরফানের দিকে তাকাল। ইরফান সন্তর্পণে ইশারা করে উঠে যেতে। আজকের এই পরিস্থিতিতে ব্যাপারটা এখানেই মিটে যাক, পরে দেখা যাবে বাকিটা। এখন এখানে বসে থাকা মানে তামাশার বহর বাড়ানো।
ওয়াহিদ কিছু বলতে যেয়েও যেন বলতে পারল না। ইরফান নিজে থেকে গেল এবং পুরো পরিস্থিতিটা নিয়ন্ত্রণে এনে আপাত বিদায় জানালো সকলকে। সে বাড়ির লোককে বুঝিয়ে বাইরে ছেড়ে আসতে যাওয়ার ফাঁকে হাবিব সাহেব নিজের মেজাজে খেঁই হারালেন। কষে দুটো থাপ্পড় বসালেন দ্বিজার গায়ে। দ্বিজার দাদী আমিনা বেগম ছেলেকে টেনে নিয়ে গিয়ে ঠেকালেও তার মুখ বন্ধ করবার উপায় কী?
“যে সম্মান হারাব না বলে নিজহাতে যাচাই-বাছাই ছাড়া না দেখে-শুনে তোরে সম্মানের সাথে বিদায় করতে চাইলাম। তুই তাদের সামনেও দুই আনার দাম রাখলি না আমার? সেই তামাশা করেই ছাড়লি? এবার ক্যান আসছিলাম দেশে আমি? কার জন্য আসছিলাম? সম্মানের দাফন করার জন্য ফিরছি এবার দেশে। এ কথা আগে জানা থাকলে আজীবনেও তোদের সামনে এসে দাঁড়াতাম না। বিয়ে করবা না? ক্যান? ক্যান করবা না বিয়ে? বাড়ির সামনে ব্যাটাছেলে এসে দর্শন দিয়ে যায় প্রতিদিন, আর তোমারে আমি ঘরে বসায়ে রাইখা মান-ইজ্জতের কবর দিয়ে দেব? চাইছিলাম তো পড়ালেখা করাইতে। তুই সুযোগ দিস নাই। শালা মা-মেয়ে মিলে শান্তি দিবা না তোমরা আমারে?ʼʼ
দ্বিজা মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। হাবিব সাহেব এবার দিলরুবাকে বললেন, “দেখছ পরিণতি? তোমারে এতবার মানা করছি, আমার কথা তো মাথায় ক্যান কানেও তো ঢোকেনা। জিগাও ওরে ক্যান বিয়ে করবে না। তোমার ভাইয়ের ছেলের বিরহ লাগছে ওর? কও আজও কল কইরা কাঁদতে একটু, আইসা নিয়া যাক ওরে। রুবা! তুমি আর তোমার মেয়েরে আমার চোখের সামনে সহ্য হইতেছে না। তোমার মেয়ে যা শুরু করছে, আমি কী করব ভাবনার কূল পাচ্ছি না। বিয়ে করবে না ও? ও নিজের পছন্দের দাবীদার হইছে? ওর পছন্দের আমি...
আমিনা বেগমকে সরিয়ে আবার তেড়ে গেলেন দ্বিজার দিকে। তখনই ইরফান এসে মাঝখানে দাঁড়ায়। ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললেন, “আঙ্কের শান্ত হন আপনি। উত্তেজনায় কিছুই ভালো হয় না। আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন। এরপর যা হবে করবেন না হয়, যান এখন। সরুন। মেয়ে বড়ো হয়েছে আপনার। তার মতামতের দাম দিতে বাধ্য আপনি।ʼʼ
দ্বিজাকে নিয়ে ইরফান দ্বিজার ঘরে এসে বসল। পেছনে এলো লাবন্য। দ্বিজার চোখে পানি নেই, তবে বুক ফেটে যাচ্ছে তা ওই কাতর মুখ দেখে স্পষ্ট উপলব্ধি করা যাচ্ছে। দ্বিজাকে বসতে ইশারা করল। দ্বিজা বসল একটা চেয়ারে। বিছানায় পা দুটো তুলে বসতে বসতে ইরফান বলল, “তো শালিসাহেবা! আপনি বিয়ে করতে চান না তাই তো? এই-যে এখানেই আপনার আমার ব্যাপক মিল। আমিও জীবনে বিয়ে-শাদি বিদ্বেষী ছিলাম, অথচ শেষ অবধি বলির পাঠা হতেই হলো।ʼʼ
ইরফানের রসিকতা মিশ্রিত কথায় দ্বিজার কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া হলো না। শাড়ির আঁচলে আঙুল পেচাচ্ছে সে আনমনে। ইরফান কিছুক্ষণ চেয়ে রইল দ্বিজার দিকে। এবার একটু আন্তরিক স্বরে মাথা নেড়ে বলল, “ফারজাদ বাবুর প্রেমে পড়েছ! সে তো আমার লাবুও পড়েছিল। কিন্তু দেখো, তার মনোভাবের সাথে সাথে সে নিজেও বদলেছে। সে-সব পেছনে ফেলে সর্বোপরি আমাকে ভালোও বাসতে শুরু করেছে, তা আমি জানি।ʼʼ
লাবন্য এ পর্যায়ে অতি বিষ্মিত হওয়ার সাথে সাথে ভীষন অপ্রস্তুত বোধ করল, তবে কিছু বলল না, মাথাটা নত করে নিলো। অসভ্য লোকটাকে এ নিয়ে খিস্তি শোনানো যাবে। সে বলেছে নাকি সে ভালোবাসে লোকটাকে? কেবল তো সব ভুলতে শুরু করেছে! ইরফান সেদিকে খেয়াল করল না ইচ্ছে করেই। দ্বিজাকে বলল, “বুঝলে, দ্বিজা! আমাদের উচিত নিজেকে একবার হলেও সুযোগ দেয়া। আমাদের চাওয়াগুলোকে বিসর্জন দিয়ে ভবিষ্যতটাকে পরিস্থিতি ও ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়া। সব সময় যে নিরাশ হতে হবে, এমনটা নয়। মানুষ প্রেমে পড়ে, না পড়লেই বরং সেটা অস্বাভাবিক। তবে জীবন সেখানে থেমে থাকে না। সে ক্ষেত্রে আমাদেরও উচিত জীবনের গতির সাথে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলা।ʼʼ
এ পর্যায়ে চমৎকার হাসল ইরফান, “তোমার বোন জানত না আমি জানি তার প্রেমবিরহের ইতিহাস। আজ জানল। কারণ, আমি তাকে সেভাবে ট্রিটই করিনি কখনও। কেন করব, কোন যুক্তিতে করব? যেখানে অতীত বড়োই শক্তিশালি ধরা ছোঁয়ার বাইরে অবস্থিত কাল। যেটাকে বদলানো যায় না, সেখানে ফেরা যায়না, তার সাথে লড়া যায় না। তাহলে সেই অতীতকে বর্তমানের সাথে বেধে রেখে লাভটা কী বড়োজোর কষ্ট পাওয়া ছাড়া! অতীতকে ঘুটনি দিয়ে ঘাটলে অতীতের কী বিগড়াতে পারবে তুমি। অতীতকে বড়োজোড় স্মৃতিতে রাখা যায়, তাতেও মনের হাহাকার ছাড়া পাওয়ার মতো কোনো উপকার নেই। অতীত থেকেই বর্তমানে আসতে হয়। তো সেই অতীতকে করার মতো আছে কী? আবার বর্তমান সময়টা অতীত হলে তবেই আমরা ভবিষ্যতে পৌঁছাতে পারি। তোমার বোন অতীতকে পাশ কাটিয়ে বর্তমানকে মেনে নিয়েছিল, আজ আমার মনে হয় না খারাপ আছে সে।ʼʼ
দ্বিজা মাথা তুলে তাকাল এবার। ইরফান হা করে একটা শ্বাস নিয়ে আবার বলতে শুরু করল, “ওয়াহিদ ভালো ছেলে। খারাপ রাখবে না তোমায়। আমারই চাচার ছেলে তো! লাবন্যকে ভালো রাখতে পেরেছি কিনা তা বলতে পারব না, তবে খারাপ সে নেই বোধহয়। পরের মেয়েকে ঘরে তুলে খারাপ রাখার সাহস বুকে নেই, আমি এ ব্যাপারে খুব ভিতু।ʼʼ
লাবন্যর দিকে ঘুরে বলল, “এক গ্লাস পানিও তো এনে দিতে পারো। এতক্ষণ ধরে তোমার বোনকে বিনামূল্যে মূল্যবান মোটিভেশন দিচ্ছি। তোমাকে আর শেখাতে পারলাম না স্বামীর খেদমত কেমনে করে।ʼʼ
লাবন্য কী অভিব্যাক্তি দেখাবে এর পরিপেক্ষিতে, সেটা ভুলে গেল। মানুষটা কী? হুটহাট কতরকম রূপে দেখা যায় তাকে। পানি আনতে গেল সে। ইরফান আবার বলতে শুরু করল, “শোনো দ্বিজা! আমরা যাদের চাই, তাদের চেয়ে বরং আমাদের তাদের বেছে নেয়া উচিত যারা আমাদের চায়। ভালো থাকতে এক জীবনে একটু যত্ন, ভালোবাসা আর ভরসার একটা হাত-ই তো চাই! ফারজাদের কাছে তুমি কী পেয়েছ? আমি যতটুকু জানি, ফারজাদ নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে নিজের খোলসে। তাকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। খোলস থেকে তাকে বের করা দুঃসাধ্য অবশ্য। তার কাছে কী পেয়েছ তুমি? নিজেকে প্রশ্ন করো। আমি উত্তর জানতে অপেক্ষা করছি, জিজ্ঞেস করো নিজেকে।ʼʼ
দ্বিজা এবার গা কাঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে। ওর কান্নায় ইরফানের পুরুষ হৃদয়টা কেঁপে উঠল মুহুর্তের জন্য। বুকে একটা ভারী ধাক্কা অনুভূত হলো। মেয়েটার বুকের ওঠানামা জানান দিচ্ছে–তার কলিজা কতটা নিষ্ঠুরভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে ভেতরে। কাঁদতে না পেরে হা করে জোরে শ্বাস নেয় দ্বিজা। বুকের মাঝ বরাবর হাতটা চেপে ধরল শক্ত করে। যে বুকে অসহ্য যন্ত্রণা আর কাতরানি। হাত ঘষতে লাগল বুকের মাঝখানটায় এমনভাবে–নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বোধহয়। কী পেয়েছে সে? এড়িয়ে চলা, ধিক্কার, অবহেলা, নীরব প্রত্যাখান বারবার। কিছুক্ষণ পর একদম জড়ো বস্তুর ন্যায় থেমে যায় দ্বিজা। আবার ফুঁপিয়ে উঠল। এবার ইরফান সামলে নেয় নিজেকে। ব্যস্ত কণ্ঠে বলে ওঠে,
“এই মেয়ে এই থামো, থামো, থামো! শোনো, আমার বহুত শখ ছিল ছোটো বোনের, নেই। শালি তো যতবার বিয়ে করব ততবার পাওয়ার চান্স আছে। প্রথম বউয়ের বোন হিসেবে তুমি নাহয় বোন হও। আর আমার কান্না জিনিসটা চরম অপছন্দের। গায়ে চিটচিটে অনুভূত হয়, বুঝলে! আমি জীবনে কখনও আপসেট থাকি নি, কাঁদিনি, কারণ বিষয়টা পছন্দ না আমার বুঝলে! এবার চোখ মোছো। সিদ্ধান্ত তোমার, আমি কি জোর করেছি? ঠিক আছে করতে হবে না বিয়ে।ʼʼ
ইরফান কিছুক্ষণ চুপ রইল। হঠাৎ-ই যেন কিছু একটা মনে পড়েছে এমন ভঙ্গিতে বলল, “দ্বিজা! চ্যাহ! এ তো সিরিয়াস কেইস! নাহ, তোমার ব্যাপারটা মোটেই আমার লাবুর সাথে তুলনা করলে অঙ্ক মিলবে না মনে হচ্ছে। লাবু বোধহয় পছন্দ পেরিয়ে আর বেশিদূর যেতে পেরেছিল না, যে কারণে তাকে আমি এত সহজে হাসিল করে ফেলেছি, তবে তোমার চোখের ভাষা ভয়ানক বার্তা দিচ্ছে, মেয়ে!ʼʼ
এরপর আনমনেই আওড়াল, “লাবন্যর অনুভূতি ঠুনকো-ই ছিল বোধহয়! তোমারটা ঠিক বুঝে ওঠা যাচ্ছে না–তুমি কতটা গভীরে ডুবেছ!ʼʼ

রাত দশটার দিকে টুকটাক রাতের খাবার খেয়ে লাবন্যকে নিয়ে চলে গেল ইরফান। দ্বিজা খেতে আসেনি। দিলরুবা বেগম বিষন্ন মুখে খাবার নিয়ে হাজির হলেন মেয়ের ঘরে। দ্বিজা বিছানার এক কোণে হাঁটু থুতনিতে ছুঁয়ে জড়িয়ে বসে আছে। তিনি আস্তে করে গিয়ে বসলেন মেয়ের পাশে। কিছুক্ষণ নীরব থেকে ভাত মাখাতে মাখাতে জিজ্ঞেস করলেন হঠাৎ-ই নিষ্প্রভ গলায়, “ফারজাদের সাথে কোনো সম্পর্ক গড়বে না তোর, আব্বু। বড়ো হইছিস, নিজের ভালোমন্দ বুঝতে শেখ এখন। আমিও চাইতেছি না ফারজাদের সাথে আর কোনো যোগাযোগ থাক।ʼʼ
দ্বিজা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল–এরা কী ভাবে? তার আর ফারজাদের রহস্যজনক সম্পর্ক এদের মাথায় ঢুকবে না কোনোদিনও। ভুল ধারণাগুলোকে আর কতদূর গড়িয়ে নিয়ে যাবে এরা?

আজাদ সাহেবের বলায় আফসানা বেগম গোয়ালে দুটো কয়েল জ্বালিয়ে দিয়ে সবে এসে ড্রয়িং রুমে পৌঁছালেন। বাড়ির প্রবেশ দরজায় ধাক্কা পড়ছে মৃদু। তিনি আবছা অন্ধকারে ঘড়ির দিকে তাকালেন—রাত সাড়ে বারোটা বাজছে। এখন কে আসবে? কিছুক্ষণ দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগে এগিয়ে গেলেন দরজা খুলতে। ফারহানা বেগমের শরীর ভালো না। তিনি ঘরের দরজা আটকে আগেই শুয়ে পড়েছেন। আফছানা বেগম দরজা খুলতেই অর্ধভেজা কাকের মতো এলোমেলো বেশে ভেতরে ঢুকল ফারজাদ। হাতে বা কাধে ব্যাগ নেই। বাম হাতে মোবাইলে ফ্লাশ অন করা। বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে বিকেল থেকে। আফছানা বেগম দরজা আটকে তাকিয়ে রইলেন ফারজাদের দিকে। সে এমন হুটহাট মাঝরাতে বাড়ি ফেরে–এ নতুন নয়, তাই তিনি অবাক হলেন না। বরং জিজ্ঞেস করলেন, “হঠাৎ-ই ফিরলা যে, ভিজে গেছ তো, তোয়ালে আনি দাঁড়াও।ʼʼ
ফারজাদ মাথা নেড়ে মোবাইলটা টেবিলের ওপর রেখে হাতের ঘড়ি খুলতে শুরু করল।
চলবে..

Olindo Rahman

Olindo Rahman

A good book is worth a hundred good friends. 
But a good friend is equal to a library.!! 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy