হাবিব সাহেব বললেন, “বের হয়ে যা, দূর হ আমার সামনে থেকে। তোর মতো মেয়ের দরকার নেই কোনো বাপের। চলে যা এক্ষুনি নয়ত আবার হাত উঠে যাবে কিন্তু! যা বের হ..
ফারজাদ বোধহয় সম্বিত ফিরে পেল এতক্ষণে, “ও বেরিয়ে যাবে কেন? বেরিয়ে কোথায় যাবে? আপনি আমায় নাহয় বের করে দিতে পারেন, ওকে..ʼʼ
হাবিব সাহেব আবার ধাক্কা দিতে উদ্যত হলেন ফারজাদকে, “তোমার জন্যে আজ আমার বাড়ির এই অশান্তি। আমার মেয়ে তো বেয়াদব আছেই, সাথে তুমি নষ্টের মূল। আর যেকোনো কারোর সাথে আমি সম্বন্ধ করতে রাজি আছি, কিন্তু তোমারে মতোন হারামির বাড়ির সাথে না। তোমার বাপ-চাচায় কম কথা শোনাই নাই আমায়। তোমার ফুপুরে নিয়ে এসে নাকি না খাওয়ায়ে রাখছিলাম আমি। আমি জীবনে কোনো কাজ পাব না, আমি ভাতুরে। তুমি সেই ভাতুরের বাড়িতে দাঁড়ায়ে থাকবা না। বের হও, যাও বলতেছি। এই কথাই ক্যান উঠবে? তোমারে জরায়ে আমার মেয়ের নাম উঠবে না ক্যান? সহ্য করব আমি? ওরে আমি ভাতুরে বাপ র ক্ত ঘামায়ে কামাই করে মানুষ করছি। ওর উপর ওই বাড়ির লোকের সরষে দানার ওতখানি অধিকার সহ্য করব ভাবছ? আগে ওরে
খু ন করব, তারপর তোমারে... তুমি এখানে আসছ সাফাই গাইবার জন্যে..
হাবিব সাহেব ক্রোধে ফেটে পড়ে আবার এগিয়ে গেলেন ফারজাদের দিকে।
দ্বিজা অসহ্য, অতিষ্ট ভঙ্গিতে চিৎকার করে উঠল, “থামেন তো আপনারা! এত তামাশা আর নিতে পারতেছি না আমি। আব্বু আপনি থামেন প্লিজ।ʼʼ
দ্বিজা হঠাৎ-ই চুপ মেরে যায়। মাথাটা নামিয়ে ঠোঁটটা জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে নেয়, কিছু বলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। এরই মাঝে হাবিব সাহেবের যেন সইল না। উনি আবার বেসামাল হয়ে উঠলেন, “যাও তুমি আগে বের হও এইখান থেকে, ফারজাদ ভালো কথা বলতেছি চলে যাও, তোমারে কাউরে সহ্য হইতেছে না আমার..ʼʼ
“আব্বু আমি বিয়ে করে নেব।ʼʼ হুটহাট কথাটা বলতেই হাবিব সাহেব মনোযোগ ভ্রষ্ট হয়ে তাকালেন দ্বিজার দিকে। দ্বিজা এবার মাথা তুলে তাকাল, “আপনি যেখানে চাইবেন বিয়ে করে নেব আমি। শুধু আর কোনো পরিহাস বা ঠাট্টামূলক কিছু না ঘটুক এ ব্যাপার নিয়ে। আব্বু, এত কিছুর পরেও আর ফারজাদকে চাওয়ার প্রসঙ্গ কেন উঠছে এখনও, আব্বু! লাগবে না আর তাকে। বিয়ে করে নেব আমি। ওয়াহিদকে বিয়ে করে নেব। আর ফারজাদকে চাই না আমার, আপনি চাইলেও চাই না, ফারজাদ চাইলেও আর চাই না।ʼʼ
হাবিব সাহেব এবার কিছু বলতে গিয়েও নিজেকে সংবরণ করলেন। দ্বিজা আবার বলল, “আমি শুধু একটু সময় চাইছিলাম। এখন বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল না, ব্যাস। কিন্তু এখন খুব ইচ্ছে করছে। আপনি ব্যবস্থা শুরু করেন। কিন্তু ফারজাদেকে দোষ দেবার চেষ্টা করবেন না। ভুল আমি করেছি। ফারজাদ কোনো ভুল করে না। জানেন, ফারজাদ আমায় বলেছিল–আমার এই অনুভূতি সস্তা, ঠুনকো, ফালতু অনুভূতি। এই কথাটা বুঝতে পারলাম এতগুলো দিন এত সব নিচু ঘটনা ঘটার পর। ফারজাদ কখনও ভুল বলে না, আর না আপনি। দেখেন না, আজ এই অনুভূতি সস্তা বলেই তো এসব সস্তা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এটাকে কেন্দ্র করে। এই ফিলিংসটা ফালতু, আর ঠুনকো বলেই তো আমি আজ ফালতু মেয়ের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। ফিলিংসটা ঠুনকো ছিল বলেই আজ হুট করে ফারজাদকে ছেড়ে অন্য কারও সঙ্গে জীবন কাটানোর জন্য কত সহজে রাজী হয়ে গেলাম। আজ আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল–আপনি আর ফারজাদ কখনও ভুল বলেন না, ভুল করেন না, কখনোই না। ফারজাদ এই বাজে অনুভূতিতে পড়ে নি, কোনোভাবেই না, কোনোভাবেই না। হি ইজ পারফেক্ট, আব্বু, হি ইজ অনলি দ্য পারফেক্ট ম্যান। আর সেই তাকে আপনি কত কথা শোনাচ্ছেন। যেখানে এরকম হীন, লাঞ্ছিত, দামহীন ফিলিংসে মিছেমিছি ভেসে যাচ্ছি, আমি শুধু আমি।ʼʼ
দ্বিজার কথায় স্পষ্ট পরিহাস, ধিক্কার মিছিল করে বেড়াচ্ছে। তার কথা এবং কম্পমান কণ্ঠস্বরে প্রতিটা শব্দে শব্দে বিক্ষোভ, প্রতিটা ধ্বনিতে উপহাস খেলে বেড়াচ্ছে। আজ হুট করে ভুলভাল শব্দ উচ্চারণ করা, বোকা, আবেগী, ছোট্ট চঞ্চল দ্বিজাকে বিশাল ভারী জ্ঞানের পরিণত এক মেয়ে লাগছে। একেকটা কথায় ফুটে উঠছে বুকে চেপে রাখা তিক্ত অভিজ্ঞতার ছাপ। আপন মনেই ফারজাদের ঠোঁটের কোণে এক বিন্দু হাসি পরিস্ফুট হলো। মলিন, গুমোট হাসি। মেয়েটা ওকে ভুল প্রমাণ করতে ব্যস্ত, জানা-অজানায় অথবা আজকের এই প্রজ্জ্বলিত আচরণের ঝংকারে!
দ্বিজা আকাশের দিকে মুখ তুলে লম্বা এক দীর্ঘশ্বাস টেনে নিলো। অতঃপর একটা শক্ত ঢোক গিলে ভাবুক কণ্ঠে ধীর স্বরে বলল, “ফারজাদ কখনও এর আগে এভাবে অপমানিত হয় নি। অথচ আপনি তাকে অপমান করেছেন। এজন্যই হয়ত সে আমাকে এত ঘৃণা করে, আমার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করে সবসময়। আমি শুধু ভাবছি–একটা মেয়ে এতগুলো মানুষের অশান্তির কারণ হয় কেমনে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়ত কোনোদিন পেতাম না, যদি না আমি আমাকে দেখতাম।ʼʼ
গাঢ় এক শ্বাস ফেলল দ্বিজা, “আমার শুধরানো দরকার। আমার পাপমুক্তির জন্য তওবা করা দরকার। আব্বু আপনি তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করেন। সবার দুঃখের দিন শেষ করব আমি এবার। আব্বু আপনার ইচ্ছে মতোন আমি সব করব এবার।ʼʼ
—
রাত দশটা বেজে কয়েক মিনিট পেরিয়েছে। ফিরোজা এসে ইনভেস্টিগেশন করে গেছে–ফারজাদ কোথায় গিয়েছিল, হঠাৎ-ই বাড়ি কেন ফিরেছে, কী হয়েছে তার? সুবিধাজনক কোনো উত্তর না পেয়ে চলে গেছে সে ফারজাদের হাতে লাইটার ধরিয়ে দিয়ে। ছাদের একদম কিনারায় দাঁড়িয়ে ফারজাদ। খোলা মাঠের প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ঝিরঝিরে হাওয়া ফারজাদের হাতের সিগারেটের আগুনে হল্কা জাগাচ্ছে। তাতে একটা টান দিয়ে ফারজাদ হাসল এবার। নিজেকে উদ্দেশ্য করে ঠাট্টার হাসি হাসল। সে নাকি অপমানিত হয় নি কখনও! দ্বিজা বলেছে আজ, হুহহ! পাগলি মেয়েটা জানে না ফারজাদের হারানোর খাতার পৃষ্ঠা সংখ্যা কত বৃহৎ! এটাই ফারজাদের এই অদ্ভুত আচরনগত দিকের সাফল্য। কেউ কখনও ফারজাদকে ব্যর্থ ভেবে সহানুভূতি দেখাবার সুযোগ পায় না। বরং ফারজাদ নিজের আচরণ দ্বারা নিজেকে ডুবিয়ে ফেলেছে এক সমৃদ্ধির নিষ্ঠুর জগতে।
এমন একটা দিনই তো ফারজাদকে আজকের ফারজাদ হিসেবে তেরী করেছে। তা ওই বোকা মেয়েটা জানে না? উহু, জানে না! তবে সেই দিনের সঙ্গে আজকের একটা বৈশাদৃশ্য আছে, সেটা জানা দরকার এই মেয়ের। যেটা আজ ফারজাদের খুব বলতে ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে–পরিণতি। সেদিনের পরিণতির সঙ্গে আজকের পরিণতি মিলছে না। অথচ আজও একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তার নিজের বাপের সামনে, আজও ফারজাদের গালে থাপ্পড় পড়ার ছিল, আজও একবার ভুল প্রমাণিত হয়ে ঘোর অপমানে জর্জরিত হবার ছিল ফারজাদের। আচ্ছা! আজও যদি সেদিনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত, তাহলে ফারজাদ কেমন হয়ে যেত বাকি জীবনটা? একদম মৃত মানুষের মতো হয়ে যেত? হয়ত হত না, হয়ত হত, জানা নেই। তবে ঘটে নি তেমনটা।
ফারজাদ ডান হাতের তালুটা উঁচিয়ে ধরে চোখের সামনে আনল। অন্ধকারে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এই হাতের কব্জি চেপে ধরে সামনে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বাপের মুখের ওপর স্বীকার করেছে দ্বিজা–আমি ফারজাদকে ভালোবাসি, আব্বু!
ফারজাদ অবাক চোখে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল নিজের হাতের দিকে। অদ্ভুত কিছু চলছে ভেতরে। কোথাও কিছু ভেঙে যাচ্ছে, ধসে পড়ছে–হতে পারে একটা পাহাড়সম ভয়, হবে হয়ত দ্বিধার প্রাচীর অথবা আঘাত লাগছে অনুরাগের কড়াঘাতে বুকের মাঝটায়! নির্দিধায়, নির্ভয়ে কী করে পারল মেয়েটা ফুপার মতো টগবগে লোকের সামনে এমন একটা কথা উচ্চারন করতে? থাপ্পড় খেয়ে থামেনি, যেন ভেতরের চাপা জ্বলন আরও উগ্র হয়ে বেরিয়ে এসেছে বাইরে। এত সাহস ওই দ্বিজা কোথায় পেল, কীসের জোরে পেল? বুক কাঁপেনি, দ্বিধায় বাঁধেনি। ফারজাদ কি পারত না নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে? ওই পুঁচকি মেয়ে তাকে সংরক্ষণের দায়ে বাপের মোকাবেলায় কেন দাঁড়াবে? নাহ, একদম উচিত হয়নি। আজ মেয়েটা এমন একটা কাজ করেছে, এমন কিছু কথা বলেছে বলেই তো ফারজাদ ঘটা চলে ছাদে দাঁড়িয়ে মেয়েটার কথা ভাবতে শুরু করেছে। এটা কি ঠিক করেছে দ্বিজা?
ঘরের লাইট নিভিয়ে জানালার কাঁচ সরিয়ে সেদিকে মুখ করে শুয়ে আছে দ্বিজা। চোখটা নির্নিমেষ দেখছে ওই ঘোলাটে অন্ধকার চাঁদকে। এত গভীর মায়া আর মূগ্ধতা কবে জন্মেছিল দ্বিজার মাঝে ফারজাদের জন্য? সেই তো ক'মাস আগে কনকনে শীতের ভোরে ফারজাদের বাহু চেপে ধরেছিল দ্বিজা। ফারজাদ কী করল! সন্তপর্ণে দ্বিজার হাতটা ছাড়িয়ে দিয়ে চোখে-মুখে একটা অপ্রস্তুতকর ভাব ফুটিয়ে তুলল। আর, আর সেদিন? যেদিন অর্ধনগ্ন অবস্থায় একা ঘরে দ্বিজা ফারজাদের সামনে পড়ল? তাগড়া এক পুরুষের দৃষ্টি সংযোজন! সংযত নজর, সংযত অনুভূতি, আর সংযত আবেগ–একটা নারীর ওপর একটা পুরুষের এটাই কি দায়িত্ববোধ নয়? নারীর সম্ভ্রমে লোলুপ দৃষ্টিপাত থেকে নিজ দৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখা? যেখানে দ্বিজা রাস্তাঘাটে বহুত এমন পুরুষ দৃষ্টি দেখেছে–দ্বিজাকে অথবা অন্য নারীদেহকে চোখ দ্বারা চিবিয়ে খেতে।
দ্বিজার চোখ গড়িয়ে দু-ফোঁটা পানি বালিশে পড়ল। মুখে এক মুগ্ধতার হাসি ফুটে উঠতে উঠতেই আবার তা মিলিয়ে গিয়ে ধপ করে জ্বলে উঠল ত্যাগের আগুন। যে আগুন বিগত এক দিন ধরে তীব্র ঝলকানিতে জ্বলছে ভেতরে। শক্ত মুখে তাকিয়ে রইল আসমানের পানে। ফারজাদের থেকে মনোযোগ বিঘ্নিত করে আকাশ দেখায় মনোযোগী হবার চেষ্টা করল। বালিশের পাশে থাকা ফোনটা কেঁপে উঠল দ্বিজা কল কেটে যাবার আগ মুহূর্তে তা মহা অনাগ্রহের সাথে হাতে তুলে নিলো। স্ক্রিনে জ্বলছে–ফারজাদ নামটা। চোখটা চেপে বুজে নিয়ে একটা ঢোক গিলে শক্ত হাতে রেখে দিলো ফোনটা। বেজেই চলেছে ফোন। একাধারে বাজছে। কঠিন চিত্তে ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলল।
“দ্বিজা!ʼʼ
দ্বিজা জবাব দিলো না। ফারজাদ আবার ডাকল, “দ্বিজা?ʼʼ
“হু।ʼʼ
“তুই কি আসলেই বিয়ে করছিস? তোর ইচ্ছে না থাকলে...
“হু, আসলেই বিয়ে করছি এবং আমার ইচ্ছেতেই।ʼʼ
অবুঝের প্রশ্ন করল ফারজাদ, “তোর ইচ্ছেতেই?ʼʼ
“হু, আমার ইচ্ছেতেই।ʼʼ
“এক্সাইটমেন্টে মানুষ যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা মঙ্গলকর হয় না মানুষের জন্য। তুই এ ব্যাপারে আরেকটু সময় নিতে পারতি।ʼʼ
“এক্সাইটমেন্ট? কীসের এক্সাইটমেন্ট? আমি আর আমার পরিস্থিতি দুইটাই একদম শান্ত।ʼʼ
“তাই নাকি? আমায় জ্ঞান দিচ্ছিস?ʼʼ
“হু, দিচ্ছি। যেমন আপনি রাসায়নিক পদার্থের মতো অল্প সময়ের ব্যবধানে রঙ পরিবর্তন করছেন। এতদিন তো মনে হচ্ছিল আমার বিয়েতে আপনার নাচের ঠেলায় আমার বাপের বাড়ির উঠোন ভেঙে চেড়াবেড়া হয়ে যাবে। আজ আবার এত তাড়াতাড়ি বিয়ের কুফল জানিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন। আসলে আপনার সমস্যা কোথায়? মাথায় নাকি মানুষের ভালো থাকায়?ʼʼ
প্রথম কথাগুলো দ্বিজা ফারজাদকে ধিক্কার দিয়ে বললেও শেষের কথাগুলো ভীষণ বোকা বোকা লাগল, এবার তারা সিরিয়াস টপিক থেকে বেরিয়ে, নিজেদের লুকিয়ে বরং সাধারণ ঝগড়ায় নেমে পড়ার অবস্থায় চলে এলো।
ফারজাদ নিজের রাগ সংবরণ করে বলল, “ও আচ্ছা, তো তুই খুব ভালো আছিস? আর আমি খারাপ আছি, এজন্য তোর ভালো থাকা দেখে সমস্যা হচ্ছে? হাতের কাছে পেলে থাপড়ে মুখে ঝাঁজ কমিয়ে দিতাম। আমাকে তোর বাপের মতোন মনে হয় নাকি?ʼʼ
“আমার বাপ কী করেছে আপনার? আজকে ছেড়ে দিলে আপনার চোপড়া ভেঙে দিতো।ʼʼ
“দ্বিজা! আমার শরীর খুব কাঁপছে রে ভয়ে। কাঁপার চোটে ছাদ থেকে পড়ে মরে গেলে সাতদিন পর এসে খয়রাত খেয়ে যাস। তোর তোর বাপ চোপড়া ভাঙত না-হয়। ছাড়িস নি কেন? সামনে এসে দাঁড়িয়ে ঢঙ করার কী ছিল?ʼʼ
“ইচ্ছে। মানুষের জীবনে ইচ্ছে গুলোকে ঠুকরাতে নেই। আজ খুব ইচ্ছে করছিল ঢঙ করতে, করেলাম। ফোন রাখুন।ʼʼ
“ফোন রাখব না তো কি তোর মতো ঝগড়াটে আর বেয়াদবের সাথে সারারাত কথা বলব ভেবেছিস? তোর কপালে শনি আছে। একবার বিয়ে হোক তারপর বুঝবি।ʼʼ
“ওয়াহিদ তো আর আপনার মতোন খাঁটাশ না। বেশ সুখে থাকব আমি। আপনি দেইখেন তখন।ʼʼ
“অবশ্যই দেখব। তার আগে কথা তো বলতে শেখ। 'দেইখেনʼ না ওটা হবে শুদ্ধ ভাষায় 'দেখবেনʼ।ʼʼ
দ্বিজা বিরক্তিতে কলটা ঠাস কেটে দিলো। লোকটার মাথার তার কাটা সেই আগে পরের থেকেই। আজ আব্বুর কথা শুনে একদম প্যাচ লেগে গেছে।
কথার মোড় কোথা থেকে ঘুরতে ঘুরতে কোথায় পৌঁছাল, কী থেকে কী কথা হলো, আসলে যে কী হলো কারও বোধগম্য হচ্ছে না কল কাটার পর। আসলে কথা কী হলো? কোথা থেকে কোথায় পৌঁছাল তারা?
চলবে..
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *